কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দুঃসময় কাটিয়ে দুরন্ত ভন

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪
দুঃসময় কাটিয়ে দুরন্ত ভন
  • বিউটি পারভীন

ক্রীড়া আর ইনজুরি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কি তারকা লিন্ডসে ভনের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ইনজুরিটা এসেছিল গত বছর। সেই ইনজুরিটা সম্ভবত পয়মন্তই হয়েছে তাঁর জন্য। কারণ তাঁর এমন দুঃসময়ে বিশ্ব গলফ সম্রাট টাইগার উডস ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হয়েছেন। এখন দুই জগতের এ দুই তারকার হৃদয় মিলেমিশে একাকার। পরস্পরের জন্য অন্তঃপ্রাণ এ দু’জন। সম্প্রতিই ফ্রান্সের ভ্যাল ডি’আয়ারে দারুণভাবে ফিরেছেন ভন। আবারও বিশ্বকাপে টানা দুটি রেস জিতে নিজেকে পুরনো রূপেই আবির্ভূত করেছেন ৩০ বছর বয়সী এ সুন্দরী। আর সেজন্য উডসের অনুপ্রেরণা, সমর্থন ও পরামর্শকেই মূল উপজীব্য হিসেবে জানিয়েছেন তিনি। টানা দুই রেস জিতে দারুণ সুযোগ ছিল ভনের জন্য বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার। কিন্তু সুপার জি ইভেন্টে আর পারেননি সামান্য ভুলের জন্য। ছোঁয়া হয়নি বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৬২ রেস জয়ী সাবেক অস্ট্রিয়ার এ্যানিমেয়ার মোসার-প্রোয়েলকে। তবে সুযোগটা শেষ হয়ে যায়নি ২০১৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসে ইনজুরিতে পড়ার পর এই প্রথম দুটি জয়ের দেখা পাওয়া ভনের জন্য। আবার নিজের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন ভ্যাল ডি’আয়ারে সেটা কাজে লাগিয়ে অচিরেই ছুঁয়ে ফেলবেন এ্যানিমেয়ারকে সেটা প্রায় নিশ্চিত। তেমন প্রত্যয় জানিয়েছেন নিজেই। এখন তাঁর ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ৬১ রেস জয় আছে। শুধু এ্যানিমেয়ারকে ছোঁয়াই নয় বরং তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

২০১১ সালেও সার্বিক বিশ্বকাপ রেসে মাত্র ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন ভন। তাঁকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জার্মানির মারিয়া রেইশ। তবে পরবর্তীতে ভালভাবেই ফিরেছিলেন এ মার্কিন সুন্দরী। কিন্তু ক্যারিয়ারের বড় দুঃসময়টা সঙ্গী হয়েছে ২০১৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপস আসরে। অস্ট্রিয়ার শ্ল্যাডমিং। সুপার জি ইভেন্টে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলার সময় ভারসাম্য হারিয়ে মারাত্মকভাবে পড়ে যান। দারুণ আহত অবস্থায় তাঁকে বেশ দ্রুতই হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে। ডান হাঁটুর পুরোটাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর। দুটি পেশি ছিঁড়ে যায়। এছাড়াও পায়ের হাড়েও চিড় ধরা পড়ে। সে সময় তিনি ২০১৪ অলিম্পিকে অংশ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। নবেম্বরে আবার স্কি করা শুরু করেন। কিন্তু আবারও ছোটখাটো এক ইনজুরিতে পড়ে এ বছর সোচি শীতকালীন অলিম্পিকে আর অংশ নেয়া হয়নি। দুঃখটা সবসময়ই তাড়িয়ে বেড়িয়েছে ভনকে। এই দুঃসময়ে ছায়ার মতো তাঁর পাশাপাশি থেকে সাহস আর অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন কিংবদন্তি গলফার টাইগার উডস। প্রেমিক উডসের উষ্ণ বাহুবন্ধনে থাকতে থাকতে ক্রমেই নিজেকে আবার ফিরে পেতে শুরু করেন। আবার পায়ে পুরনো গতিও ফিরে পান। যার প্রমাণ এবার ফ্রান্সের ভ্যাল ডি’আয়ার বিশ্বকাপ রেস।

অলিম্পিকে প্রথম অংশ নিয়েই ২০১০ সালে ভ্যানকুভারে বাজিমাত করেন ভন। ডাউনহিল ইভেন্টে ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই ভনের দাপট ছিল। সেটা তিনি করে দেখিয়ে স্বর্ণ জয় করেন। যদিও ভ্যানকুভার অলিম্পিকের সুপার জি ইভেন্টে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাঁকে। অথচ আগের বছরই (২০০৯) ভ্যাল ডি’আয়ারে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসে তিনি সবাইকে পেছনে ফেলে ডাউনহিল এবং সুপার জি উভয় ইভেন্টেরই রানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আর ২০০৭ সালে উভয় ইভেন্টে রৌপ্য জিতে বিশ্বের অন্যতম সেরাদের কাতারে নিজের নামটাও জুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের বিশ্ব আসরে সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি। গারমিশে অনুষ্ঠিত আসরে শুধুমাত্র ডাউনহিলেই রৌপ্য জিতেছিলেন। এ ইভেন্টে তিনি এতটাই দক্ষ ও গতিময় যে বর্তমানে বিশ্বকাপের সার্বিক ফলাফলে তাঁর চেয়ে এগিয়ে থাকা সেøাভেনিয়ার টিনা মেজ, অস্ট্রিয়ার এলিজাবেথ গোয়ের্জল ও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আনা ফেনিঙ্গারও পাত্তা পাননি। ভ্যাল ডি’আয়ারে সর্বশেষবার ২০০৯ সালে ডাউনহিল আর সুপার জি উভয় ইভেন্টেই সেরা ছিলেন। ৫ বছর পর সেখানে ফিরে অবশ্য আগের ফলাফলটা ধরে রাখতে পারেননি ভন। কিন্তু দারুণভাবে এবার ভ্যার ডি’আয়ারে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে ভনের। টানা দুই রেস জয়ের পর তাই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি সব সময় চিন্তা করেছি যদি খুব বড় ধরনের ভুলও করি সেক্ষেত্রেও লড়াই চালিয়ে যাব এবং সেজন্যই সফল হয়েছি। আমি জানতাম এখানে আমি জিতবই। এটা তাঁদের জন্য একটা ঘোষণা যে, আমি আগে যেখানে ছিলাম ঠিক সেখানেই প্রত্যাবর্তন করছি। দুটি কঠিন বছর পার করে এমন এক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’

সত্যিই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল বিশ্ব স্কি জগতের অন্যতম এ নক্ষত্রের। তাইতো বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না ওই গোয়ের্জল আর ফেনিঙ্গারের কারণে। তাঁদের কাছে হেরে গেছেন সুপার জি নিয়ে মনের কোণে কোথাও একটা ভীতিকর স্মৃতি থাকায়। সামান্য ভুল তাঁকে পিছিয়ে দিল। কিন্তু এবার হারলেও সন্তুষ্টি জানিয়ে নতুন কিছু উপহার দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন ভন। তিনি বলেন, ‘আমার যতটা ক্ষিপ্রতা আছে সেটা আমি পারিনি। আমি কিছুটা ক্লান্ত এখন। আগের দিনটা দারুণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং আজকের জন্য অনেক বেশি শক্তিমত্তার প্রয়োজন ছিল যার ঘাটতি ছিল আমার মধ্যে। শীর্ষপর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় আমি অনেক ভাল স্কি করতে পেরেছি এবং আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়েই করেছি। কিছু বিষয়ে আমি একটু ভুল করেছি এবং ঠিকমতো গেটে পৌঁছতে পারিনি। তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে আমার হাঁটু এখন বেশ ভাল অবস্থায় আছে। আর ক্রিসমাসের জন্য আমি বাড়ি ফিরতে পারছি প্রশস্ত হাসি নিয়েই।’ এখন আগামী অলিম্পিকের দিকে দৃষ্টি তাঁর। সেটার আগেই নিজেকে আরও গুছিয়ে তুলে বিশ্বসেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ভনের।

প্রকাশিত : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪

২৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: