কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

গল্প কবিতার মায়াবী প্রাঙ্গণ

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫
  • মাহবুব রেজা

অনুপ্রাণন। শিল্প-সাহিত্যের ত্রৈমাসিক। নিয়মিতই বের হচ্ছে। প্রকাশকাল থেকে এই ত্রৈমাসিক তার নিজস্বতার পরিচয় ধরে রেখেছে। বিষয় বৈচিত্র্য আর নবীন-প্রবীণের সৃষ্টিশীল লেখা প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অনুপ্রাণন এগিয়ে চলেছে তার গন্তব্যে। এই গন্তব্যে যাবার পথ বন্ধুর জেনেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবেই চাচ্ছেন তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে যেতে। এরই ধারাবাহিকতায় অনুপ্রাণনের পথচলা। শুধু ত্রৈমাসিকেই তাদের পথচলা সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রকাশনায় যুক্ত হয়েছে তাদের বহুমাত্রিকতা।

অনুপ্রাণনের সর্বশেষ (মে-জুলাই ২০১৫) সংখ্যাটি বেরিয়েছে। সংখ্যাটি হাতে নিলেই অনুমিত হয় যে, প্রকাশনার দিক দিয়ে অনুপ্রাণন বেশ রুচিবান ও সমৃদ্ধ। বিজ্ঞাপন স্বল্পতা বড় দাগে ধরা পড়ে কিন্তু তাতে তার মানের এতটুকু কমতি নেই। তবে বাজার অর্থনীতির এই দুঃসময়ে বিজ্ঞাপনের এই স্বল্পতা একটি কাগজকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ভাবনা হিসেবে দেখা দেয়। আশা করি অনুপাণনের ক্ষেত্রে সেটা ঘটবে না। অনুপ্রাণনের বর্তমান সংখ্যাটি বেশ কয়েকটি কারণে গুরুত্বের দাবি রাখে। সাম্প্রতিক সময়ের জন্য কাক্সিক্ষত বেশকিছু রচনা এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূচীপত্রের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে দেখতে পাই শ্রদ্ধাস্মরণ, প্রবন্ধ, নির্বাচিত কবি, গল্প, একক কবিতা, যুগল কবিতা, বই আলোচনা, ম্যাগ আলোচনা, ধারাবাহিক পাঠ ও ধারাবাহিক উপন্যাস।

সদ্যপ্রয়াত গল্পকার কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়, গুন্টার গ্রাস ও টমাস ট্রান্সট্রোমারকে নিবেদিত শ্রদ্ধা ও স্মরণে তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে নানা মাত্রিকতায়। বাংলা সনের উৎস সন্ধানে ও ধ্বনিবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই প্রবন্ধে প্রবন্ধকারদ্বয় নিজেদের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। ১৮টি গল্প বহু ব্যঞ্জনা দৃশ্যচিত্র ও বিষয়ের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পাঠকের প্রত্যাশা কিংবা চাহিদার ষোল আনা হয়ত এসব গল্পে অনুপস্থিত তারপরও একটি কথা না বললে বেখাপ্পা শোনাবে যে, গল্পের এই দুর্ভিক্ষের দিকে একসঙ্গে এতগুলো তরতাজা গল্পের উপস্থাপনÑ এটা সত্যিই লোভনীয়, একই সঙ্গে ঈর্ষণীয়ও বটে। দীপু মাহমুদের গ-ি, রুখসানা কাজলের মায়ানারী, শাহ ইমতিয়াজের মুখাবয়র, সাঈদ হোসেন দারার পালাবদল, শিবশঙ্কর পালের ভয় পাওয়া মানুষের গল্প পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। পাঠককে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে।

অনুপ্রাণন গল্পকারদের পাশাপাশি কবিদের প্রতিও যে সমান পক্ষপাত দেখিয়েছে তারও প্রমাণ মেলে। একক কবিতায় ১৪ জন ও যুগল কবিতায় ১০ জন কবিকে তুলে ধরা হয়েছে। একক কবিতায় ফেরদৌস নাহার, হুমায়ুন কবির, জাফর সাদেক, আনোয়ার কামাল আর যুগল কবিতায় সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, জামিল জাহাঙ্গীর, নাজমীন মর্তুজা, শাহনাজ বিথীর কবিতায় নতুন ভাবনা, ভিন্ন চিন্তার খোরাক মেলে। অনায়াস পাঠ্য কবিতায় মন কাড়ে।

এ সংখ্যার অনুপ্রাণনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্বাচিত কবি। এ অংশে দেশের খ্যাতনামা কবিদের পাশে নবীনরাও রয়েছেন। নির্বাচিত কবি হিসেবে স্বদেশ রায়, কামরুল ইসলাম, পরিতোষ হালদার, সুমী সিকানদার, ফারাহ সাঈদ ও অরবিন্দ চক্রবর্তী তাদের কবিতায় নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্প ভাবনার স্বরূপ এঁকেছেন। নিজেদের সাহিত্যভাবনা, শিল্পচিন্তা, স্বদেশ চেতনা ও পারিপার্শ্বিকতার কথাও খোলামেলাভাবে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচিত কবি অংশে স্বদেশ রায় তাঁর কবিতা নিয়ে বলতে গিয়ে যথার্থই বলেছেন, ‘কৈশোরে, তারুণ্যে যেগুলো আসত সেগুলো আরও একটা বাড়তি সঙ্কোচ এনে দিত। মনে হতো, এ কথা তো এর থেকে চমৎকারভাবে, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, জীবনানন্দ দাশ, ইয়েটস বলে গেছেন। তাই তারই দুর্বল প্রকাশ রেখে লাভ কী।’ একই সঙ্গে কবিতা নিয়ে তিনি তাঁর আপন অনুভূতির কথাও উল্লেখ করেছেন এই বলে, ‘... জীবনের ওই যন্ত্রণার বোধটাই মনে হয় কবিতা। তাই কখনো কখনো মনে হয়, সাধারণ বয়ে চলা নিরন্তর জীবনের কিছু কিছু আলাদা মুহূর্ত আছে- যা কবিতা।’ নির্বাচিত কবি অংশে ছয় কবি তাদের কবিতা ও বক্তব্যে পৃথক পৃথকভাবে মেলে ধরেছেন নিজেদের কবিতার দিগন্ত বিস্তৃত ভুবন। কবিদের রচনার ভেতর দিয়ে পাঠক নিজেদের অপ্রকাশিত অনুভবের স্পর্শ পাবেন।

অনুপ্রাণনের অগ্রযাত্রা এভাবেই প্রবহমান থাকুক। সামনের সংখ্যাগুলো প্রকাশনা মান ও রচনা বৈচিত্র্যে আরও সমৃদ্ধ হোক।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: