রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পানি, গ্যাস সঙ্কট আর জলাবদ্ধতায় জেরবার এলাকাবাসী

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

আনোয়ার হোসেন ॥ অর্ধ লাখেরও বেশি বাসিন্দার ওয়ার্ডটিতে কাঁচাবাজার আছে মাত্র একটি। তাও মূল সড়কের একটি অংশ দখল করে। পাশেই খোলা ডাস্টবিন। বাধ্য হয়ে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যেই সওদাপাতি সারেন এলাকাবাসী। তাই অন্যান্য নাগরিক সমস্যার ভিড়ে স্থায়ী কাঁচাবাজার না থাকাকেও প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পাশের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা তিনটিÑ মাদক বাণিজ্য, পানির দুর্গন্ধ ও জলাবদ্ধতা। আবার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছে অন্য সব ছাপিয়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তাহীনতাই হচ্ছে প্রধান সমস্যা। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে ভোটার ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমনই ভিন্ন ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। তবে পানি ও গ্যাসের সঙ্কট, জলাবদ্ধতা, কমিউনিটি সেন্টার না থাকা, অপর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ লাইন প্রতিটি ওয়ার্ডেরই সাধারণ সমস্যা। এদিকে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থীদের জনসমর্থনের পাল্লা ও ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচানী প্রচারের ক্ষেত্রেও পাওয়া গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রার্থীদের পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা। অথচ ৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে কয়েকটি ব্যানার ছাড়া নির্বাচনী পোস্টারের দেখা মিলেছে হাতেগোনা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই প্রার্থী পরিষ্কার ফেবারিট। আবার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত দুই প্রবীণ প্রার্থী (সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর) আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও মাঠে তাদের উপস্থিতি নেই। এ দুটি ওয়ার্ডে বিএনপিকে টেক্কা দিতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নবীন প্রার্থী। তবে তারা বলছেন, একাধিক প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দল এককভাবে যাকে সমর্থন দেবে তার পক্ষে কাজ করেই ভোটারদের রায় অর্জনের চেষ্টা করবেন। আর ভোটাররা বলছেন, দলীয় পরিচয় দেখে নয়, এলাকার সমস্যা সমাধানে যাকে আন্তরিক মনে হবে রায় যাবে তার দিকেই।

৭ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ডিএসসিসির সাবেক ৩০ নম্বর ওয়ার্ডটি নতুন ৭ নম্বর ওয়ার্ড। কাজিরবাগ, পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর মানিকনগর, আনন্দধারা ও মানিকনগর মিয়াজান লেন এলাকা নিয়ে ওয়ার্ডটি গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০। বাসিন্দাদের অধিকাংশই নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন মোট ৫ প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তিনজন। এরা হলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবিএম শরীফ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল বাসিত খান বাচ্চু। অন্য দুই প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এডিএম মোস্তফা বাদশা ও স্থানীয় যুবদল নেতা মোঃ সামছুল হুদা। ভোটের অতীত হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ওয়ার্ডে এগিয়ে আছেন এডিএম মোস্তফা বাদশা। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনের সবকটিতে বিজয়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে শেষ হাসি তিনিই হেসেছেন। এবারও আলোচনায় আছেন। তবে এবারের বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচনী বৈতরণী সহজে পার হতে পারবেন না বলে মনে করছেন ভোটাররা। একাধিক মামলার আসামি এই প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনলেও নির্বাচনের মাঠে তার তৎপরতা নেই। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মানিকনগরের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, তার মুঠোফোনও বন্ধ। এ প্রসঙ্গে তার ছোট ভাই আবু জাফর জনকণ্ঠকে বলেন, উনি নির্বাচনে ভালভাবেই আছেন। তার জনসমর্থনও প্রচুর। অতীতে তিনি এলাকার উন্নয়নে অনেক রাস্তাঘাট সংস্কার করেছেন। এবার নির্বাচিত হলে স্থায়ী কাঁচাবাজার ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেবেন। আওয়ামী লীগ থেকে এখনও এককভাবে কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়নি। তবে তিন প্রার্থীই দলের সমর্থন পাওয়া ও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। প্রার্থী শফিকুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচিত হলে প্রথমে স্থায়ী কাঁচাবাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেব। একটি কমিউনিটি সেন্টার এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এই দাবি পূরণেও সচেষ্ট হব। আর নির্বাচিত হলে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এলাকায় একটি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন এবিএম শরীফ। অপর প্রার্থী আব্দুল বাসিত খানের বক্তব্য জানতে তার মিয়াজান লেনের বাসায় গিয়ে পাওয়া যায়নি।

৮ নম্বর ওয়ার্ড ॥ কমলাপুর-গোপীবাগ মিলে এই ওয়ার্ড (সাবেক ৩১ নম্বর ওয়ার্ড)। অন্তর্ভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, সোনালী ব্যাংক কলোনি, আর কে মিশন রোড (আংশিক), গোপীবাগ, কমলাপুর (উত্তর ও দক্ষিণ), মতিঝিল বি রেলওয়ের ব্যারাক ও জসিম উদ্দিন রোড। মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৫০৮। এর মধ্যে গোপীবাগ অংশে ভোটার আছেন ৭ হাজার ৩২৫ জন। আর কমলাপুরে ১৩ হাজার ১৮৩।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন মোট ১১ প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপি হিসেবে পরিচিত প্রার্থী ৪, আওয়ামী লীগের ৩, জাতীয় পার্টির ১ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩। বিএনপির প্রার্থীরা হলেন মিয়া হোসেন, মোঃ আবুল কালাম রনি, মোঃ ঈসমাইল ও মোঃ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন-মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শাকিল আহমেদ, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সুলতান মিয়া এবং যুবলীগ নেতা গাজী মাজারুল ইসলাম (গাফরান)। মোঃ আশরাফ হোসেন রাসেল লড়ছেন জাতীয় পার্টির সমর্থনে। আর ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- কমলাপুরের সাবিনা জাহান, মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও গোপীবাগের মোহাম্মদ আকরাম উজ্জামান টিটন। ওয়ার্ড ঘুরে জানা গেছে, ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের সিটি নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ এখানে কোন প্রার্থী দেয়নি। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বেশি হলেও এলাকায় তাদের প্রভাব কম। তার ওপর এসব প্রার্থীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাই মাঠ পর্যায়ে তাদের যোগাযোগও কম। আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী শাকিল আহমেদ ও সুলতান মিয়ার মধ্যে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থী জানিয়েছেন, দল থেকে একক প্রার্থীর কথা বলা হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীরা যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় না হন, তবে দল থেকে নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে দুই প্রার্থীই জনকণ্ঠকে বলেছেন, তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চান না। বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিক, এটা তারা মন থেকে চান। সেক্ষেত্রে দল থেকে এককভাবে যিনি সমর্থন পাবেন, তার হয়েই কাজ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিষয়ে শাকিল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, মাদক-সন্ত্রাস নির্র্মূল করে ওয়ার্ডকে ঢাকার মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে চাই। হাজী সুলতান মিয়া বলেন, নিরাপদ পানি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও মাদক সমস্যার সমাধান হবে তার অগ্রাধিকার। বিপরীতে বিএনপি প্রার্থীদের বক্তব্যে জানতে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই ফোন ধরেননি। প্রার্থীদের বাসায় গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।

৯ নম্বর ওয়ার্ড ॥ দেশের রাজধানী ঢাকা। আর ঢাকার ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত (সাবেক ৩২ নম্বর ওয়ার্ড)। ওয়ার্ডভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে- বঙ্গভবন, দিলকুশা, মতিঝিল, আরামবাগ ও ফকিরেরপুল। মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ১৩৩।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ মোট প্রার্থী ১৩। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৭। এরা হলেন- সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা একেএম মমিনুল হক সাইদ, মোঃ আনোয়ার হোসেন মাখন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মিজান ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোঃ শাহীনুর রহমান শাহীন। বিএনপি সমর্থিত হিসেবে পরিচিত প্রার্থী ৩- সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মকবুল আহমেদ আখন্দ, যুবদল নেতা মোঃ আনোয়ার হোসেন ও শ্রমিক দল নেতা মোঃ আবদুর রহমান। আবদুল কাদের, মুকছেমুল হাকিম খান ও আরিফুর রহমান- এই ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০১৫

০৭/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: