মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রতিবাদের ভাষা গ্রাফিটি

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • ইশরাত রাহা

গ্রাফিটি আধুনিক চিত্রকলার একটি অনুষঙ্গ যা পাশ্চাত্যে অত্যন্ত প্রচলিত প্রতিবাদের ভাষা। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের দেয়াল লিখনের মতোই উন্নত বিশ্বে গ্রাফিটি ব্যবহৃত হয়। গ্রাফিটি একটি আধুনিক শিল্প যা ইউরোপ আমেরিকা ও উন্নত বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এসব দেশে ভ্রমণ কিংবা শিক্ষার সুযোগ যাদের হয়েছে গ্রাফিটি সম্পর্কে তাদের নতুন করে বলার কিছুই নেই। বরং পাতাল রেল, হাইওয়ে কিংবা ফ্লাইওভারের নানা অসাধারণ সব গ্রাফিটি মন্ত্রমুগ্ধ করে তাদের মানসপটে। উন্নয়নশীল দেশে গ্রাফিটি নতুন কোন বিষয় নয়। বর্তমানের স্যাটেলাইট যুগে ইন্টারনেট কিংবা সিনেমার বদৌলতে তারা অনেকেই এ সম্পর্কে অভিহিত। বাংলাদেশের কিছু অঞ্চল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প পরিসরে গ্রাফিটি চোখে পড়লেও তা এখনও শিল্পকর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। অপ্রতুল ফ্লাইওভার কিংবা পাতাল রেলের অনুপস্থিতি সম্ভবত এই শিল্প বিকাশে অন্যতম অন্তরায়। তবুও গ্রাফিটি সম্পর্কে আগ্রহ ও কৌতূহল সব তরুণের।

সাধারণত স্প্রে কিংবা মার্কার পেন অথবা তুলির সাহায্যেই এ ধরনের চিত্রশিল্পসমূহ দেয়ালে অঙ্কন করা হয়। সাধারণ হিপহপ কিংবা রক গানের মিউজিক ভিডিওতে গ্রাফিটির ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। এসব গানের ব্যাক গ্রাউন্ডে গ্রাফিটি ব্যবহার করা হয়। গ্রাফিটি আকার শুরুতে স্প্রে, মার্কার ও তুলির সমন্বয়ে এ তারার জন্ম হলেও বর্তমান যুক্ত হয়েছে ট্যাগ কিংবা ব্লক লেখার ব্যবহার। গ্রাফিটি শিল্পীরা বর্তমানে টু ডাইমেনশনের পাশাপাশি থ্রি ডাইমেনশনের নানা প্রযুক্তি এখন উন্নত বিশ্বে উদ্ভাবন করেছেন। গ্রাফিটির ইতিহাস বেশ পুরনো, গত শতাব্দীর ষাট দশকের শুরুতে কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রতিবাদের বিষয়বস্তুকে পুঁজি করে এই শিল্পের যাত্রা শুরু । পরবর্তীকালে বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড দল নিজেদের সীমানা জানান দিতে গ্রাফিটি ব্যবহার করে। তখন গ্রাফিটি বিষয়বস্তু তেমন একটা বিবেচিত হতো না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় প্রথম গ্রাফিটি লেখকদের যাত্রা শুরু হয়। কর্নব্রিড ও কুল আর্ল নামক দু’জন শিল্পী শহর দুটোর দেয়ালে দেয়ালে নিজেদের নাম লিখে রাখতেন। ধারণা করা হয়, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের মাঝে নিজের নাম পরিচিতির লক্ষ্যেই তারা এমনটি করতেন।

ইতিহাস বলে প্রথম পরিচিত গ্রাফিটি লেখকের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহার্টনে। নিউইয়র্ক টাইমস সর্বপ্রথম নিয়ে প্রতিবেদন করে।

ড্যামেট্রিয়াস নামক এক বালকের নিক ন্যাম হলো টাকি, পেশায় খাবার সরবরাহকারী এ কিশোর নানা অফিসে খাবার সাপ্লাই করতে ব্যবহার করত পাতাল রেল কিংবা ফ্লাইওভারের পথ। কাজের ফাঁকে অলস সময়ে নিজের শিল্প সত্তাকে তুলে ধরতে আঁকতেন নানা চিত্রকর্ম যা পরবর্তী সময়ে চিত্রশিল্পের হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই সংস্কৃতি পরবর্তী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর ছাড়িয়ে ইউরোপে বিস্তার লাভ করে। যেখানেই পাতাল রেল কিংবা অব্যবহৃত স্থাপনা তার দেয়ালে চোখে পড়ে রং বেরঙের নানা গ্রাফিটি।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন মুলুকের তরুণদের মাঝে যে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল তার প্রতিফলনও স্পষ্ট এই শিল্পে। প্রতিবাদের ভাষা ছিল তখন রক মিউজিক ও গ্রাফিটি। গ্রাফিটির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এসব শিল্পীর মাঝেও প্রতিযোগিতার শুরু হয়। স্প্রে মার্কার তুলির পাশাপাশি তখন ট্যাগের প্রচলন শুরু হয়। কারণ ট্যাগ ব্যবহার অনেক বেশি সহজ। ট্যাগ ব্যবহারে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন বেশ ক’জন শিল্পী। তখন স্বতন্ত্র ধারা ও স্টাইলের জন্ম হয়।

এরপর ট্যাগ স্কেল ও ব্লক ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তখন শিল্পীরা ব্লক অক্ষরের ভেতরে বাইরে দু’ধরনের রং ব্যবহার করতেন। পরে সফটি লেটারস ও বাবল লেটারস দু’-ধরনের লেটারের প্রচলন চালু হয়। গ্রাফিটি এখন দৃশ্য, কার্টুন, চরিত্র, ব্লক শব্দ নানা উপায়ে ব্যবহৃত হয়। প্রশাসনের নানা ওজর আপত্তির মুখেও রাষ্ট্র কিংবা সমাজের নানা অসঙ্গতি উঠে আসে গ্রাফিটি নামক এ সংস্কৃতিতে। যা আধুনিক তারুণ্যের দেয়াল লিখন হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃত।

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫

১৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: