কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রাঙিয়ে দেয়া ভালবাসা

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
রাঙিয়ে দেয়া ভালবাসা
  • তৌফিক অপু

‘আজ হৃদয়ে ভালোবেসে

লিখে দিলে নাম তুমি এসে’

চিরচেনা এই হৃদয় জাগানিয়া গান আজও যে কারও মনকে দোলা দিয়ে যায়। ভালবাসার শব্দগুলোই যেন এমন। আপন গণ্ডিতে সে এঁকে চলে জীবনরেখা। একটা সময় ছিল যখন ভালবাসা প্রকাশে যেমন অনেক ইতস্ততা ছিল তেমনি সামাজিকভাবে ব্যাপারটি এড়িয়ে চলাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে মনের কথা বলতে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা দ্বিধাবোধ করে না। ব্যাপারটা এমন, অন্য সব কিছুকে পিছু হটিয়ে ভালবাসার পেছনে ছুটতে প্রস্তুত। আর এ ব্যাকুলতা থেকেই বোধ হয় ভালবাসা দিবসের উৎপত্তি; যা আজ আমাদের দেশে রীতিমতো উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব ভালবাসা দিবস, যদিও আমাদের অর্থাৎ বাঙালীর নিজস্ব কোন উৎসব নয়; তারপরও আড়ম্বরপূর্ণভাবেই পালিত হয় দিবসটি। ভালবাসার নির্দিষ্ট কোন সীমা-পরিসীমা নেই, নেই কোন বয়স। তাছাড়া ভালবাসা বলতে শুধু প্রেমিক যুগলের ভালবাসাকেই বোঝানো হয়, তা কিন্ত নয়। বাবা-মায়ের ভালবাসা সন্তানের প্রতি, বড়দের ভালবাসা ছোটদের প্রতি, স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসাÑ সবই এর আওতাভুক্ত। তবে সব কিছুই ছাপিয়ে প্রেমিক যুগলের ভালবাসাই যেন ঠাঁই পায় ডায়েরির পাতায়। তরুণ-তরুণীর প্রেমকাহিনীই যেন ইতিহাস হয়ে ধরা দেয়। সেই প্রাচীন যুগ হতে আজ পর্যন্ত ভালবাসার যে আবেদন, তা অপরিবর্তিত। হয়ত কালের প্রবহমানতায় পাল্টেছে এর ধরন। যারা ভালবাসেন, ভালবাসা তাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী, চিন্তা ও মননে সর্বক্ষেত্রেই এক ধরনের মোহ তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে। প্রেম-ভালবাসা তার নিজস্ব গতিপথ অনুযায়ী চলে। কখন কার ওপর ভর করে বসে ঠিক নেই। তারপরও এই আসক্তি আমাদের সবারই প্রিয়। ভালবাসার উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই গিফট দেয়া নেয়া। তরুণ-তরুণীদের কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো ভালবাসা দিবসের নজড়কাড়া পোশাক বাজারে এনেছে। কারণ ভালবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে একে অপরকে গিফট দেয়া যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। সে সুবাদেই ফ্যাশন হাউজসগুলোয় রীতিমতো উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পছন্দসই পোশাকটি পরে এদিনে একসঙ্গে ঘুরতে বের হবার আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হতেই এ প্রয়াস। ভালবাসা দিবসের পোশাকে লাল রংকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ লাল গোলাপের স্নিগ্ধতা ভালবাসার আবহকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। আর এ দিকটি বিবেচনায় রেখে পোশাকে লাল রংকে প্রাধান্য দিয়ে ভালবাসার আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যেহেতু বসন্তকাল, মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়া বইছে সে দিকটিও বিবেচনায় রাখা হয়। পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে একটু মোটা কাপড় এবং খাদিকে চুজ করা হয়েছে। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করা ফুল সিøভ ব্লাউজ রাখা হয়েছে। হাফ সিøভও রয়েছে। আবার ম্যাচ করা যুগল ড্রেস রয়েছে। অর্থাৎ একই ডিজাইনে ছেলে এবং মেয়ে উভয়রই পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে যা এবারের ভালবাসা দিবসে অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করবে। ভ্যালেন্টাইন পোশাকগুলোর মধ্যে শাড়ি, পাঞ্জাবি, শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কোর্তা, সালোয়ার-কামিজ অন্যতম।

পোশাকের পাশাপাশি ম্যাচ করা বিভিন্ন অর্নামেন্টও পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউসগুলোয়। দামও হাতের নাগালে। ভ্যালেন্টাইন ডে-তে আগে চকোলেট, ফুল কিংবা গিফট কার্ড ছাড়া অন্য তেমন কিছু বিক্রি হতো না। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এসবের পাশাপাশি পোশাকও ভাল বিক্রি হচ্ছে, বরং অন্যান্য গিফটের চেয়ে পোশাকের আদান-প্রদানই বেড়েছে বহুগুণ; যা সত্যিই এক ইতিবাচক দিক। তাছাড়া পোশাকে প্রতিবছরের ভেরিয়েশন আলাদা মাত্রা যোগ করে। ফ্যাশনপ্রেমী মানুষের মধ্যে গিফটের ক্ষেত্রে সবার আগে স্থান পায় ফ্যাশনেবল ড্রেস। এছাড়াও শো-পিস এবং বিভিন্ন গ্রামীণ সামগ্রীর শো-পিসগুলো এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এছাড়া ডায়রি কলম, স্মার্টফোনও রয়েছে এ তালিকায়। আর লাল রংকে প্রাধান্য দিয়ে ঘরের সোফাসেট এবং কুশন কভার গুলোও যেন লাল হয়ে ওঠে। ফেসবুক, টুইটারে ভালবাসা ধ্বনিতে মুখরিত। ই-কার্ডের প্রচলন বেশ বেড়েছে। সবমিলিয়ে ভালবাসাময় একটি দিন। জীবনের প্রতিটি দিন ভালবাসার দিন হলেও ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসে এর তৎপরতা যেন আরও বেড়ে যায়। ভালবাসার নতুন মাত্রা যোগ করতে যুগলরা নতুন রূপে শপথ নেয়। সিদ্ধান্ত নেয় অন্তহীন ভালবাসার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : তুলনা ও জেমি

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৯/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: