মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিএনপি জোট কাল বিক্ষোভ মিছিল করবে সারাদেশে

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • দাবি না মানলে আরও কর্মসূচী দেয়ার হুমকি
  • খালেদার অফিসের কাছে গুলশানে চলছে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শনিবার সারাদেশের সকল থানা, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা সদরে এবং সকল মহানগরের প্রতি ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল করবে বিএনপি জোট। এ ছাড়া সরকার নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা না দিলে রবিবার থেকে চলমান অবরোধের সঙ্গে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

এদিকে হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ মিছিল করেছে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ নামক একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা জয়বাংলা সেøাগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের দেয়ালে আরও একস্তর উঁচু করে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। আর বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশী বাধায় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করা নেতাকর্মী ও অফিস স্টাফদের জন্য ৩ বেলার খাবার প্রবেশ করেনি বলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন। তবে বিকেলে এক মসজিদের ইমাম সাহেব পায়েস জাতীয় তবারক নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে যান।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’-এর নেতাকর্মীরা গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিছিল-সেøাগান নিয়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৮৬ নম্বর সড়কে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকলে এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের একটু সরিয়ে গুলশান কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পাশে অবস্থান নিতে দেয়। আর সেখানে অবস্থান করেই সংগঠনের নেতারা সমাবেশ করেন। সমাবেশে সংগঠনের বেশ ক’জন নেতাকর্মী বক্তব্য রাখেন। এ সময় তাদের সেøাগানের ভাষা ছিল এমন-‘ডাইনী গোলাপী খালেদার পতন হবে পতন হবে’, ‘হরতালের নামে নৈরাজ্য বন্ধ কর করতে হবে’, ‘অবৈধ হরতাল মানি না’, ‘খুনীদের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’, ‘বোমা মেরে মানুষ হত্যা চলবে না, বন্ধ কর’।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম বলেন, হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসাবাণিজ্য করে খাই। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা না খেয়ে রয়েছি। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছে না। তাই খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ জানাতে আসতে বাধ্য হয়েছি। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতির নামে তারা জনগণের সঙ্গে প্রহসন করছে। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জ্বালাও-পোড়াও করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

আয়োজক সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান ভুট্টোর সভাপতিত্বে ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান রিজভীর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

আরও উঁচু কাঁটাতারের বেড়া : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের দেয়ালের ওপর নতুন করে আরও এক স্তর উঁচু করে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। সরেজমিনে গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক’দিন আগে দেয়ালের ওপর প্রায় দেড় ফুট উঁচু করে যে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছিল তার উপরে অনুরূপ আরও এক স্তর বেড়া দেয়ার নির্দেশ পেয়ে তারা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ কাজ পুনরায় শুরু করেছেন। এর ফলে সহজে কেউ এ বেড়া ডিঙিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি বড় কিছু দিয়ে ঢিল ছুড়লেও তা ভেতরে যাবে না।

গুলশান কার্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য এখনও বেশ ক’জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া প্রতিদিন ২ জন সাদাপোশাকধারী পুলিশ কার্যালয়ের গেটে রেজিস্টার খাতা নিয়ে বসছেন। কারা ভেতরে প্রবেশ করে বা বের হন তা তারা খাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখে। গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

ইমাম সাহেবের তবারক পায়েস : বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশী বাধায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করা নেতাকর্মী ও অফিস স্টাফদের জন্য ৩ বেলার খাবার প্রবেশ করেনি বলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানিয়েছেন। তিনি জানান, খাবার প্রবেশ করতে না দেয়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ ভেতরের সবাই সামান্য ফলমূল ও খুরমা খেজুর ও মুড়ি খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্যভাবে কিছু খাবার ভেতরে প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পায়েস জাতীয় তবারক নিয়ে যান এক মসজিদের ইমাম সাহেব। তবে তাকে তবারক নিয়ে প্রবেশ করতে পুলিশ বাধা দেয়নি। একটি বড় পাতিলে তবারক নিয়ে আহলে শরীফ মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মজিদ খালেদার গুলশান কার্যালয়ে যান।

আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী ॥ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন কাদের সিদ্দিকী। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারের ক্ষমতায় ভাটার টান : সালাউদ্দিন ॥ নিজেদের আন্দোলনের ব্যর্থতা স্বীকার না করে উল্টো বর্তমান সরকারের ক্ষমতার ভাটার টান পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ঔদ্ধত্য ভঙ্গিতে ঘোষণা দিয়েছেন, প্রয়োজনে বিএনপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে। সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা ইতোপূর্বে অনেকবার দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী- নেতারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে আরও ঔদ্ধত্য, অসংযত ও লাগামহীন আচরণে লিপ্ত। এজাতীয় বাক্যবাণ জোয়ারের লক্ষণ নয়, ক্ষমতার ভাটার টান ও গলার জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার নিষ্ফল ব্যাকুলতামাত্র। দেশের জনগণও সেটা বোঝে। প্রধানমন্ত্রীর পিতা সকল দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি, তিনিও পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী টকশো ওয়ালাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন, ইতোমধ্যে অনেক সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল বন্ধ করে সেসব মিডিয়া মালিকদের গ্রেফতার করেও চিন্তাহীন হতে পারেননি তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন, বুধবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ফেনীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা এ জাতীয় সকল ঘটনার প্রতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং উক্ত ঘটনাসমূহের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সমগ্র জাতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে রাতের খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ বাহিনীর লোকজন। ভাতে মারার আর পানিতে মারার নীতি অবলম্বন করে, বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করে, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট কেবলসহ সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে শেখ হাসিনা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।

বিবৃতিতে সালাউদ্দিন আরও বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে খালেদা জিয়া যেকোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন। অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: