মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান এইচটি ইমাম

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫
  • অভিজিত হত্যা মামলায় ফারাবী আবারও ৫ দিনের রিমান্ডে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ব্লগার অভিজিত রায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার শফিউর রহমান ফারাবীকে ১০ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার আদালতে হাজির করে আবারও নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আরও ৫ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। পুলিশের নাকের ডগায় এ হত্যাকা- মেনে নেয়া যায় না মন্তব্য করে দায়িত্বে গাফিলতির জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। পৃথিবীর কমপক্ষে ২৫ ভাষায় অভিজিত রায় খুন হওয়ার সংবাদ প্রকাশের পরও এই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিত খুন হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত একমাত্র সন্দেহভাজন ফারাবী ছাড়া খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কেউই গ্রেফতার হয়নি বলে জানা গেছে। অভিজিত রায় হত্যাকা-ের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, শাহবাগ. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিবি সূত্র জানায়, শফিউর রহমান ফারাবীর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে রমনা থানায়। মামলা দায়ের করেছেন অভিজিত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফজলুর রহমান। ফেসবুকে উগ্রপন্থি বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার এবং লেখক-সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় রমনা থানায় এই মামলা হয় ফারাবীর বিরুদ্ধে। অভিজিত হত্যাকা-ের মামলায় ফারাবীকে ১০ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর শনিবার আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের জন্য তথ্য প্রযুক্তি আইনে আবেদন জানানো হলে তাকে আরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। শফিউর রহমান ফারাবীকে নতুন করে ৫ দিনের হেফাজতে পেয়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

যা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ॥ পুলিশের নাকের ডগায় অভিজিত হত্যাকা- মেনে নেয়া যায় না মন্তব্য করে দায়িত্বে গাফিলতির জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকও। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি দিতে না পারার ফল মুক্তমনা লেখক অভিজিতকে হত্যা বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এত পরিকল্পিতভাবে হুমায়ুন আজাদকে হত্যা করা হলো অথচ এই কেসটি যথাযথভাবে তদন্ত করে যদি শাস্তি দেয়া যেত, তাহলে মনে হয়, অভিজিতের ঘটনা ঘটতো না। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের অবস্থানের কয়েক গজ দূরেই অভিজিতের ওপর হামলা হয়। অভিজিত হত্যা হলো পুলিশের নাকের ডগায়। এটা কিন্তু গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, আমি অনেকগুলো কেসের কথা জানি, যেখানে কর্তব্যরত পুলিশকে বলা হয়েছে-ওমুক জায়গায় ঘটনা ঘটছে একটু সহযোগিতা করুন। তারা আসেন নাই। এই সব পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। তিনি বলেন, যারা করছে না, আমি ধরে নেব তারা এই সার্ভিসের ব্ল্যাকশিপ। এদের খুঁজে বের করুন, শাস্তি দিন। তাহলে পুলিশের ওপর গণমানুষের আস্থা ফিরে আসবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনও হবে না। যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় ও দশম সংসদ নির্বাচন ঘিরে ২০১৩ সালে পুলিশের ওপর যে সব হামলা হয়েছে, থানায় আক্রমণ হয়েছে সেসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও তাগাদা দেন। অভিজিতের মতো আর কেউ যাতে এ ধরনের হামলার শিকার না হয় তার জন্যই এগুলোর সুরাহা দরকার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জার্নি নামে একটি বেসরকারী সংগঠনের উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অংশ নেন।

সালাউদ্দিন নিখোঁজ প্রসঙ্গে ॥ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম তিন দিন আগে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনার ইঙ্গিত করে বলেন, তারা নিজেরাই অজ্ঞাতে চলে গিয়ে বলছে, সরকার গুম করেছে Ñ এরকম তো আমি নিজেও পালিয়ে গিয়ে আত্মীয় স্বজনকে বলে যেতে পারি যে তোমরা বলো সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশ আমাকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে গেছে। বিএনপির আরেক ‘নিখোঁজ’ নেতা ইলিয়াছ আলী সম্পর্কে তিনি বলেন, ইলিয়াছ আলী সীমান্তের ওপারে পাড় হয়ে গেছেন। কারণ সে যখন ‘নিখোঁজ’ হয় তার দুই দিন আগেই তার লোকেরা প্রতিপক্ষের দুজনকে হত্যা করেছিল। তার ওপর আক্রমণ হতে পারে ভেবেই সে পালিয়ে আছে। তাছাড়া হারিছ চৌধুরীও তো সীমান্তের ওপারেই রয়েছেন সেকথাতো আপনারা সকলেই জানেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে দাবি করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ কোথায় আছেন আমরা জানি না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় আমরাও তাকে খুঁজছি। তবে তাকে পুলিশ বা কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেনি। সালাহউদ্দিনের স্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন সে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান আইজিপি।

প্রকাশিত : ১৫ মার্চ ২০১৫

১৫/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: