আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বদেশ রায়-এর ৩ টি কবিতা

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

গুহাশব্দ

চেনা মানুষগুলো সবই অচেনা হয়ে যাচ্ছে

এখন আমি বিকেলে কার কাছে যাবো- সুশান্ত?

কোথায় গিয়ে বলবো- দাও এক কাপ গরম চা-

তোমাদের চলছে কতক্ষণ?

সুশান্ত! আমি কি সারাদিন ঘরে বসে থাকবো

চার দেয়ালে- এসির হাওয়া- মাঝে মাঝে

দূরে চলে যাওয়া লরির হর্ন

সুশান্ত! এই সব গদ্যই কেবল?

তুমি এখন কী কর সুশান্ত?

তুমি কি কপালে পরেছ টিপ?

তোমার বুকে কি দারুণভাবে বিঁধেছে শাদা তীর?

না, তুমি তো মিলিব্যান্ড নও।

হেনরি এখন কেবল ব্যস্ত ব্লগে

এবরসনে চলে যাওয়া ঈশ্বরপুত্রদের

জন্যে ব্যথাতুর হৃদয়ে। যেন জাবালির ঘাড়ে

দায় পড়েছে অপোগ-দের ভবিষ্যতের।

আমি যেন কেমন হারিয়ে যাচ্ছি সুশান্ত

সাগরের ঢেউগুলো ছাড়া কাছে পিঠে

কেউ কি আর নেই আগের মত?

আকাশের তারারা তো অনেক দূরে

ওরা কাছে আসে না-

সুশান্ত! আমাকে একটি তারা করে দেও না

নিঃসঙ্গ তারার তবু আলো আছে

আমি কোথায় যাবো সুশান্ত?

বোধিরেখা

ঘৃণা করে একা হয়ে যাবো তবু নষ্টে মেলাবো না বুক

নষ্টের ক্ষত কেন নেবে বুকে- বহতা নদী

স্রোত যার ছন্দ তোলে চাঁদ গায়ে মেখে।

মাছিদের দারুণ পছন্দ নষ্টের গন্ধ, মাছির

রাজত্বে নষ্টের মূল্য কেবলই বাড়ে

প্রজাপতি, পাখি তখনও সুর তোলে দূরে

নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল সুরভিত ফুলে ফুলে।

মানুষ নয়- পাখি হবো, তাও না পারি প্রজাপতি এক-

অতি ক্ষণকাল জীবন লেখা-

রাজ প্রতাপের বাইরে অনেক দূরে, প্রিয়ার চোখেরও

আড়ালে- কোন এক চড়ার কূলে ফোটা ফুলে

ঘুরে ঘুরে কেটে যাবে সূর্যের সারাদিনের আলোটুকু

সন্ধ্যার নরম আলোয়- বুকে শত শত ফুলের আলিঙ্গন

তারপর নামবে অন্ধকার, সুরভিত ফুলের গন্ধ বুকে

নষ্ট নয়, প্রতাপ নয়- সুবাসিত হৃদয়ে

দিগন্ত রেখার শেষ প্রান্তে মিশে যাবে কোন এক

জীবন- আলো নয়, অন্ধকার নয়, শুধু এক

একাকী- একাকী জীবন।

কষ্ট নয়, নষ্টের গন্ধ নয়, নয় মাছিদের ভন ভন

বিনীত উজ্জ্বল সূর্যরশ্মি রেখা আর প্রশান্ত জলধি

এক বোধিরেখা- সঙ্গী যেন গভীর নিস্তব্ধতার

পাহাড় নয়- নুড়ি নয়- জল নয় -কেবল ছন্দ এক

খেলা করে, খেলা শেষে আলো নয়, অন্ধকার নয়

কোন এক দিগন্ত রেখায় মিশে যায়।

অচেনা

তোমার বুকের গভীরের এ অবিনাশী শব্দ

কোন মহালগ্ন থেকে ভেসে আসে-

গর্জন নয়, কল্লোল নয়, নয় ঢেউয়ের উন্মাতাল করতালি

মাতা-না বধূ -না প্রেমিকা- কার কণ্ঠধ্বনি!

নাকি আহ্বান জন্মের বা নবজন্মের; জানায় এলোচুলে দেবী

কী তোমার শরীরের ছন্দে - মুদ্রা কোন নৃত্যের, সৃষ্টির

না কেবলই ছুটে চলা এক দেহবল্লরী!

জন্ম-যন্ত্রণাময় তপ্ত সময়ের গভীর অন্ধকারে কেউ কি

একাকী শুনেছিলো তোমার প্রথম আহ্বান!

সে শব্দের অনুকণা এখনও কি আছে মিশে

জরা নয়, মৃত্যু নয়- শুধু তোমার খেলায়!

প্রকাশিত : ৫ জুন ২০১৫

০৫/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: