মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শীতলক্ষ্যা তীরের হাঁটাপথ এখন বিনোদন কেন্দ্র

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫
  • প্রতিদিনই বসে ফুসকা চটপটির দোকান

শীতলক্ষ্যা নদী দখল, অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসা ঠেকাতে নির্মিত করা ওয়াকওয়েটি পাল্টে দিয়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জীবনযাত্রা। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকা থেকে ঢাকার ডেমরা ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়েটি। প্রতিদিন শত শত লোকের পদভারে মুখরিত থাকে ওয়াকওয়েটি।

শুধু তাই নয় ওয়াকওয়েটি এখন বিনোদনের স্পটে পরিণত হয়েছে। ছুটির দিনে ও বিশেষ উৎসবের দিনগুলোতে লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয় ওয়াকওয়েটিতে। উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা লোকজনের মাঝে।

চার দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়েটি গত বছরের ১৫ নবেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এটি উদ্বোধন করেন- নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের জুন মাসে। শেষ হয় ২০১৪ সালের জুন মাসে। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াকওয়ের সঙ্গে নদীর তীররক্ষা বাঁধও নির্মাণ করা হয়। শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুরে ব্রিজের আশপাশে অবৈধ ব্যবসায়ীরা নদীর তীর ভূমি দখল করে কয়েক যুগ ধরে অবৈধভাবে বালু ও পাথর ব্যবসা করে আসছে। অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসা ঠেকাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ওয়াকওয়েটি মূলত ঢাকার ডেমরা থানার ডেমরা ঘাট থেকে নারারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইলো এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। ওয়াকওয়েটি এখন শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। পরিণত হয়েছে বিনোদন স্পটে। পরিবার পরিজন নিয়েও ওয়াকওয়ে হাঁটাহাঁটি ও ঘোরফেরার স্পট পেয়ে আনন্দে আছেন তীরবর্তী এলাকার লোকজন। শুধু তাই নয় দূর-দূরান্ত থেকে বিনোদন পিয়াসী লোকজনও ছুটে আসে এখানে। বিশেষ করে বিকেল হলেই পরিণত হয় লোকে লোকারণ্যে। শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী-পুরুষের পদভারে মুখরিত থাকে ওয়াকওয়ে।

আবার বিশেষ উৎসবের দিনে ওয়াকওয়ে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। ওয়াকওয়ে কোন যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হযনি। শুধু হাঁটা চলাফেরা করা যায়। ওযাকওয়ের পাশে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে বেশ কয়েকটি পাকা ঘাট। ওয়াকওয়েটি ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে ব্যবসাবাণিজ্যও। ইতোমধ্যে ওয়াকওয়ে প্রতিদিনই বসছে ফুসকা, চটপটি, চকলেট, আইক্রিম, বাদামসহ হরেক রকমের ভাসমান দোকান-পাট। ওয়াকওয়ের রেলিং এ দেয়া হয়েছে লাল ও হলুদ রং। মিজমিজির বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, তিনি ডায়াবেটিস রোগী। প্রতিদিন ভোরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে হাঁটাহাঁটি করতে ছুটে আসেন। তার মতো বহু ডায়াবেটিস রোগী ভোর হলেই ছুটে আসেন নদীর তীরে। আটি এলাকার মনোয়ার হোসেন মনির জানান, ওয়াকওয়েটি এখন প্রধান বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিকেলে হলেই বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। বিশেষ করে ছুটির দিন শুক্রবারে লোকজনের আনা- গোনা বেড়ে যায়।

এছাড়াও বিশেষ উৎসবের দিনে ওয়াকওয়ে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। ডেমরার শুকুশীর খালেদ জানায়, ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করায় এখানকার তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। তিনি আরও জানান, ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করায় এখন ওয়াকওয়ের বাইরে বালু ও পাথরের ব্যবসা করছে। এতে কিছুটা হলেও নদী ভরাট থেকে রক্ষা পেয়েছে।

আজিবপুরের বাসিন্দা আকবর জানায়, ওয়াকওয়েটি নির্মিত হওয়ায় নদীর নির্মল বাতাস উপভোগ করা যায়। তাছাড়া নদীর পাড়ের সৌন্দর্যও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

Ñমোঃ খলিলুর রহমান

সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: