কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

’৭১-এর যুদ্ধশিশু

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫
  • মুস্তফা চৌধুরী

অপরাজিতা প্রতিবেদক ॥ ’৭১-এর যুদ্ধশিশুদের ‘অজানা কাহিনী’ নিয়ে এবারের বইমেলায় হাজির ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক কানাডা প্রবাসী মুস্তফা চৌধুরী। ওদের বেঁচে থাকার ইতিহাস ও শেকড়ের সন্ধানে নিরন্তর ছুটেছেন বছরের পর বছর। প্রায় কুড়ি বছর অনুসন্ধানের পর অজানা ‘অবিদিত ইতিহাস’ জানাতে সুদূর কানাডা থেকে ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশের যুদ্ধশিশুদের নিয়ে গবেষণাধর্মী এবং তথ্যবহুল বই এটাই প্রথম। বইটির বিষয়ে লেখক মুস্তফা চৌধুরী সাক্ষাতকারে বলেন, একাত্তরে পাকবাহিনীর নির্মম লালসার শিকার হয়েছেন যুবতী-কিশোরীসহ কয়েক লাখ নারী। তাদের অনেকেই ওই সময় ‘অবাঞ্চিত’ শিশুর জন্ম দেন। ওই শিশুরা এখন কে কোথায় আছে, তাদের ‘পরিচয়’ কী, তারা কী বেঁচে আছে, বাংলাদেশ কখনও খবর নেয়নি। এমনকি তারা কে কোন দেশে আছে, কার কাছে আছে, কী করছে, বাংলাদেশের কার কাছে আছেÑ কোন তথ্য নেই। অনেক অনুসন্ধানের পর জানতে পারি, ‘ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন’ নামে কানাডিয়ান একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই ১৫ শিশুকে নিয়ে আসেন। তাদের ৮ জন মেয়ে আর ৭ জন ছেলে।

কালের পরিক্রমায় স্বাধীনতার ৪৩ বছরে ‘অবাঞ্ছিত’ সেই শিশুরা জেনে গেছে তাদের ‘জন্ম’ পরিচয়। তারা মেনে নিয়েছে নির্মম বাস্তবতা। সুদূর কানাডায় বেড়ে ওঠা ওই শিশুদের জাতীয়তা কী? ওরা কী পাকিস্তানী, বাঙালী নাকি কানাডিয়ান? ওরা কী বাংলাদেশকে ‘নিজের’ দেশ মনে করে? যে মায়ের কোলে বড় হয়েছে, তিনি তাঁর মা, নাকি যিনি তাঁকে জন্ম দিয়েছেন? এই চরম সত্যের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ওই ১৫ জনের একজন। তাঁর নাম ছিল রানী। রানী এখন আর নেই। প্রায় একযুগ আগে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ২৭ বছর বয়সী রানী। আর রাজীবের চলে যাওয়াটাকে স্বাভাবিক বলছেন তার পরিবার। সে দুই বছর আগে আকস্মিক হার্টএ্যাটাক করে মারা যায়। ‘আপন’ মায়ের স্নেহ বঞ্চিত বাংলার এই সন্তানেরা অন্য মায়ের কোলে বড় হয়েছেন। কেউ আছেন শিক্ষকতায়? কেউবা ব্যবসায়। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে জন্ম থেকেই ওরা করছে ‘বেঁচে থাকার লড়াই’। ওদের অভিশপ্ত জীবনের অলিখিত ইতিহাস হলো- ’৭১-এর যুদ্ধশিশুর অবিদিত ইতিহাস। বইটি অমর একুশের বইমেলায় বেরিয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারিতে।

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০১৫

০৭/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: