কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আয়নায় নিজের চেহারা দেখে শেখে বানর

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

মানুষ ও বনমানুষরা যেটা পারে রেসাস বানররা সেটা পারে না। তারা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে বুঝতে পারে না যে, ওটাই তাদের চেহারা এবং সেই চেহারা তাদেরই দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আয়নায় নিজের চেহারা দেখে বুঝতে না পারার অর্থ এই নয় যে, রেসাস বানররা শিখতে অপারগ। বরং দেখা গেছে এরা একবার আয়নায় নিজের চেহারা দেখা শিখে নেয়ার পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়নার ব্যবহার চালিয়ে গেছে। শুধু চেহারাই যে দেখছে, তা নয়। শরীরের যেসব অংশ তারা সাধারণত দেখে না, সেগুলো দেখার কাজেও তারা আয়না ব্যবহার করেছে।

বানরদের ক্ষেত্রে এই তথ্য আবিষ্কারের ফলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর আত্মসচেতনার স্নায়ুগত ভিত্তির ওপর নতুন আলোক সম্পাত হয়েছে। কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত এক রিপোর্টে চীনের বিজ্ঞান একাডেমির পেং গংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়Ñ ‘গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বানরের মস্তিষ্কে আয়নায় নিজের চেহারা চেনার মৌলিক হার্ডওয়্যার আছে। তবে নিজেকে চিনতে পারার সফটওয়্যার অর্জনের জন্য তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। গং বলেন, আগের গবেষণাগুলোতে বিজ্ঞানীরা একদম কচিরাস থেকে শুরু করে বছরের পর বছর ধরে বানরদের বিভিন্ন আকার ও আকৃতির আয়না যুগিয়ে এসেছিলেন। বানররা অন্যান্য বস্তু দেখার হাতিয়ার হিসেবে আয়নার ব্যবহার শিখতে পারলেও তারা যে আয়নায় নিজেদের চেহারা চিনতে পেরেছে তার কোন লক্ষণ কখনও দেখায়নি। গবেষকরা বানরদের চেহারায় বিভিন্ন ধরনের চিহ্ন একে আয়নায় তাদের সেই চেহারা দেখানোর পরও তারা সেসব চিহ্ন স্পর্শ করেনি বা পরখ করে দেখেনি কিংবা আয়নার সামনে এমন কোন আচরণ করেনি, যা ছোট বাচ্চারা হলেও করত।

নতুন গবেষণায় গং ও তাঁর সহকর্মীরা অন্য কিছু নিয়ে চেষ্টা করে দেখেন, তারা বানরদের আয়নার সামনে বসা এবং ওদের চেহারায় ঈষৎ বিরক্তিকর ধরনের লেসার আলো ফেলেন। এভাবে দুই থেকে পাঁচ সপ্তাহের প্রশিক্ষণের পরই বানরগুলো তাদের মুখম-লের দাগ দেয়া জায়গাগুলো স্পর্শ করতে শেখে, যা তারা আয়নার সামনে বসে অনুভব করতে পারত না। তারা পর্দার গায়ে ভিডিও ছবিতেও নিজেদের চেহারায় সেই দাগ বা চিহ্নগুলো লক্ষ্য করে। এভাবে তারা আয়নায় নিজেদের চেনার আদর্শ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে শিখে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেশিরভাগ বানর এমন ৭টির মধ্যে ৫টি আয়নার দ্বারা প্রভাবিত স্বনির্দেশিত আচরণের পরিচয় দেয়। যেমন মুখ বা কর্ণের সেই চিহ্ন বা দাগটা আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করা এবং তারপর আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে দেখা কিংবা সেটার ঘ্রাণ নেয়া। ব্যাপারটা এমন, যেন তারা এ জাতীয় কিছু বলছেÑ ‘আমার চেহারায় ওটা আবার কি?’ শরীরের অন্যান্য অংশ দেখার জন্যও তারা আয়নার ব্যবহার করেছে, যে কাজে গবেষকরা কোনভাবে প্রমোদিত করেননি।

বানরের ক্ষেত্রে গবেষণার এই ফলাফল সেই ব্যক্তির কাছে আশাব্যঞ্জক খবর হিসেবে এসেছে। যারা মানসিক প্রতিবন্ধ্যত্ব অটিজম, সিজোফ্রেনিয়া বা আলঝেইমার রোগের মতো মস্তিষ্কের বৈকল্যের কারণে আয়নায় নিজেদের চিনতে অপারগ। এই না চিনতে পারার ব্যাপারটা মস্তিষ্কের স্ব-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার অবধারণগত বা স্নায়ুবিক ঘাটতির কারণে উপরিল্লিখিত গবেষণার ফলাফল থেকে এমন সম্ভাবনা সহকারে হয়েছে যে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে।

সূত্র : সায়েন্স ডেইলি

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী ২০১৫

২৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: