রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আমার দেখা বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪
  • মো ঃ আমির হোসেন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

সোনারগাঁ

সোনারগাঁর কথা শুনলেই প্রাচীন বাংলার কথা মনে পড়ে। পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, উত্তরে ব্রহ্মপুত্র এবং দক্ষিণে ধলেশ্বরী। চার দিকেই এই চারটি নদী দ্বারা বেষ্টিত সোনারগাঁ। এখানে যেমন আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তেমনি আছে প্রাচীন ঐতিহ্যের বিরল স্মৃতি। ১৩৩৬ সালে ফখর উদ্দিন মোবারক শাহ এর আমলে সোনারগাঁ বাংলার রাজধানী হিসেবে মর্যদা লাভ করে। সোনারগাঁর পূর্ব নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। শাহ বংশের শাহরা দীর্ঘ ১৬১০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন। মোগল আমলে ইসলাম খাঁর আমলে রাজধানী সোনারগাঁ থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন। এতে সোনারগাঁর গুরুত্ব লোপ পায়। এখানে প্রাচীন আমলের অনেক দালানকোঠা আছে। তবে এগুলো অক্ষত নয়। পুকুর ঘাটের পাশে দুটি ঘোড়ার প্রতিকৃতি দেখার মতো। সোনারগাঁর ঐতিহাসিক অঞ্চল হলো পানামনগর। এই অঞ্চলে রাস্তার দুই ধারে পরিখা দ্বারা বেষ্টিত ছোট ছোট ইটের তৈরি ইমারত। এই ইমারতগুলো প্রাচীনকালের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে আছে পানাম ব্রিজ। এটি পঙ্খীরাজ খালের ওপর নির্মিত একটি পুরান স্থাপত্য। এখানে আছে একটি নীলকুঠি এবং পিয়াস উদ্দিন আজম শাহ্র মাজার। সোনারগাঁর আরেকটি আকর্ষণ হলো- লোক ও কারু শিল্প জাদুঘর। এই জাদুঘরে আছে অনেক মূল্যবান নিদর্শন। এই জাদুঘরে আছে ১১টি গ্যালারি। প্রত্যেক গ্যালারি ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিস নিয়ে সাজানো। নিপুণ কাঠ খোদাই গ্যালারি, লোকজ জীবন ভিত্তিক গ্যালারি, পটচিত্র গ্যালারি, নৌকার মডেল গ্যালারি, বাদ্যযন্ত্র ও লোহার তৈরি জিনিসের নিদর্শন। তামা কাঁসা পিতল ইত্যাদির বহু নিদর্শন। আরও আছে বাঁশ বেত ও শীতল পাটির গ্যালারি। সোনারগাঁর আরও আকর্ষণীয় হলো বর্তমান সময়ের তৈরি করা শিল্প গ্রাম। এটির আরেক নাম লোক শিল্প গ্রাম। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ধারার বর্ণনায় সাজানো এই বিরল কারু শিল্প গ্রাম। আমাদের লোক শিল্প, লোক সংস্কৃতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মননশীলতা। গ্রামের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং কর্মরত কারু শিল্পীদের জীবন ধারা ইত্যাদি। একটি গ্রামের অবিনশ্বর রূপের প্রতিস্থাপন ঘর বাড়ি নদী নালা, খাল, বিল, লেক পুকুর, গাছপালা, গ্রামের মানুষের প্রবহমান জীবনচক্র এই সব নিয়েই সাজানো এই গ্রাম। গ্রামের ঘরগুলো সবই পাকা কিন্তু ঘরগুলো এমনভাবে তৈরি দেখলে মনে হবে এইগুলো বুঝি পাতার চানি দেয়া কাঁচাঘর। সোনারগাঁর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এখানে প্রচুর লিচু গাছ আছে। তাই এটাকে লিচুর গ্রাম বললেও অত্যুক্তি হবে না। সময় করে একবার ঘুরে আসুন সোনারগাঁ। এখানে আসলে আপনার চঞ্চল মন শান্ত হয়ে যাবে।

ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদের নাম শোনে নাই এমন লোকের সংখ্যা বাংলাদেশের খুব কমই আছে বলে আমার বিশ্বাস। এই ঐতিহাসিক মসজিদটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। আসলে এই মসজিদটির গম্বুজের সংখ্যা হলো ৭৭টি। কিন্তু কি কারণে এর নাম হয়েছে ষাট গম্বুজ মসজিদ তা কেউ বলতে পারে না। ১৪শ’ শতকে খান জাহান আলী নামে এক ধর্মভীরু ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাই মসজিদটির সাথে খান জাহান আলীর নাম জড়িয়ে আছে। এই মসজিদটির আশপাশে আরও কয়েকটি মসজিদ আছে এইগুলো হলো এক গম্বুজ মসজিদ। কুসম্বা মসজিদ ইত্যাদি। এখানে আছে সুলতানী আমলের কবরস্থান। মসজিদের পশ্চিম পাশে একটি কবর। এই কবরটি বর্তমান সময়ের কবরের চাইতে প্রায় দ্বীগুণ হবে। পাশেই আছে একটি বিরাট দীঘি। বর্তমানে দীঘিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে ২ কিঃ মিঃ দূরে রয়েছে খান জাহান আলীর মাজার। মাজারে কয়েকজন প্রতারক আছে। মাজারের পাশেই রয়েছে সেই আমলের তৈরি একটি মসজিদ। আরও রয়েছে বিরাট আকারের একটি দীঘি। দীঘির মধ্যে আছে ২টি কুমির। তবে কুমিরগুলো সব সময় দেখা যায় না। মাজারে সব সময়ই ২/৩ জন প্রতারক থাকে। এরা নানা কৌশল করে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। তারা সাধারণত ধর্মীয় দোহাই দিয়ে এ কাজ করে থাকে। (চলবে)

প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর ২০১৪

০৭/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: