কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

‘যেমন দেখিলাম’ জিরো ডিগ্রী

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

সিনেমার নাম জিরো ডিগ্রী। নির্মাণ করেছেন ছোট পর্দার নামী নির্মাতা অনিমেষ আইচ। বাংলাদেশে সিনেমার রিভিউ যাঁরা লেখালেখি করেন তাঁরা প্রধানত প্রিমিয়ার শো অথবা প্রেস শো দেখেই লিখে ফেলেন এন্তার চলচ্চিত্র সমালোচনা। আমি বরাবরই গাঁটের পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে সিনেমা দেখে এরপর রিভিউ লেখি। কারন তাতে লেখাটা বস্তুনিষ্ঠ হবার সুযোগ বেশি থাকে। বিনে পয়সার দাওয়াতে সিনেমা দেখে তো আর বেশি সমালোচনা করা যায় না। হাজার হোক নুন খেয়ে গুণ না গাইলে কি চলে? সে যাই হোক, ফিরে আসি ‘জিরো ডিগ্রী’-তে। স্বভাবতই আগ্রহী হলাম সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে উপভোগ করার জন্য। জিরো ডিগ্রী মুক্তির পরদিনই বলাকায় হাজির হলাম। জিরো ডিগ্রীর একটি রিভিউ লেখার তাগিদ ছিল অন্তরের ভেতর থেকে। বাংলাদেশের কোন কিছুই সময়মতো না হলেও শো শুরু হলো একদম কাঁটায় কাঁটায় ছয়টা ত্রিশে। শুরুতেই মাহফুজ আর রুহির দারুণ পারিবারিক জীবন। উচ্ছল এবং রঙ্গীন। তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয় যখন রুহি অফিস ট্যুরে দেশের বাইরে যায় কয়েক দিনের জন্য। কিন্তু কয়েক দিন গড়িয়ে গেলেও এবারে আর ফিরে আসেনা রুহি। অফিসে গিয়ে মাহফুজ জানতে পারে রুহি আসলে অফিস ট্যুরে যায়নি। সে এক মাসের ছুটিতে আছে। রুহি ফোনে বিদেশ থেকে জানায় সে আরেকজনকে ভালবাসে এবং তার সঙ্গেই ঘর করতে চায়। ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে বিপদে পড়ে মাহফুজ। হঠাৎ একদিন রাস্তা পার হতে গিয়ে তাঁর চোখের সামনেই দুর্ঘটনায় মারা যায় একমাত্র সন্তানটি। মানসিক ভারসাম্য হারায় মাহফুজ। তাঁকে মানসিক চিকিৎসার ক্লিনিকে নেয়া হয়। এভাবেই শেষ হয় সিনেমার প্রথম ভাগ। পরিচালক অনিমেষ গল্পের ন্যারেটিভের মধ্য দিয়ে আসলে তিনজন মানুষের গল্প বলতে চেয়েছেন যারা প্রতারিত। কাহিনীর কাঠামো আমাদের আশাবাদী করে। যা গতানুগতিক বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের গল্পের কাঠামো থেকে আলাদা। তবে বেশ কিছু টেকনিক্যাল ত্রুটি চোখে পড়ে যা অনিমেষ আইচের মতো একজন নামী নির্মাতার কাছ থেকে আশা করা যায় না। সিনেমার প্রথম পর্বে মাহফুজ যখন রুহিকে সিঅফ করতে এয়ারপোর্টে যায় তখন তিনি এক্সিস ব্রেক করেন যা দর্শক হিসেবে আমাদের বিভ্রান্ত করে। জিরো ডিগ্রীর বেশ কিছু দৃশ্য দেখে আমার কিছুটা খটকা লেগেছে। সিনেমার ইন্টারভ্যালের পর খোলা ছুরি হাতে জয়ার এক লোককে তাড়া করা এবং নৃশংসভাবে যখন আঘাত করছে তখন কয়েকজনকে দেখা যায় মোবাইলে ভিডিও করছে। এই দৃশ্যটি আরও নান্দনিকভাবে মূল ভাব রেখে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব ছিল। তবে কিভাবে মাহফুজ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে এলো সেটি দর্শক হিসেবে আমরা দেখতে পারি না। রুহি যায়িবকে খুন করে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। পুলিশ তাদের সবাইকে খুঁজতে থাকে। নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় জিরো ডিগ্রীর গল্প। পুরো সিনেমায় বেশ কয়েকটি ভায়োলেন্স দৃশ্য রয়েছে। যা কিছুটা কমিয়ে আনতে পারতেন পরিচালক। তবে নিঃসন্দেহে জিরো ডিগ্রী বাংলা সিনেমায় ন্যারেটিভের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে এ কথা বলতেই হবে। এই ধরনের ঘটনা অহরহই আমাদেরে দেশে ঘটছে। সিনেমার গল্পকে বাস্তবানুগ করার জন্য নির্মাতা ধন্যবাদ পাবেন। জিরো ডিগ্রীকে সাইকো থ্রিলারও বলা যেতে পারে। দর্শক হিসেবে আমরা কিছুটা মানসিক চাপের সম্মুখীন হই। তবে চরিত্রায়নে অসম্ভব ভাল করেছেন জয়া, মাহফুজ, রুহি, যায়িব, রাব্বী, টেলি সামাদ প্রমুখরা। জেমসের দরাজ কণ্ঠের প্লেব্যাক ছিল দর্শকদের জন্য বড় পাওয়া। সিনেমার পুরোটা সময়ই দর্শক উপভোগ করেছেন। তবে এই গল্পকেই আরও অল্প সময়ের মধ্যে কমিয়ে আনাতে পারলে ধন্যবাদটা পরিচালক আরও অনেক বেশি পেতেন। সর্বশেষ সিনেমার নাম জিরো ডিগ্রীর কেন দেয়া হলো এটা ভাবতে ভাবতেই শেষ হলো সিনেমাটি। বাইরে বেরিয়ে এলাম। উজ্জ্বল আলোকিত ঢাকার রাজপথ।

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: