কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রিও অলিম্পিকে চমকের অপেক্ষায় ফেলপস

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • মাহমুদা সুবর্ণা

মাইকেল ফেলপস জল দানব হিসেবে পরিচিত। অথচ বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেলপসের প্রেমিকা টেইলর লিয়ানে স্যান্ডলার জন্মেছিলেন ছেলে হয়ে। হ্যা, এমন বিস্ময়কর এ তথ্যটি নিজেই জানিয়েছেন ফেলপসের প্রেমিকা। সম্প্রতি স্যান্ডলার তার সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক পেজে এমন চমকপ্রদ তথ্যটি জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন শৈশ্ববে তাঁর নাম ছিল ডেভিড রয় ফিচ।

কিশোর বয়সে ডেভিড আইনানুগভাবে তার নাম পরিবর্তন করেন এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জননাঙ্গ পরিবর্তন করেন। এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমি কখনোই পুরুষ ছিলাম না এবং পুরুষের মতো জীবনযাপনও করতাম না। কেউ বলতে পারবে না যে আমি তাদের সঙ্গে কখনও ছেলেদের মতো আচরণ করেছি। কিছু মানুষ আছেন যারা আমাকে কামোত্তেজিত শিশু হিসেবে চিনতেন। কারণ সেই সময়টা আমার জন্য খুবই ভয়াবহ ছিল। ফেলপসের সঙ্গে সময় কাটালে আমার মনে হয় আমি যেন তরুণী বয়সের প্রেমের মধ্যে আছি।’ এর আগে ন্যাশনাল এনকুইরা নামের একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া সাক্ষাতকারে টেইলর লিয়ানে ফেলপসের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে মাইকেল ফেলপসের পক্ষ থেকে টেইলরের ব্যাপারে কোনো কিছু এখন পর্যন্ত বলা হয়নি। টেইলর তার পেছনের জীবনের কোন কথাই ফেলপসের কাছে লুকাননি বলেও ম্যাগাজিনটির কাছে স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ যখন ম্যারিল্যান্ডের বাল্টিমোর থেকে মাইকেল ফেলপসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তখনও তার সঙ্গেই ছিলেন টেইলর।

পুলে নামাই মানে মাইকেল ফেলপসের ঝড়। ক্রীড়াজগতের মহাযজ্ঞ অলিম্পিকের আসরে সব মিলিয়ে ২২টি পদক আগেই জিতেছেন তিনি, যার মধ্যে ১৮টি সোনা। দুটিই বিশ্ব রেকর্ড, এছাড়া আরও অনেক রেকর্ডের পাশে লেখা তাঁর নাম। এক অলিম্পিকে সবচেয়ে বেশি আটটি সোনা জিতেছেন তিনি, পুরুষ অ্যাথলেটদের মধ্যে অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে সবচেয়ে বেশি ১১টি সোনাসহ সবচেয়ে বেশি ১৩টি পদকও তার দখলে। এত কিছু জেতার পর আর কী জেতার বাকি থাকে? টানা তিন অলিম্পিকে সেরা এ্যাথলেটের স্বীকৃতি জিতে ২০১২ সালে তাই অবসর নিয়ে বসেছিলেন তিনি। তার বয়স তখন মাত্র ২৭। যে বয়সে অন্য অনেকের ক্যারিয়ার শুরু, সেই বয়সে রেকর্ডের চূড়ায় উঠে সাঁতার পুলকে বিদায় জানিয়েছিলেন ‘বাল্টিমোর বুলেট’।

সেই ছোট্টবেলা থেকে যে পুলের নীল জলে সাঁতার কাটতে কাটতেই বড় হয়েছেন, উঠেছেন খ্যাতির চূড়ায়, সেই পুলের মায়া কি আর এত সহজে কাটানো যায়? বিশেষ করে শরীরটা যদি থাকে নতুন লড়াইয়ে নামার জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত। দুই বছর যেতে না যেতেই তাই অস্থির হয়ে ওঠে তার মন, তিনি ঘোষণা দেন আবারও ফিরবেন পুলে। ফেরার অভিজ্ঞতাটা সবার জন্য সুখকর হয় না। চোখের সামনে বড় উদাহরণ হয়ে আছেন তারই সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান থর্প। অবসর ভেঙ্গে ফেরার পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি আগের ‘থর্পেডো’কে। তবু ঝুঁকিটা নিলেন মাইকেল ফেলপস। আর নিলেন বলেই তো এখন মনে হচ্ছে, ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকও হয়ত এ্যাথেন্স, বেজিং আর লন্ডনের মতো রাঙ্গাবে ফেলপসের সাফল্যের আবিরে।

২০০২ সালে প্যান-প্যাসিফিক সাঁতার দিয়ে বিশ্বের দরবারে আগমনীবার্তা পৌঁছে দেয়ার পর ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকেই জিতেছিলেন ছয়টি সোনার পদক! এরপর ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে তো প্রায় অসাধ্যই সাধন করে বসলেন, মার্ক স্পিৎজের অর্ধশতাব্দী পুরনো রেকর্ড ভেঙ্গে আটটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সোনার পদক জিতলেন আটটিতেই। লন্ডন অলিম্পিকটা সে তুলনায় একটু খারাপই কেটেছে বলা যায়, আট সোনার কীর্তির পুনরাবৃত্তি হয়নি।

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪

০৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: