আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডাক্তারের পরামর্শ

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫
  • নিজের প্রতি আস্থা রাখো

ডাঃ হারুন-উর-রশিদ

কনসালটেন্ট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সন্নিকটে। ফলে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত পড়াশোনা নিয়ে। এই সময়টিতে সুস্থ থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ধরনের অঘোষিত প্রতিযোগিতা বিরাজমান। তাই শিক্ষার্থীদের অনেক সময় দিতে হয় পড়ার টেবিলে এবং ক্ষেত্র বিশেষ কম্পিউটারেও। ফলে মানসিক ও শারীরিক চাপের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চোখের ওপরও প্রতিনিয়ত চাপ পড়ছে। অন্যান্য চাপ সম্পর্কে অবগত থাকলেও চোখের চাপজনিত সমস্যাটি আমরা সচরাচর ঠিক বুঝতে পারি না।

পড়াশোনার মাঝখানে আমরা অকারণেই যে অস্বস্তি বা দুর্বলতা অনুভব করি, এর অন্যতম কারণ চোখের উপর চাপ সৃষ্টি হওয়া। যা একনাগাড়ে দীর্ঘ সময় লেখাপড়া করার ফলেই মূলত হয়ে থাকে। বিশেষ করে কম্পিউটার ব্যবহার করলে। তাই সবার উচিত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয়া।

সঠিক দূরত্ব বজায়

পড়ার টেবিল এবং চেয়ারের উচ্চতা এমন হতে হবে, যাতে পায়ের পাতা মেঝে স্পর্শ করে। চোখ থেকে বই খাতার দূরত্ব ১৪-১৬ ইঞ্চি এবং কম্পিউটার মনিটরের দূরত্ব ১৮-২৮ ইঞ্চি হতে হবে।

সঠিক আলোর ব্যবহার

কম আলো বা অতিরিক্ত আলোতে পড়ালেখা চোখ ব্যথার কারণ হতে পারে। টিউবলাইট বা ফ্লোরেসেন্ট বাল্বের স্বাভাবিক আলো চোখের জন্য আরামদায়ক। এর পাশাপাশি কম্পিউটার মনিটরের ব্রাইটনেস এবং কন্ট্রাস্ট হতে হবে স্বাভাবিক মাত্রায়, অতিরিক্ত নয়।

চোখের পলক ফেলা

পড়ালেখা বা কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের পলক পড়া কমে যায়, যা চোখে শুষ্কতা বা ড্রাইনেস তৈরি করে। এর ফলে চোখে অস্বস্তি বা ক্লান্তি আসতে পারে। তাই পড়ালেখা এবং কম্পিউটার এসাইনমেন্টের সময় ঘন ঘন পলক ফেলতে হবে।

পড়ালেখার মাঝে বিরতি

১ ঘণ্টা পড়ালেখার পর ৫ মিনিট বিরতি নিতে হবে এবং একটু দূরে তাকাতে হবে। সম্ভব হলে জানালা দিয়ে ঘরের বাইরে সবুজ দিগন্ত বা নির্মল আকাশের দিকে তাকানো যেতে পারে। উদ্দেশ্য চোখের মাংসপেশীকে শিথিল করা।

পড়ালেখার ফাঁকে ব্যায়াম

দীর্ঘক্ষণ পড়ার কারণে অনেক সময় ঘাড়ে ব্যথা, কাঁধে ব্যথা বা কোমরে ব্যথা হতে পারে। তাই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে হাত, পা, কাঁধ, কোমর নাড়াচাড়া বা টানটান করা বা হাল্কা ব্যায়াম করা বেশ প্রয়োজন।

সঠিক খাদ্য গ্রহণ

টাটকা সবুজ শাকশব্জি যেমন কচুশাক, পালংশাক ইত্যাদি। হলুদ ফলমূল- যেমন গাজর, পাকা আম, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি। প্রচুর মাছ এবং দুধ খেতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম

প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। রাত জেগে না পড়াই শ্রেয়। দুপুরে আধাঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হবে।

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

২৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: