মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মেলার টানে মিলিত প্রাণ

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

বইমেলা

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দুদিন থাকে জাতীয় কবিতা উৎসব। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শেষদিকে কবিদের ওই অভূতপূর্ব আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন তাঁদের কেউই সম্ভবত ফেব্রুয়ারির এ দুদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও কবিতা উৎসবে না গিয়ে পারেন না। আমি অন্তত পারি না। অবশ্য নিজে কবিতা পড়ার জন্য নয়। অন্যদেরটা শোনা আর সতীর্থদের সঙ্গে সাক্ষাতের লোভেই যাওয়া। তাই বইমেলার সময় থেকে কিছুটা ভাগ কবিতা উৎসবকে দেয়াই লাগে। আবার মেলা উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ করে চলে না যাওয়া পর্যন্ত মেলায় সর্বসাধারণ প্রবেশ করতে পারেন না। তাই বইমেলার প্রথম দিন মানেই সন্ধ্যার পর প্রবেশাধিকার পাওয়া। সেদিন বহু স্টল নির্মাণের কাজ অসমাপ্ত থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। আধা ঘণ্টার জন্য সদ্য নির্মিত ‘কাঁচা’ বইয়ের দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে না যাওয়া পর্যন্ত স্বস্তি মেলে না। দ্বিতীয় দিনও অনেকটা বুড়িছোঁয়ার মতো বইমেলায় ঘুরেছি। তৃতীয় দিনটাই ছিল আসল মেলা দর্শন। তাছাড়া এ বছর গতবারের মতো বইমেলা দু’খানা (একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হলেও দুটোই আয়তনে/পরিমাণে যথেষ্ট বেড়েছে। তাই ‘দুইস্তরে বিন্যস্ত’ বইমেলা একদিনে আদ্যোপান্ত ঘুরে দেখা অসম্ভব। দশকের পর দশক ধরে মেলায় ঘোরার ‘পারদর্শিতা’ থেকে এটুকু বলতেই পারি যে প্রায় গোটা মেলাই এক ঝলক ঘুরেছি। প্রথম দুদিন প্রবেশ করেছিলাম টিএসসি প্রান্ত থেকে। তৃতীয় দিন দোয়েল চত্বর থেকে।

বয়স্ক পাঠক, বাছাই বই

টিএসসি এবং দোয়েল চত্বরÑ মেলায় প্রবেশের উভয় প্রান্তেই কাঁটাতারের প্রতিবন্ধক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ভাবছিলাম একটু বয়স্ক ব্যক্তিরা এতখানি পথ হেঁটে যেতে পারবেন? পথ তো কম নয়। অবশ্য মেলার গেটে নামলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে গেলে বেশকিছুটা পথ হাঁটতেই হবে। তারপর ভেতরে আবার উদ্যানের অনেকটা জায়গা নিয়ে বইমেলা। পুরোটা এক চক্কর দেয়া সত্তরোর্ধ বহুজনের পক্ষেই অসম্ভব। অথচ কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেয়া প্রবীণদেরই পাঠের অবকাশ তুলনামূলকভাবে বেশি। শুধু তারাই তো নন, ঢাকায় থেকেও অনেক পাঠকের পক্ষে মেলায় আসা সম্ভব হয় না নানা কারণেই। ঢাকার বাইরের পাঠকদের কথাও বলতে হবে। তাদের পাঠপিপাসা মেটাতে মেলায় গিয়ে যাচাই বাছাই না করতে পারার কারণে পত্রপত্রিকা আর টিভি মিডিয়ার ওপরেই নির্ভর করতে হয়। হাজার হাজার নতুন বইয়ের ভেতর মানসম্পন্ন ভাল বইগুলো নির্বাচন করা খুব সহজ নয়। এই দায়িত্বশীল কাজটি সাংবাদিকের কাছ থেকে অবশ্য আশাও করতে পারি না। এটা সাহিত্য সম্পাদক ও বোদ্ধা লেখক-সমালোচকরা পারেন। এমনিতেই আমাদের ভেতর বই কেনার প্রবণতা কম। বই কিনে কেউ ঠকলে একজন সম্ভাব্য ক্রেতা-পাঠক হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই বই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স্ক অভিজ্ঞ ব্যক্তি সেক্ষেত্রে বই নির্বাচনে সহায়ক হতে পারেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়ক বন্ধ রাখা হলেও যাতে বয়স্কজনেরা একেবারে উদ্যানের প্রধান ফটক পর্যন্ত না হেঁটে কীভাবে মেলায় আসতে পারেন সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।

সুনসান রাস্তায় স্কেটিং ও সিম কিনতে ভিড়

বিকেল চারটায় দোয়েল চত্বর পেরিয়ে এগোতেই দেখি দুই পাশের সড়কে দু’জন কিশোর স্কেটিং করছে। চাকাওয়ালা জুতো কেনার সামর্থ নেই বলে কি সাধ থাকতে নেই! কয়েকটি বালক মিলে চাকাওয়ালা দুটি কাঠেরগাড়ি ঠেলছে। এসব গাড়িতে বিকলাঙ্গ কিংবা বয়স্ক ভিখেরিদের বসে থাকতে দেখি, কোন বালক সেটা ঠেলে নিয়ে যায়। সেই গাড়িই এই সুনসান রাস্তায় বালকদের কাছে খেলনা হয়ে উঠেছে। দুই পাশের পেভমেন্টে কোন খুচরো দোকানিকে দেখলাম না। কোন ফেরিওয়ালাও নেই। দুই পাশ একদম ফকফকা। মনোহরি দ্রব্যের মেলা বসে এখানে প্রতিটা বইমেলার সময়। এবার নেই কেন বুঝলাম না। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নাকি হরতাল-অবরোধের প্রভাব বোঝা গেল না। দোয়েল চত্বর দিয়ে ঢুকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্যে ‘বামপন্থী’ হলাম। ব্যাগ তল্লাশি করছেন কয়েকজন, তার চেয়ে ঢের বেশি পুলিশ বসে আছেন আয়েশি ভঙ্গিতে। এক মহিলা পুলিশ মোবাইলে কথা বলেই চলেছেন হেসে হেসে। যথেষ্ট রোদ মেলায়। কেউ কেউ রোদচশমা পরে আছেন। সাদা চোখে দুটো বিষয় ধরা পড়ল। ঝাঁকড়াচুলো বিরাট গাছটাকে ঘিরে গোলাকার যে নজরুল মঞ্চ, সেখানেই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়। নজরুলের ভাস্কর্যের সঙ্গে বিভিন্ন পোজ দিয়ে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা একের পর এক ছবি তুলেই চলেছে। সেলফি তোলাও চলছে। আর যথেষ্ট ভিড় দেখলাম পেছনের দিকটায় বর্ধমান হাউসের উত্তর পাশে টেলিটকের স্টলে। রীতিমতো লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম সংগ্রহ ও জমা দেয়ার কাজ চলছে। মাত্র ৫০ টাকায় সিম, মডেমও অতিসুলভ মূল্যে, আরও কী কী সব অফার। তরুণরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আহা কোন বইয়ের দোকানে যদি এর দশভাগের এক ভাগ তরুণের দেখা পেতাম!

সাহিত্য সম্মেলন ও মঞ্চের বক্তৃতা

একাডেমির নবনির্মিত ভবনের নিচতলার আলিশান মিলনায়তনে চলছে ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন’। ভেতরে ঢুকে দেখি আলোচনা করছেন একজন ভারতীয় বাঙালী লেখক। সভাপতির আসনে নির্ধারিত ব্যক্তির পরিবর্তে বসে আছেন ভিন্নজন। এ পর্বে ভারতীয় কবিদের কবিতাপাঠ শেষ হলেই বাংলাদেশের কবিরা কবিতা পড়বেন। দুই দেশ মিলিয়ে ৫০ জনের মতো নাম দেখলাম পুস্তিকায়। সব মিলিয়ে তার চেয়ে বড়জোর আর কুড়িজন উপস্থিত আছেন মিলনায়তনে। তালিকায় বাংলাদেশের দু’জন ছড়াকারের নামও আছে। নিজের লেখা কবিতা পাঠ করবেন ছড়াকার! কী জানি হতেও পারে। যদিও এর দৃষ্টান্ত নেই। ভাবছিলাম কবিদের ভেতর ছড়াকারের নাম ঢোকানোয় তাঁরা সম্মানিত নাকি অপমানিত বোধ করবেন। যাহোক, এক ভদ্রলোককে দেখলাম গভীর ঘুমে তলিয়ে আছেন। সম্ভবত তিনি বৈকালিক নিদ্রার জন্য স্থানটিকে নির্বাচন করেছেন।

বাইরে বেরিয়ে সরাসরি চলে এলাম বর্ধমান হাউসের মাঠের খোলা মঞ্চের সামনে। বাংলা একাডেমির ৬০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সেখানে আলোচনা চলছে। ভারতের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় হঠাৎ মঞ্চে উঠলেন, একটি বাড়তি চেয়ার টেনে আনা হলো নিচে থেকে। আর যিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন তাঁর কানে কানে কিছু বলা হলে আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেল। এখানে বরং মিলনায়তনের তুলনায় সংখ্যায় কিছু বেশি দর্শক-শ্রোতা দেখলাম। ওদিকে তথ্যকেন্দ্র থেকে উচ্চকণ্ঠে নতুন বইয়ের প্রচার চলছে। শব্দে-শব্দে ঠোকাঠুকি অসহ্য মনে হওয়ায় দর্শকদের আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন পূরবী বসু। এটা কী হচ্ছেÑ জানতে চাইলেন। একাডেমির এক নারীকর্মী পেছন থেকে ছুটে এলেন। একটি কুকুর রাজকীয় ভঙ্গিতে হেলেদুলে এসে মঞ্চের নিচে রাখা ফুলের টব শুঁকতে থাকল; বক্তব্য কম্পিউটারে রেকর্ড করছিলেন যিনি এক মনে, তার চেয়ারের পেছনে গিয়ে নিরীক্ষণ শুরু করল। তারপর নির্ভয়ে নির্বিঘেœ চলে গেল অন্যত্র।

সরাসরি প্রদর্শনে টিভি চ্যানেল

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বাংলাদেশের পাঠপ্রবণতার কথা বলতে গিয়ে মুগ্ধস্বরে বললেন, এদেশের রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি থেকে শুরু করে কৃষিকাজে নিযুক্ত ব্যক্তিও বই পড়েন। বক্তব্য শেষ করেই বিদায় নিলেন তিনি। তাঁর পেছনে পেছনে টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকেরা। খানিকক্ষণ আগে দেখেছি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ধারণ করছেন এক টিভিকর্মী। তারপর দুটি চ্যানেলের সাংবাদিক হন্তদন্ত হয়ে খোঁজ করছেন তাঁর। দুটি চ্যানেলের প্রিয়ভাজন দুই উপস্থাপকের অনুরোধে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হলো। আর নয়, এবার যাওয়া যাক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ওটাই এখন আসল বইমেলা।

বিপুল উপস্থিতি

বইয়ের জন্যই তো বইমেলা। বই নিয়ে কথাশিল্পী শাহাদুজ্জামানের অনুভূতির নতুন প্রকাশ মনে ধরল। তিনি লিখেছেনÑ ‘সারাবছর বই পথহারানো মোরগের মতো একা বৃষ্টিতে ভিজলেও অন্তত একটি মাস সে বসে সিংহাসনে।’ কথাগুলো ফেসবুকে তুলে দিয়ে ইশরাত জাহান উর্মি নিজের দ্বিতীয় উপন্যাস প্রকাশের খবর জানিয়ে লিখেছেনÑ ‘ক্যালেন্ডারের পাতার থোড়াই কেয়ার করি। আমার বসন্ত এসে গেছে। কারণ বইমেলা এসে গেছে। আমি তাই খুব ভাল আছি।’ বই নিয়ে অনেক মানুষের কত আবেগ আর অনুভূতির প্রকাশ ঘটে চলেছে। সেই বইমেলায় যাবার জন্য এবার উদ্যানে ঢুকে পড়েছি। মন্দির থেকে ভেসে আসা বাদ্য কানে পশছে মেলায় আগতদের। একটু বিস্মিত হলামÑ না, কোন হাঁকডাক নেই খাবারের দোকানের কর্মীদের। একটিও হোটেল যে নেই এবার! নেই একটিও চা-খানাও। বইমেলার ভেতরে কি আছে? না, সেখানেও নেই। আছে কেবল বাংলা একাডেমির নবনির্মিত ভবনের উত্তর দিকে একটি ক্যান্টিন। সেখানে পিঠা ছাড়া কোন খাবার দেখিনি। উদ্যানের মেলা এবার গতবারের তুলনায় কমপক্ষে দ্বিগুণ জায়গা নিয়ে হচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে পা ব্যথা হয়ে গেল। জিরিয়ে নেয়ার জন্য কিছু বেঞ্চি বানিয়ে দেয়া হয়েছে অবশ্য পুবদিকে। সেখানে টয়লেটের সারিও আছে। তবু চার যুবক লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে খোলা জায়গায় দেয়ালমুখো হয়ে কাজ সারছে। পাশে ওয়াসার পানির চারখানা ট্যাঙ্কি। এই পানি তো পানের জন্য নয়! তার মানে বইমেলায় খিদে-পিপাসা পেলে তা মেটানোর কোন উপায় নেই। শীত যাই যাই করেও যাচ্ছে না। লেখক বন্ধু শামসেত তাবরেজি ও এনায়েত কবীর বারবার কফি খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। উপায়হীন সবাই। এক পাঠিকা প্রস্তাব করলেন, চলুন সবাই মিলে মহাপরিচালককে অনুরোধ করি যাতে এই মেলার ভেতরে অন্তত কয়েকটি কফি কর্নারের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। কলকাতা বইমেলা যেবার জ্যাক দেরিদা উদ্বোধন করেন, সেবার মেলায় দেখেছি খাবারের জন্য দীর্ঘ সব লাইন। একটি খাবার ঘর থেকে বইমেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল বড় ধরনের আগুন। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, সেজন্যে সতর্কতা গ্রহণই বাঞ্ছনীয়। মাথাব্যথার ভয়ে কেউ নিশ্চয়ই শিরñেদ চাইবেন না!

বইমেলায় লেখক-প্রকাশক-মেলাপ্রেমীদের বিপুল উপস্থিতি দেখে মনেই হচ্ছিল না তিনদিন ধরে চলা হরতাল বেড়েছে ৩৬ ঘণ্টা। ‘জার্নিম্যান’ প্রথমবারের মতো এসেছে মেলায়। পুরান ঢাকা নিয়ে মুনতাসীর মামুনের বইটির কভার দেখে মুগ্ধ হলাম। প্রকাশক-কবি তারিক সুজাত বললেন, সোনালি পাতের ওপর নকশা ডিজাইন করে প্রচ্ছদে যুক্ত করা হয়েছে। কাগজের ছাপায় যে সোনালি রং ফোটে না। আরেকটি বইয়ের কভারে দেখলাম সুতোয় বোনা সত্যি সত্যি গ্রামবাংলার পাখার খুদে সংস্করণ। গৃহসজ্জা ও জীবনচর্যা নিয়ে ঢাউশ সম্পূর্ণ রঙিন বইটি দেখে বলতেই হবে রীতিমতো আন্তর্জাতিক মানের প্রোডাকশন।

আকাশে দারুণ গোল চাঁদ দেখে একজন বললেন, আজ মাঘী পূর্ণিমা। তাই? তরুণ কবি শামীম আহমেদ জিতু এফবি স্ট্যটাসে লিখেছেন: ‘আজ কি পূর্ণিমা? বইমেলায় ঢুকেই গতকাল মন ভাল হয়ে গিয়েছিল। আকাশে বিশাল চাঁদ, মাটিতে-বালিতে চাঁদের আলোয় প্রেমের আভাসÑ এর চাইতে সুন্দর কি হতে পারে।’ ধুলায় নাক জ্বলছে। কেউ কেউ রুমাল বের করে নাকে ধরেছেন। এক ভদ্রমহিলা সত্যি সত্যি গান ধরলেনÑ এ শুধু গানের দিন, এ লগন গান শোনাবার। দেখলাম জোছনা-ধোয়া বইমেলার ভেতরে প্রচুর পুলিশ!

marufraihan71@gmail.com

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

০৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: