রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

লোকশিল্পের সৌন্দর্যস্নাত সুকুমার পালের সরাচিত্র প্রদর্শনী

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৫
লোকশিল্পের সৌন্দর্যস্নাত সুকুমার পালের সরাচিত্র প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লোকশিল্পের অনন্য এক স্মারক সরাচিত্র। সরাসরি মাটির বুকে ফুটিয়ে তোলা শিল্পমাধ্যমটি একইসঙ্গে ধারণ করে শেকড় ও ঐতিহ্যকে। আর এই শিল্পমাধ্যমটির আদি ও অকৃত্রিম সৌন্দর্যকে ধারণ করে পথচলা এক শিল্পী সুকুমার পাল। শুক্রবার থেকে ধানম-ি গ্যালারি চিত্রকে শুরু হলো এই শিল্পীর সরাচিত্র প্রদর্শনী। লোকবাংলার সৌন্দর্যস্নাত শেকড়সন্ধানী প্রদর্শনীর শিরোনাম ফিরে চল মাটির টানে-২। সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আরেক শিল্পী অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক্্ আলভী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক চিত্রশিল্পী মোঃ মনিরুজ্জামান।

সুকুমারের সরাচিত্রে ধরা দিয়েছে বাউলের সুরমিশ্রিত গ্রাম বাংলার যাপিত জীবনের অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্যকল্প। কখনও বা এসেছে শহুরে জীবন। ছন্দোময় রং ও রেখায় নানা আকৃতির বর্ণবহুল সরায় উপস্থাপিত হয়েছে বাংলার বাউল, ঢোলবাদক, নৃত্যরত নারী, মাছ ধরা কিংবা মাছ কাটা, মা ও শিশুর অবয়ব, রাধা-কৃষ্ণ, প্রাণের স্পন্দনমাখা লাঠিখেলার দৃশ্যকাব্য, রিক্সা আরোহী প্রেমিক যুগল থেকে শুরু করে পাখি, মাছ, হাতি, ময়ূরপঙ্খী নাওসহ রকমারি বিষয়। প্রদর্শনীতে সরাচিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিল্পীর কিছু অনবদ্য ড্রইং। ৮১টি শিল্পকর্মে সজ্জিত এ প্রদর্শনী চলবে আগামী পয়লা মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

কাবুলিওয়ালা গল্পছায়ায় আলোকচিত্র প্রদর্শনী ॥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প কাবুলিওয়ালা। কাবুলিওয়ালার সঙ্গে বাঙালী ছোট্ট শিশু মিনির বন্ধুত্বে আজও আলোড়িত হয় পাঠক। বিশ্বকবির অমর এই সৃষ্টির ভেতর দিয়েই ইতিহাসে জায়গা করে নেয় কাবুলিওয়ালা কিংবা কাবুলের জনগোষ্ঠী। কয়েক শ’ বছর ধরে আফগানবাসী ভারতে যাতায়াত করলেও ১৮৯২ সালে কবিগুরুর ‘কাবুলিওয়ালা’ তাদের সহমর্মী ও দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতি এনে দেয়। সেই গল্পের ছায়ায় প্রায় হারিয়ে যাওয়া কাবুলিওয়ালা জনগোষ্ঠীর সন্ধান করেছেন দুই আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক মোস্কা নাজিব এবং নাজেস আফরোজ। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে কাবুলিওয়ালাদের সামাজিক পরিবর্তনকে ক্যামেরাবন্দী করেছেন তারা দুজন। কাবুলিওয়ালাদের বর্তমান অবস্থানকে ধারণ করেছেন আলোকচিত্রের আলো-ছায়ার খেলায়। আর সেসব ছবি নিয়ে ধানম-ির দৃক গ্যালারিতে শুরু হলো আলোকচিত্র প্রদর্শনী। কাবুল ও দিল্লী ঘুরে ঢাকায় আসা প্রদর্শনীটির শিরোনাম ‘কাবুল থেকে কলকাতা : সম্পদ, স্মৃতি ও পরিচয়’। গ্যাটে ইনস্টিটিউট আয়োজিত ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীটির সহযোগিতায় রয়েছে দৃক গ্যালারি।

শুক্রবার বিকেলে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন গ্যাটে ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইউডির্থ মিয়েশব্যারগার ও দৃকের প্রধান নির্বাহী আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন দুই আলোকচিত্রী মোস্কা নাজিব ও নাজেস আফরোজ।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, কাবুলিওয়ালাদের যাপিত জীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে আলোকচিত্রে। অতীতে কাবুলিওয়ালারা ফেরি করে নানা ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। এখন তাদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। ছোটখাটো মুদি দোকান, দর্জিসহ নানা পেশায় কাজ করছেন মিশ্র সংস্কৃতির শহর কলকাতার অলি-গলিতে। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ৫০টি আলোকচিত্র। প্রতিটি ছবি তোলা হয়েছে কলকাতা থেকে।

প্রদর্শনী প্রসঙ্গে ভারতে বসবাসরত আফগান বংশোদ্ভূত নারী মোস্কা নাজিব বলেন, নিজের মাতৃভূমি থেকে দূরে থাকার সুবাদে আমি সব সময়েই আত্মপরিচয় ও নতুন সম্পদের খোঁজে আকৃষ্ট হয়েছি। এ ভাবনাটাই আমাকে ভারতে বসবাসরত আফগানিস্তানের অন্যতম প্রাচীন গোষ্ঠীর এ সময়ের জীবনযাপনকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে আগ্রহী করেছে। নাজিব আরও বলেন, আমি এই ছবিগুলো তোলার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করেছি যে কী করে একটি গোষ্ঠী ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়কে আগলে রেখেছিল। এবং তাদেও বোঝার মাধ্যমে নিজ দেশ আফগানিস্তানের মানুষের সঙ্গে ওদের একটি যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। নাজিব আশা করেন, এই আলোকচিত্রগুলোর মাধ্যমে দর্শক কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারবেন জন্মসূত্রে পাওয়া নিজস্ব পরিচয়কে ধরে রেখে একটি নতুন দেশে, নতুন জায়গায় গিয়ে বসতি গড়ে তোলাটা কতটা কঠিন!

অন্যদিকে ভারতীয় আলোকচিত্রী নাজেস আফরোজ পুরো বিষয়টাকে একটু অন্য দৃষ্টিতে সাজিয়ে প্রদর্শনীতে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় কলকাতা শহরটি ছিল দারুণ বৈচিত্র্যময়। আর এই বিচিত্র শহরই আজকের এই আমাকে ‘আমি’ করে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি যে গত কয়েক দশকে সেই বৈচিত্র্য কোথায় যেন ফিকে হয়ে গিয়েছে এবং এই পরিবর্তন আমার জন্য কোনভাবেই সুখকর নয়। এই আলোকচিত্র সিরিজের মাধ্যমে আমি সেই পুরাতন বৈচিত্র্যময় কলকাতাকে সকলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বলা যায়, এটি কলকাতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম মাত্র।

প্রদর্শনী চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শিল্পাঙ্গনে যৌথ প্রদর্শনী ‘প্রয়াস’ ॥ সূর্যাস্তের মোহময়তায় প্রেমিক-প্রেমিকার রোমান্টিক দৃশ্য, অন্ধকারের ঘোর অমানিষায় আলোর অপেক্ষায় শিশু, পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথে নর-নারীর দ্বিচক্রযানে চলা, মৎস্য শিকারিরা মাছ ধরা, আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে নৃত্যরত নর্তকী, প্রিয়জনের অপেক্ষায় নারীর পথ চেয়ে বসে থাকাÑ এমন সব চিত্রকর্ম নিয়ে ধানম-ির শিল্পাঙ্গন আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘প্রয়াস’ শীর্ষক চিত্রকলা প্রদর্শনী। এ প্রজন্মের শিল্পী সাবিহা জিতু ও মোঃ মাজেদুল হকের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে যৌথ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয় শুক্রবার সকালে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক জয়শ্রী কু-ু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিচারপতি ব্যারিস্টার জাফর আহমেদ।

শিল্পী সাবিহা জিতুর আঁকা এ্যাক্রোলিক, ওয়েল, চারকোল স্কেচ আর মিক্সড মিডিয়ার ছবিতে ফুটে উঠেছে মুক্ত চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতার বিভিন্ন দিক, নারী জীবন পরিক্রমা, শিশু ও শৈশব, আধ্যাত্মিকতাসহ সৃজনশীল নানা বিষয়। আর শিল্পী মাজেদুল হকের ওয়াটার কালার, এ্যাক্রোলিক ও অয়েল মাধ্যমের আঁকা ছবিগুলোয় উপস্থাপিত হয়েছে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। শিল্পীদ্বয়ের চিত্রিত ৫৫টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

‘ট্রেস মাই ফ্যাশন’

শুক্রবার থেকে ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কটে ফ্যাশন রেভল্যুশন দিবস উপলক্ষে শুরু হলো ট্রেস মাই ফ্যাশন’ শীর্ষক প্রদর্শনী। সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মোঃ আতিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিইউএফটির (বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এ্যান্ড টেকনোলোজি) প্রেসিডেন্ট মুজাফফার সিদ্দিক ও বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ শহিদুল্লাহ আজিম।

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ প্রদর্শনীর আয়োজন। এছাড়াও ফ্যাশন সম্পর্কিত পোশাক কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা, নৈতিকতা বিষয়ে জানার লক্ষ্যে বেঙ্গল রিসার্চ এ্যান্ড ডিজাইন ইনিশিয়েটিভ এবং বিইউএফটি শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

তিনদিনের এ প্রদর্শনী চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০১৫

২৫/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: