কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ট্রাইব্যুনাল দুটি থেকে একটি হচ্ছে

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুইটি থেকে একটি করা হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের শীর্ষ নেতাদের মামলা শেষ হবার পর জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আসামিদের মামলা আসছে; যা একটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমেই বিচার করা সম্ভব। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, শীঘ্রই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। অচিরেই আপনারা এটা দেখতে পারবেন। এতে মামলার বিচারের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না। অন্যদিকে আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে সমর্থন করে তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন পক্ষও বলেছে, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। একটি ট্রাইব্যুনাল হলেও তদন্ত বা বিচারে কোন বিঘœ ঘটবে না। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ১৫টি মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন দ- দেয়া হয়েছে। দুটি মামলা সিএভি রয়েছে। দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। পাঁচটি মামলার বিচার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত চলছে অর্ধশতাধিক মামলার। আপীলে চূড়ান্ত বিচার শেষে ১ জনের দ- কার্যকর করা হয়েছে। আরও একজনের মৃত্যুদ- বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ। শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে পাঁচটি মামলা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরাতন হাইকোর্ট এলাকায় গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সংখ্যা বাড়ায় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। দুইটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ১৬টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন ধরনের দ- দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফ বিচারের সময় মারা যান। যাদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা রয়েছেন ১১ জন, বিএনপির ৩ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন ও সাবেক আওয়ামী লীগের ১ জন। বর্তমানে দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু শীর্ষ নেতা হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান।

আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটিই করব। শীঘ্র এ বিষয়ে জানতে পারবেন। এর আগে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন দুইটি ট্রাইব্যুনালে যে কয়টি মামলা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে সেগুলোর রায় ঘোষণার পর একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার ও ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, চলতি মাসেই এ দুটি মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে। তার পর ট্রাইব্যুনালে আর কোন মামলা সিএভি থাকবে না। এর পর বাগেরহাটের তিন রাজাকার ও কিশোরগঞ্জের হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষী চলছে। আরও কয়েকটি মামলা বিভিন্ন স্তরে রয়েছে।

প্রসিকিউশন পক্ষের সিনিয়র প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী জনকণ্ঠকে বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল কয়টা থাকেবে এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। তদন্ত সংস্থা যে সমস্ত মামলার তদন্ত শেষে যে রিপোর্ট প্রদান করে, সেই মামলাগুলো আমরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করি। এখানে কয়টি ট্রাইব্যুনাল থাকল আর না থাকল সেটা মুখ্য বিষয় নয়। মামলা আসলেই আমরা আইনগত দিক বিশ্লেষণ করে তা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরি। একটি ট্রাইব্যুনাল হলেও কোন অসুবিধা নেই। উল্লেখ্য, এর আগে মামলার সংখ্যা বেশি হওয়াতে ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়েছিল। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে শীর্ষ পর্যায়ের কোন মামলা আসছে না। সে কারণেই আইন মন্ত্রণালয় একটি ট্রাইব্যুনাল রাখার পক্ষে।

এদিকে তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমাদের তদন্ত অব্যাহত থাকবে। আমাদের হাতে যে সমস্ত মামলা আছে তা তদন্ত শেষ হলে নতুন করে আরও মামলার তদন্ত শুরু করা হবে। আমরা একের পর এক মামলার তদন্ত করে যাচ্ছি। যেহেতু দীর্ঘ ৪২ বছর পর মামলার কাজ করতে হচ্ছে, সে কারণে আমাদের সব সময় সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক আসামির মৃত্যু হয়েছে। সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ভিকটিম ভারতে চলে গেছে। আবার অনেকে মারা গেছে। যারা বেঁচে আছেন তাদেরকেই যাচাই-বাছাই করে সাক্ষী করা হচ্ছে। তা ছাড়া ট্রাইব্যুনাল একটি হলেও আমাদের কোন অসুবিধা নেই। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল করতেই পারে। আমাদের হাতে এখনও অনেক মামলা আছে। সে তুলনায় এখনও জনবল পাইনি। ভবিষ্যতে মামলা আরও বাড়লে আবার ট্রাইব্যুনাল বাড়লে তখন সরকার আবার সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি, তদন্ত শেষ হলেই রিপোর্ট দিয়ে যাব। উল্লেখ্য,ম আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন হবার পর থেকে ্ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোট ৫৮৪টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে আসামি রয়েছে ৩২৩০ জন। এ সমস্ত অভিযোগ থেকেই তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে যাচ্ছে।

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী ২০১৫

১১/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: