আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফাঁসি কবে

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের দ- কার্যকর কবে? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব মিলছে না। এ কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর দ- কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- কার্যকর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর নাকি সংক্ষিপ্ত রায়েই দ- কার্যকর সম্ভব- এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। এছাড়া রায় রিভিউ নিয়ে চলমান বিতর্কের সমাধান মেলেনি এখনও। দুই পক্ষ থেকেই এ দুই বিষয়ে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্ন মত।

কাদের মোল্লার রায় বাস্তবায়নের সময়ই রিভিউ নিয়ে প্রথম জটিলতা দেখা দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের সুযোগ চান কাদের মোল্লা। পাশাপাশি রায় রিভিউ করে খালাসও চান তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আপীল বিভাগ কাদের মোল্লার পক্ষে করা দুটি আবেদনই একসঙ্গে খারিজ করে দেন। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনও প্রকাশিত না হওয়ায় এ ধরনের মামলায় রিভিউ চলবে কিনা, সে অস্পষ্টতা এবারও কাটেনি। তবে আশা করা হচ্ছে এসব বিতর্কের সমাধানে খুব শীঘ্রই কাদের মোল্লার রিভিউ সংক্রান্ত আপীল বিভাগের রায়টি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি নয় সংক্ষিপ্ত রায়েই কামারুজ্জামানের দ- কার্যকর সম্ভব, বুধবার এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এমন বক্তব্য দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, দ- কার্যকর সংক্ষিপ্ত না পূর্ণাঙ্গ রায়ে হবে এর সিদ্ধান্ত আপীল বিভাগই দেবে। তিনি বলেন, আমার মত হচ্ছে সংক্ষিপ্ত রায়েই দ- কার্যকর করা যাবে। তবে এ বিষয়ে আপীল বিভাগই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন।

এর আগে বুধবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় নয় সংক্ষিপ্ত রায়ের লিখিত কপি থেকেই রায় কার্যকর করা যাবে। দ- কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কর্তৃত্ব বহির্ভূত বলে দাবি করেছেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করার পর তার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ দাবি জানান।

সাবেক শিবির নেতা শিশির মনিরসহ চার আইনজীবী সকাল সোয়া ১০টায় কারাগারে প্রবেশ করেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর বেরিয়ে এসে শিশির মনিরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, এ্যাডভোকেট মশিউল আলমও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনও সকালে কারা ফটকে যান।

শিশির মনির বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশনের আবেদন করা হবে। সেই রিভিউ পিটিশনের পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আসবে। যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাজা হলেও কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার সুযোগ আছে দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ১০৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিভিউয়ের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদনের প্রসঙ্গও টানেন শিশির মনির।

গত বছর জামায়াতের আরেক সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার রায় বাস্তবায়নের সময়ই রিভিউ নিয়ে প্রথম জটিলতা দেখা দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের সুযোগ চান কাদের মোল্লা। পাশাপাশি রায় রিভিউ করে খালাসও চান তিনি। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আপীল বিভাগ কাদের মোল্লার পক্ষে করা দুটি আবেদনই একসঙ্গে খারিজ করে দেন। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখনও প্রকাশিত না হওয়ায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ দুই রকম দাবি করে আসছে।

এর আগে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা বুধবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করলে এই জামায়াত নেতার দ- কার্যকর নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। তবে কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, এটাকে শেষ দেখা ভাবছেন না তারা।

এর কয়েক ঘণ্টা পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আপীল বিভাগ যেহেতু ট্রাইব্যুনালের সাজাই বহাল রেখেছে, সেহেতু দ- কার্যকরে আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তারপর নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত একটা রায় (আব্দুল কাদের মোল্লার রায়) আছে, যেখানে রিভিউ পিটিশন ডিসমিসড হয়ে রায় কার্যকর হয়েছে। আমাকে সেটা ধরে নিয়ে রায় কার্যকর করার প্রস্তুতির আদেশ দিতে হবে। আমি সেই আদেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে বলব, ফাঁসির রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেয়ার, সেগুলো নেয়ার জন্য। তার ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করে শিশির মনির বলেন, এটা তিনি আইনের কর্তৃত্ব বহির্ভূত কথা বলেছেন। এর ব্যাখ্যায় এই আইনজীবী বলেন, এখনও রায়ের শর্ট অর্ডার বের হয়নি। বিচারপতিদের সিগনেচার সম্বলিত কোন অর্ডার কারও কাছে পৌঁছায়নি। সুপ্রীমকোর্টের রুলসে আছে রিভিউ আবেদনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সংযুক্ত করতে হয়। আর দেশের সব নাগরিকেরই ‘রিভিউয়ের’ সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধের দায়ে একাত্তরে আলবদরের ময়মনসিংহ জেলা শাখা প্রধান কামারুজ্জামানকে গত বছরের ৯ মে মৃত্যুদ- দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার আপীল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখেন। শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার দায়ে আপীল বিভাগের চার বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে আসামি কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তবে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ- প্রদানের বিষয়ে এক বিচারপতি ভিন্নমত প্রকাশ করেন। পরে সখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-ই বহাল রেখেছেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ।

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

০৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: