কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দূষণের নগরী রাজধানী ॥ বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি চার মেয়র প্রার্থীর

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০১৫
  • নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বিএনপি, জাপা, বিকল্পধারা ও সিপিবি সমর্থিত প্রার্থীদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দূষণের নগরী রাজধানীকে বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের চার মেয়রপ্রার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীরা। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপি সমর্থিত উত্তরের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। ইশতেহারে প্রজন্মের শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিকল্পধারা সমর্থিত উত্তরের প্রার্থী মাহী বি চৌধুরী। যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরী গড়তে চান দক্ষিণে জাপা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোঃ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন। ৭১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সর্ববৃহৎ ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিপিবি সমর্থিত উত্তরের প্রার্থী ক্বাফি রতন।

‘প্রজন্ম শহর, প্রজন্ম ঢাকা’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার মাহীর ॥ ‘প্রজন্ম ভাবনা’ সেøাগান নিয়ে তিনটি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়রপ্রার্থী মাহী বি চৌধুরী। ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, আমরা নিরাপদ ঢাকা চাই, চলমান ঢাকা চাই, আলোকিত ঢাকা চাই।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানের লেকসোর হোটেলে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকল্প ধারার ও মাহীর বাবা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মা হাসিনা ওয়ার্দা চৌধুরী, স্ত্রী আশফাহ হক লোপা ও ব্লুব্যান্ড কলের সদস্যরা। এ ছাড়া বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানও উপস্থিত ছিলেন।

‘প্রজন্ম শহর’ গড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহী বলেন, এটা শুধু তরুণ প্রজন্মের শহর নয়, সব প্রজন্মের মানুষই বাস করেন। তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও অহিংস রাজনীতি দেখতে চান। কর্মসূচীভিত্তিক রাজনীতি দেখতে চান। তাঁরা বিভক্তির বাংলাদেশ দেখতে চান না। ঐকমত্যের রাজনীতি দেখতে চান। মেয়র নির্বাচিত হলে প্রজন্মের এ ভাবনা বাস্তবে রূপ দেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। বলেন, ‘নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়াদপূর্তির মধ্যে সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের যথাসম্ভব ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রজন্ম ভাবনাকে সম্পৃক্ত করে আগামী ৫০ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণে একটি সামগ্রিক অগ্রগামী নগর পরিকল্পনা কাঠামো প্রণয়ন করা যেতে পারে।

সম্মানিত প্রবীণ নাগরিকদের নেতৃত্বে মেধাবী তরুণদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইনডিপেনডেন্ট কমিটি ফর ট্রান্সপারেন্সি (আইসিএফটি) গঠন করা হবে বলেও জানান মাহী। তিনি বলেন, সেবা খাতগুলো অনলাইনের আওতায় আনতে হবে। অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ক্বাফি রতনের ৭১ দফা ॥ পরিবেশবান্ধব, যানজটমুক্ত সবার জন্য বাসযোগ্য মানবিক ঢাকা গড়ার অঙ্গীকারে ৭১ দফা প্রস্তাবের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহার ঘোষণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ৮ দফা অঙ্গীকারও তুলে ধরেন বাসযোগ্য ঢাকা আন্দোলনের নেতা মেয়রপ্রার্থী ক্বাফি।

উত্তর ঢাকাবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকবে। তারপরও একটি আদর্শ-নীতি ও কর্মসূচীর পক্ষে আপনাদের দাঁড়াতে হবে। একটা নির্বাচনে সর্বোচ্চ প্রকাশ হচ্ছে নির্বিঘেœ ভোট প্রয়োগ। সেই ভোটের মাধ্যমে একটি নীতিনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণই হচ্ছে নির্বাচনের প্রকৃত গণতান্ত্রিক মর্মবোধ। আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের কাছে সেটাই আমার দাবি ও প্রার্থনা। ‘একাত্তর’ দফা প্রস্তাবিত ইশতেহার প্রসঙ্গে ক্বাফি বলেন, ৭১ একটি বিশেষ সংখ্যা। এই সংখ্যাটির সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক জাতীয় চেতনা জড়িয়ে আছে। সেই ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আমার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সুনির্দিষ্ট। কোনভাবেই এসব ফাঁকা বুলি নয়।

নগর সরকার বিষয়ক আইন করতে জনমত গড়ে তোলা, সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান সেবাকে ই সেবায় রূপান্তর করা, সেবার মান উন্নয়নে ২৪/৭ কল সেন্টার স্থাপন, সর্বস্তরে ই-টেন্ডার চালু, বস্তিবাসী-ছিন্নমূলদের আবাসন ব্যবস্থা, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন, যানজট নিরসনে ওয়াটার রেল রোড সার্কুলার চালু, প্রতিটি রাস্তায় বাইসাইকেল লেন প্রতিষ্ঠা, আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা অপসারণ এবং সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে উন্মুক্ত ওয়াইফাই জোন করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

একাত্তর দফা নির্বাচনী ইশতেহারে ক্বাফির ৮ দফা ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে, মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি কখনোই ভিআইপি মর্যাদা গ্রহণ করবেন না। প্রতিবছর আয়কর প্রদানের শেষ তারিখের এক সপ্তাহ আগে বিজ্ঞাপন দিয়ে সম্পত্তির হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন। নির্বাচিত হলে মেয়র এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের বাইরে কোন ধরনের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করবেন না। তার নিকটাত্মীয়দের কেউ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কোন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে যুক্ত হবে না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আবদুল্লাহ আল ক্বাফি।

এ মেয়র প্রার্থীর রাজনৈতিক, পারিবারিক, সামাজিক এবং শিক্ষা জীবনের পরিচয় তুলে ধরেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এ সময় মঞ্চে ছিলেন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ড. আমু মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ, ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি শামসুজ্জামান সেলিম, রাজেকুজ্জামান রতন, সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ আরও অনেকে।

বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি মিলনের ॥ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত করা ও ঐতিহ্যবাহী এ নদীকে দূষণমুক্তসহ ১৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী মো. সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন। বৃহস্পতিবার বিজয়নগরের টেপা কমপ্লেক্সের ১১ তলায় এ ইশতেহার ঘোষণা করেন মিলন। এ সময় সোফা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়াও রয়েছে যানজটমুক্ত রাজধানী, ঢাকাবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুত-পানি সরবরাহ নিশ্চিত, পরিচ্ছন্ন ঢাকা উপহার দেয়া। এরপর রয়েছে মশা-মাছি থেকে ঢাকাকে মুক্ত রাখা, আইল্যান্ডগুলোতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা, ঢাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করা। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, ফুটপাথ পথচারীদের চলাচলের উপযোগী, গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও আরামদায়ক করার কথা উল্লেখ করেন জাপা প্রার্থী। সিটি কর্পোরেশনের আয়ের নতুন খাত করে আয় বৃদ্ধি করা, ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মিলন। ভবঘুরে পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাজধানীকে ভিক্ষুকমুক্ত করা ও নগরীতে নতুন নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন মিলন। এছাড়া, রাজধানীকে সবসময় হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার জন্য জনমত গঠন করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে, রাজনৈতিক সভা সমাবেশের জন্য সুনির্দিষ্ট মাঠ নির্ধারণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মিলন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, গোলাম কিবরিয়া টিপু, সাহীদুর রহমান টেপা, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, মনিরুল ইসলাম মিলন প্রমুখ। জাপা মহাসচিব বাবলু বলেন, দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সে লক্ষ্যে জাপা থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করেছি। আজ থেকে ২৪ বছর আগে ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী গড়ার অঙ্গীকার করেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মেয়র প্রার্থীকে ভোট দিন।

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০১৫

১৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: