কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সীমান্ত চুক্তির নেপথ্যে হাসিনা-মোদি

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

এই চুক্তি পাসের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছর মে মাসে ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ভারতের মোদি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ঢাকা সফরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রীকে জানান, মোদি সরকার দুই দেশের সকল অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী।

এরপর গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নিউইয়র্কে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। সেখানে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর এবং তিস্তা চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সে সময় তেত্রিশ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। বৈঠকের আলোচনায় অন্যতম বিষয় ছিল স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠকের পর দ্বিতীয় দফায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আবারও বৈঠক হয়। গত বছর ২৮ নবেম্বর কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে শেখ হাসিনা-মোদির ওই বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেও সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। সে সময় মোদি আবারও আশ্বাস দেন যেভাবেই হোক সীমান্ত চুক্তি পাস করবেন।

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে বিরোধিতায় নেমেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি একপর্যায়ে সীমান্ত চুক্তির বিরোধিতা থেকে সরে আসেন।

এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশে সফরে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সে কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা সফরে আসেন মমতা। এ সময় মমতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত বৈঠকে সীমান্ত ও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি হয়। এসবের ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে ভারতের লোকসভায় সীমান্ত বিল পাস হয়।

হাসিনা-মনমোহনের প্রটোকল

২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফরে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। সেই সফরে দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে ছিটমহল ও স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নতুন সীমান্ত মানচিত্রের প্রতিলিপির শেষ পাতায় স্বাক্ষর করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আলোকে এই প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেন দুই বিদেশমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণ এবং দীপু মনি। এতে ছিটমহল হন্তান্তরে সম্মত হয় দুই দেশ। সেই সঙ্গে ঠিক হয়, হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দুই ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গোরপোতায় যাওয়ার জন্য তিনবিঘা করিডর এবার থেকে ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে।

প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৫

২৪/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: