মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মার্কেটের মালিক ক্রাজাই প্রু মার্মা

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫
  • সততা আর পরিশ্রমের বিনিময়ে

পার্বত্যাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজাতীয় গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়। পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরাও সংসারের কাজ থেকে শুরু করে পরিবারের সকল কাজ একসঙ্গে করে। বর্তমানে এদের অনেক মেয়ে চাকরি ছাড়াও ব্যবসাবাণিজ্যে ঝুঁকে পড়েছে।

রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় এক যুগ আগে গড়ে উঠেছে উপজাতীয় বস্ত্র শিল্পের একটি বড় মার্কেট। এটি কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটের মতো আধুনিক ডিজাইনে গড়ে উঠেছে। এই মার্কেটের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হলো ক্রাজাই প্রু মার্মা। এসএসসি পাস করার পর তিনি বিয়ের পিঁড়িতে পা না দিয়ে ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

ব্যবসা শেখার জন্য প্রথমে তিনি চাকরি নেন। বস্ত্রশিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে বাবা কালা চাঁন মগের সঞ্চিত সামান্য টাকা দিয়ে এক দশক আগে মার্মা স্টোর নাম দিয়ে উপজাতীয় বস্ত্র শিল্পের দোকান দেন। এই দোকানের লভ্যাংশ ও পিতার পেনশনের টাকা দিয়ে তিনি তাদের নিজের জমিতে আরো ৯টি দোকান তৈরি করেন। পরে ওই দোকানগুলো একই ধরনের বস্ত্র শিল্পের দোকান করার জন্য অন্য ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন। এভাবেই এখানে গড়ে উঠেছে জেলার সবচেয়ে বড় উপজাতীয় বস্ত্রশিল্প মার্কেট।

কিভাবে ক্রাজাই প্রু মার্মা এই শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ব্যবসায়িক সততা ও নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এ পর্যন্ত উঠে এসেছেন। তিনি এককভাবে বস্ত্রশিল্প গড়ে না তুলে বিভিন্ন উপজাতি পল্লীতে গিয়ে পাড়ার সাধারণ মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করে হাতের তৈরি, ছোট মানিব্যাগ, খেলনা, মেয়েদের ওড়না, পিনন, বেতের ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করার জন্য অগ্রিম টাকা দেন। তিনি জানান, যেসব মেয়ে হাতের কাজ করেন তাদেরকে কখনো ঠকান না। ফলে তার দোকানে সুপ্রয়া ত্রিপুরা, শিশুরানী চাকমা, গুলা রানী চাকমা, শেফালী চাকমাসহ প্রচুর মেয়ে ঘরে বসে তৈরি করা নানা ধরণের পণ্য প্রতিদিন তার দোকানে এনে বিক্রি করে যায়। তার দোকানে উপজাতীয় তাঁত বস্ত্রের পাশাপাশি বার্মিজ কাপড় ও নানা ধরনের মহিলাদের প্রসাধনীও পাওয়া যায়। মৌসুমে তার দোকানে প্রতিদিন ৪০/৫০ হাজার টাকা বিকিকিনি হয়। তাঁর দোকানে ১০/১২ নারী কাজ করেন। দোকানের আয় দিয়ে পরিবারের ৪ সদস্যের ভরণ-পোষণ চালিয়ে তার একমাত্র ছোট বোন ম্যামাচিংকে লেখাপড়া করান এবং মা কনিকা মার্মার চিকিৎসা খরচ চালান।

Ñমোহাম্মদ আলী, রাঙ্গামাটি থেকে

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০১৫

০৪/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: