হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শঙ্কায় ইউরোপ ও আমেরিকা

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী ২০১৫

তিনটি খবর। প্রথম খবরটি হলো ১১ বছরে সর্বোচ্চ পৌঁছেছে ডলারের মান। দ্বিতীয় খবরটি হলো ৯ বছরের মধ্যে ইউরো সর্বনিম্নে। তৃতীয় খবরটি হলো, মূল্যসঙ্কোচনে ইউরো অঞ্চল। এই তিনটি খবরের একটির সঙ্গে অন্যটির যোগসূত্র আছে। সেই যোগসূত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা রীতিমতো আমেরিকা-ইউরোপ নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন।

১৯৯৯ সালে ৪ জানুয়ারি ডলারের বিপরীতে ১ দশমিক ১৭৮৯ ডলারের বিনিময় মান নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ২০০৬ সালে ইউরোর মান ১ দশমিক ১৯ ডলার হয়েছিল। এরপর থেকে ইউরোর মান বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বমন্দার পর ইউরোর মান কমে যেতে থাকে। ৯ বছর পর ইউরোর মান এখন কমে ১ দশমিক ১৮ ডলার হয়েছে। জার্মানির ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অপ্রত্যাশিত নিম্নগতি, গ্রীসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা ইউরোর মান কমানোর ক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। ইউরো অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যর্থতা এই মুদ্রাটির মান কমিয়ে দিয়েছে বলে কোন কোন বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেছেন। মুদ্রার মান কমায় ভোগ্যপণ্যের দাম কমে গেছে। ফলে ২০০৯ সালের পর অর্থাৎ পাঁচ বছর পর ইউরো অঞ্চল মূল্যসঙ্কোচনের মুখোমুখি হয়েছে। ইউরোপের পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ইউরো অঞ্চলের ভোগ্যপণ্যের মূল্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তেলের মূল্য হ্রাসই প্রধান কারণ। ইউরো অঞ্চলের মূল্যসঙ্কোচনে শঙ্কিত অর্থনীতিবিদরা। তাদের শঙ্কা এই মূল্যসঙ্কোচন ইউরো অঞ্চল শ্লথগতিতে এগিয়ে যাওয়ার পথকেও কন্টকময় করে তুলেছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ জন্য এখন প্রণোদনা কর্মসূচী গ্রহণ করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই।

ডলারের মান বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এই বছরের মাঝামাঝিতে সুদের হার বাড়াতে পারেÑ এমন সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই সম্ভাবনার ওপর ভর করে ডলারের মান বেড়ে চলছে। বিশ্বের প্রথমসারির ১৬টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান বাড়ছে। ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ, যা গত সাড়ে ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইয়েনের বিপরীতে ডলার দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এছাড়া পাউন্ড ও সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ডলারের মান যথাক্রমে ৬ মাস ও ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমবাজারের উন্নয়ন, মার্কিন অর্থনীতি ভাল হওয়ার প্রত্যাশাও ডলারের মানের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ডলারের মান বৃদ্ধিতে বিদেশে দেশটির নাগরিকদের ভ্রমণ ব্যয় হ্রাস করবে। এছাড়া শেয়ার ও বন্ড বাজারে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে। তবে ডলারের মান বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে উঠছেন দেশটির অর্থনীতিবিদরা। কারণ যেসব দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান বাড়ছে সেগুলোর বেশিরভাগ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক অংশীদার। ফলে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং, পর্যটন ও আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রফতানি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে বোস্টনে ডিসিশন ইকোনমিস্টের প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদ এ্যালেন সিনাই বলেন, ‘ডলারের মান বৃদ্ধি মানে মার্কিন বাণিজ্যের জন্য দুঃসংবাদ। এ অবস্থায় রফতানি নির্ভরশীল ম্যানুফ্যাকচারাররা তাঁদের উৎপাদন খরচ কমাতে বাধ্য হবেন।’

এই তিনটি খবর বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা ২০১৫ সালের ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

ইয়াসিন আরাফাত

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী ২০১৫

১১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: