কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ছবিতে জীবন ও নিসর্গ

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫
  • রেজা ফারুক

গ্রাম-বাংলার চিরচেনা দৃশ্য, বিশেষ করে, বৃষ্টিদিন, ঝরাপাতা, নদী ও নৌকো, নৈসর্গিক চিত্রবীথি দেখে দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে যায়। এমন সব ছবির প্রদর্শনীতে মুগ্ধ দর্শক। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে অন্য এক শিল্পী জুয়েলকে খুঁজে পায় দর্শক। ‘হৃদয়ে পথ হেঁটেছি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলোতে গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন চিত্র এক ভিন্ন মেজাজের কাব্যিক ডাইমেনশন তুলে আনার চেষ্টা করেছেন রোমান্টিক এবং মেলোডিয়াস সঙ্গীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। বাছাইকৃত ৩৯টি ছবি এ’ চিত্র প্রদর্শনীতে ঠাঁই পায়। জুয়েল গানের সঙ্গে জড়িত এটা সবারই কম-বেশি জানা। কিন্তু তিনি যে শখের বশে ছবিও তোলেন সেটি নতুন করে দর্শক-শ্রোতারা জানলেন এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে।

বিগত প্রায় সাত বছর ধরে জুয়েল নিজের ক্যামেরায় চলতি পথে নানা ধরনের ছবি তুলেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে এমন সব ছবি যা এক অনন্য ডকুমেন্টস হয়ে আছে। সেসব ছবি নিয়েই গুলশান-১ এ বেজ গ্যালারি ভবনের, ব্যাংক এশিয়ার ৬ তলায় রেডিয়াস সেন্টারে চারদিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। জুয়েল বলেন, আমি পেশাদার ফটোগ্রাফার নই। যখনই কোথাও বেড়াতে বা কাজে গিয়েছি ক্যামেরাটা ছিল আমার একান্ত সঙ্গী। আমার চলতি পথে যেখানে চোখ থমকে গেছে সেখানেই ক্যামেরার আলো ফেলার চেষ্টা করেছি এবং প্রদর্শিত ছবিগুলো তারই প্রতিবিম্ব। প্রদর্শনীতে দর্শক সাধারণের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান কণ্ঠশিল্পী জুয়েল চিত্র প্রদশর্নীতে ফিতা কেটে এবং ওয়েবসাইট িি.িযবৎলববিষ.সব- ঊহঃবৎ বাটন চেপে উদ্বোধন করেন- জুয়েলের বাবা রেজাউল করিম, মা কোহিনূর করিম, বিশিষ্ট মডেল ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ, ব্যান্ডতারকা আইয়ূব বাচ্চু, প্রযোজক আজিজুর রহমান কচি এবং গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রাফেজ আলম চৌধুরী।

এছাড়া অতিথিদের সারিতে ছিলেন, লাবু রহমান, পিলু খান, বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তফা, সাংবাদিক জ.ই. মামুন, গীতিকার আসিফ ইকবাল, কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, ইবরার টিপুসহ অনেকেই।

প্রদর্শনীর এক দুপুরে দীর্ঘ সময় ধরে কথা হয় হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলের সঙ্গে। কথার শুরুটা যেমন ছিল প্রাণবন্ত তেমনি আবেগময়।

জীবন ও প্রকৃতি। একটি অপরটির পরিপূরক। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে জীবন যেমন সতেজতা ফিরে পায়। তেমনি প্রকৃতিও জীবনের নিবিড় স্পর্শে হয়ে ওঠে সজীব আর জীবন্ত। জীবন আর প্রকৃতির এই পারম্পর্যতার ছবিটা সবক্ষেত্রেই হয় পরিলক্ষিত। সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাটক, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, চিত্রকলা, আলোকচিত্রসহ সব মাধ্যমেরই কেন্দ্রীভূত বিষয় হলো প্রকৃতি ও জীবন। এই প্রকৃতি আর জীবনের গল্পটাই পরিস্ফুটিত সদ্য হলো সমাপ্ত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত ৩৯টি ফ্রেমে বাঁধা ছবির বৈশিষ্ট্য আর বিষয়াবলীতে। ছবিও যে এতটা কার্ব্যকি আর ধ্রুপদী শিল্পের আবেগ ধারণ করে এক অভূতপূর্ব মাত্রাযুক্ত করতে পারে। তারই নিদর্শন হলো জুয়েলের অপেশাদারি ছবি চিত্রবীথি। ল্যান্ডস্কেপ, নেচার, রিভারবোট, রেইনি-ডে, ফিগার, স্টোনওয়েসহ কত কী সাবজেক্ট জুয়েলের ফটোগ্রাফিতে যে উঠে এসেছে তা প্রত্যক্ষ না করলে উপলব্ধির উপায় নেই। সেই সঙ্গে রয়েছে চমৎকার আলোর খেলা। কাব্যময়তার সার্বজনীন আবেগের প্রতিটা রেণু যেন ছবির গভীরে এক ভিন্ন আবেশকে জাগিয়ে তুলেছে। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে। এক নম্বর গুলশানের এক নিরিবিলি ঘরোয়া পরিবেশে গোছানো-মোছানো আবহে সম্পূর্ণ শিল্পপ্রেমের তাগিদেই এ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন বলে জানালেনÑ হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। কবি, গল্পকার, কথাশিল্পী যেমন শব্দের গুঞ্জরণে এক অদৃশ্যপূর্ব অনুরণন সৃষ্টি করেন পাঠকের মনে। তেমনি আমারও চেষ্টা ছিল ছবির ভেতর দিয়ে দর্শকের মনকে মুহূর্তের জন্য হলেও আলোড়িত করা। কতটা পেরিছি তা উঠে এসেছে মন্তব্যের খাতার পাতায়। জুয়েল বলেন, আমার এ প্রদর্শনীতে যেমন এসেছেন সাধারণ দর্শক, তেমনি কবি, সাহিত্যিক সাংবাদিক, সেলিব্রেটি, সঙ্গীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, চলচ্চিত্রকার, প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার তরুণ প্রজন্মের মিডিয়াকর্মীসহ অনেকেই এবং সকল অভ্যাগতরাই যার যার মতো করে কমেন্ট লিখেছেন কমেন্ট বুকে। এটাই আমার কাছে বিশাল প্রাপ্তি।

প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৫

২৫/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: