মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ম্যাগি নুডলস নিয়ে বিতর্ক আরও ছড়াচ্ছে ভারতে

প্রকাশিত : ৩ জুন ২০১৫, ০৮:১৫ পি. এম.

অনলাইন ডেস্ক ॥ বহুজাতিক সংস্থা নেসলের তৈরী জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট নুডলস – ম্যাগি নিয়ে ভারতে বিতর্ক আজ আরও ছড়িয়েছে।

আজ দিল্লি সরকার বলছে, তারা ওই নুডলসটির যে নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে, তাতে মাত্রাতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে।

দিল্লি, কেরালা আর কর্ণাটকের সরকারী দোকানগুলি থেকে ম্যাগি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব রাজ্যই বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করাচ্ছে।

কয়েকটি বড় ভোগ্যপণ্য সংস্থাও তাদের বিপনীগুলিতে ম্যাগি বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

অন্যদিকে গোয়া সরকার বলছে তারা ম্যাগির নমুনা পরীক্ষা করিয়ে মাত্রাতিরিক্ত সীসা বা এম এস জি পায় নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে তারা এখনও গবেষণাগারের রিপোর্ট পায় নি।

তবে আজ দিল্লির স্বাস্থ্য মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানান যে তাঁরা পরীক্ষাগারের রিপোর্ট পেয়েছেন।

মি. জৈনের কথায়, “তেরোটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর মধ্যে দশটিতেই অতিরিক্ত মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে। আজ একটা বৈঠক ডাকা হয়েছে – তারপরেই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে। ওই বৈঠকে নেসলের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়েছে।“

ম্যাগির বিজ্ঞাপন করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, মাধুরী দিক্ষিত আর প্রীটি জিন্টা – এঁদের বিরুদ্ধে বিহারের একটি আদালত যেমন নোটিস পাঠিয়েছে মানুষকে ভুল বোঝানোর দায়ে, অন্যদিকে তাঁরা জনসমক্ষেও সমালোচিত হচ্ছেন।

সীসা বা এম এস জি অর্থাৎ আজিনোমোটো শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে? চিকিৎসক দিব্যেন্দু হালদার বলছিলেন, “সীসা অত্যধিক পরিমানে শরীরে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই কিডনি বিকল হয়ে মানুষ মারা যেতে পারে।

আর স্বল্প পরিমানে অনেকদিন ধরে সীসার বিষক্রিয়া হলে সেটা লিভারে জমতে থাকে। চোখ বা মাড়িতে এই বিষক্রিয়ার ছাপ পড়ে।

আর এম এস জি বা আজিনোমোটো ক্যান্সারের কারণ। এজন্য অনেকদিন ধরেই এটা বাজারে নিষিদ্ধ। তবুও সস্তার চাইনিজ খাবার দোকানগুলোতে এগুলো মেশানো হয়।“

ম্যাগি নিয়ে এই দেশজোড়া বিতর্কের ফলে জনপ্রিয় এই ইন্সট্যান্ট নুডলসের বিক্রি প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে – যদিও সব রাজ্যে সরকারী নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি হয় নি।

কলকাতার এক দোকানদার বিশ্বজিত রায় বিবিসি-কে বলছিলেন, “বিক্রি প্রায় ৯৮% কমে গেছে।

যারা অতটা কাগজ পড়েন না বা টিভি দেখেন না, তাঁরাই এখনও কিনছেন। ওদিকে নেসলে কোম্পানী আমাদের কাছ থেকে ম্যাগি ফেরতও নিচ্ছে না। তবে অন্যান্য কোম্পানীর বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।“

এই নুডলসটি শিশুদের অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই বিতর্কের ফলে তাদের ম্যাগি খাওয়া বন্ধ। কী বলছে শিশুরা বা তাদের মায়েরা?

একজন মা, দীপা দাশ বলছিলেন, “টিভিতে সীসা আর আজিনোমোটোর ব্যাপারটা দেখার পর থেকেই মেয়েকে ম্যাগি খাওয়া পুরো বন্ধ করে দিয়েছি, কিনছিও না।“

দুটি বাচ্চা বলছিল, তাদের ম্যাগি খুবই প্রিয় একটা খাবার, কিন্তু মায়েরা বারণ করেছেন – ম্যাগিতে না কি কী একটা পাওয়া গেছে – যেটা খেলে শরীর খারাপ করবে।

ম্যাগির প্রস্ততকারক নেসলে একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে উত্তরপ্রদেশের যে নমুনাগুলিতে সীসা পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলির মেয়াদ গত নভেম্বরেই শেষ হয়ে গেছে।

আর ভারতে তারা যে ম্যাগি নুডলস বিক্রি করে, তাতে যে এম এস জি অর্থাৎ আজিনোমোটো থাকে না, তা প্রতিটি প্যাকেটের ওপরেই লেখা হয় স্পষ্ট করে।

তবে স্বাদ বাড়ানোর জন্য বাদামের প্রোটিন, পেয়াজ আর গমের গুঁড়ো ব্যবহার করে, যার মধ্যে গ্লুটামেট থাকে। বিভিন্ন সরকারী পরীক্ষাগারে হয়তো এই গ্লুটামেটেরই খোঁজ পাওয়া গেছে।

সীসার বিষয়ে তারা বলছে, সাড়ে বারো কোটি প্যাকেটের মধ্যে থেকে ১৬০০ প্যাকেট তারা পরীক্ষা করিয়েছে, কিন্তু সীসা সরকার নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যেই রয়েছে।

এই পরীক্ষাগুলির ফলাফল তারা সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছে। সূত্র- বিবিসি।

প্রকাশিত : ৩ জুন ২০১৫, ০৮:১৫ পি. এম.

০৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: