কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কবিতা

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

সর্বনেশে হাওয়া

জাফর ওয়াজেদ

এলোমেলো করে দিচ্ছে হাওয়া কী সর্বনাশ

ফাঁকা মাঠে বৃক্ষপত্র উড়িয়ে দিচ্ছে বাতাস

উড়ে যাচ্ছে ধুলোবালি, উড়ছে ওই ঘূর্ণিবায়ু

নিভে যাচ্ছে আলো, ক্ষয়ে আসে পরমায়ু।

বিস্তীর্ণ পৃথিবীর ভেতরে বাইরে গ্রামগুলো

হাওয়ার কম্পনে টলমল যেন ভিখারিনুলো

হলদে পালকের পাখিরা জলাশয়ের সন্ধানে

প্রান্ত থেকে প্রান্তরে নদী হাওড় বিলের টানে

উড়ে যাচ্ছে পুড়ে যাচ্ছে তার ডানার কোমল

একটু স্বস্তি আসে যদি পায় জলভরা শীতল।

রোদ গলা সবুজ জল নেই, মাছেরাও উধাও

আগুন জ্বলা দিনরাত্রি নরকের গন্ধ কি পাও

মায়াময় ঠোঁট জুড়ে ব্যথার কাষ্ঠখ- জ্বলে

পুড়ে পুড়ে খাক হয়ে যায় দেহের তরুতলে

আকাশে নেই মেঘের ভাসান, তাপহরা ধরা

সূর্য কেমন শত্রুপক্ষ সশস্ত্র প্রাণের লক্ষ হরা।

তাপদগ্ধ সব হাওয়ার তোড়ে পোড়ে ঘর নগর

পোড়াও দেশ পোড়াও স্বপ্ন দেখার সেই শহর।

এক ঝড়ো সন্ধ্যায়

সোহরাব পাশা

বেভুল পথের পাশে খুঁজে ফিরছি পথের ছায়া

কানাওয়ালা ধরছে হাত শাদা ছড়ি হাতে-অন্ধকারে

খুঁজি তাকে রাত্রির সুগন্ধী রুমাল হাতে

নদীর আঁচলে বাঁধা জ্যোৎস্না নিবিড় সবুজ রোদে-

নীল বাতাসে উড়বে চুল, ভুলে যাবো ভুলে থাকার বিষাদ

প্রাচীন বেদনা অশ্রুমেঘ,

কতোকাল দীর্ঘ রাত্রি জাগা হু হু করা অন্ধকার

বুকের বাঁ’পাশে অন্ধশূন্যতার একুশ বছর

গভীর গোপনে মধ্যরাতের রচনা করা

মুগ্ধতার গোলাপি বাতাস;

তোমার কী মনে পড়ে এক বৈশাখের ঝড়ো সন্ধ্যা

রবীন্দ্রনাথের ‘একরাত্রি’ গল্পের সুরবালার

সেই অকৃপণ সমর্পণ-ছোট ছোট দীর্ঘশ্বাসে

নু’য়ে পড়া আশালতা কী গভীর নিভৃত অব্যক্ত ইতিহাস

পৃথিবীর জল কী গোপন ক্ষত,Ñসব দাগ ধুয়ে

দিতে পারে, জলের ডাস্টারে মুছে যায় কী বুকের

অস্ফুট অক্ষর- যে অক্ষর প্রিয় ভাষা খুঁজে মরে

‘পৃথিবীর পথে হাজার বছর ধরে’

অতিপাতকী

গোলাম কিবরিয়া পিনু

একা একা পাহাড় চুড়োয় বসে আছে

Ñপাপচূড়ামণি

তার কাছে এক এক করে চলে যাবে

সোনা-রুপা-খনি!

পাপপ্রবণ অবস্থায় কারো কারো আহ্লাদ

নেই কোনো শুচিবাই!

এ-কারণে ঘোরপাপী ঘোরাঘুরি করে

শক্তিমত্তা নিয়েÑ

এদিক ওদিক,

অন্যদেশ ছাড়াও তারই দেশে মানুষের যদিও রয়েছে

ঘৃণাটা অধিক!

তারপরও হয় না তার পাপস্খালন

হয় না সে আত্মদর্শনে লালন!

দিন দিন হয়ে যাচ্ছে ক্ষমতা ও লোভে

তাপে ও পাপে অতিপাতকী!

তারপরও তাকে নিয়ে নৈবেদ্য সাজানো ও অভিবন্দনা!

একোন্ কালের একোন্ তরিকা! আমাদের কাছেও কি তা মন্দ না?

ফাঁদ

মাহফুজা হিলালী

কাকডাকা কুয়াশা ভোরে দেখেছিলাম তাকে

শিউলী বিছানো পথে, একা দিশেহারা-উ™£ান্ত

সমস্ত রাত জেগেÑ

একটি কবিতা শুধু আমার তরে।

কুয়াশা ভোর শিউলী পথ আর কবিতা

আমার বুকে বেদনা হ’য়ে ঝ’রে পড়ে।

উ™£ান্ত পথিক এবং আমি একাকার হই

গোধূলীর আকাশের মতো নীরব-নির্জন লালিমা

আমার বুকে কৃষ্ণের বাঁশির মতো বেজে ওঠে।

আমরা তখন একটি নরম নদী

একগুচ্ছ কুয়াশা আর হিজল-তমালের বন।

বেলা বাড়ে, প্রখর সূর্যÑ ভেঙ্গে যায় নরম আদর

চোখে পড়ে শিউলী-পথে বিষধর সাপ

সামনে প্রতারক প্রেমিকÑছলনার ফাঁদ

মরীচিকার আহ্বানে কী মিথ্যে সেই পথচলা!

তখন আমি হঠাৎ চৈত্রের আগুন

মনে আমার অগ্নি¯œানের দৃঢ়তা

বিষধরের মাথা থেঁতলে, ফাঁদ কেটে

মিথ্যার আড়ালের সত্যকে জীবন্ত করি।

তখন আমি শুদ্ধ হই,

বেঁচে উঠি জীবনের তরে।

দ্রোহের আগুন বোমা

ফিরোজ মান্না

দ্রোহের আগুন বোমায় চলছে দুর্গতি

জীবনের সকল স্তরে ক্ষত আর ক্ষতি

পোড়া মাংসের গন্ধ প্রাচীন বিভৎসতা

কেবল বুক জুড়ে ভয়ের রাজত্ব ্র

জ্বলছে নগর-পুড়ছে নীতি

আহা কত দৃশ্যমান মানুষ

অচেনা হলো

দ্রোহ আর বিগ্রহে

গল্প কবিতার অক্ষরা

অথৈ অন্ধকারে ডুবে গেছে

চিন্তার ধারাপাত বন্দি খাঁচায়

হিসাবের খাতা কে মিলাবে

এমন তিমির উৎসবে

পূর্ব পুরুষের রক্তের বাংলায়

আবার দেয়াল ভাঙ্গার গান

শোনাও তোমার বজ্রকণ্ঠে

স্বাধীনতা নামের উপন্যাসটি

আমাদের পড়তে হয়েছিল বলে

তাই অভিজিত ও রাজীব হবো।

শহীদ মিনার

মাসুদ পথিক

ক.

যদি, শব্দের গায়ে ধাক্কা লাগে, যদি জেগে উঠে প্রিয় শহিদ মিনার

ভাবনা তো, স্মৃতিঘোর বাক্যের সড়ক শেষে এক জমকালো উৎসব;

থাকে যতো ক্রিয়া ও অব্যযের কোলাহল, আর

দেখবো কি আমার কফিনের সামনে কিছু ধূপ-মেশানো প্রচল গান

শোকগাথা নামি টিভি-শো, অথবা হোক, প্লিজ হোক কিছু সুবচন

ফুলের তোড়ায় ঢেকে গেলে আমার শব পাবো কি শত্রু-হৃদয়ের অনুভব?

খ.

তাদের হাতে, অর্থাৎ যারা আমার জীবনকালে পথ আটকে করেছিলো উল্লাস

কিংবা হিংসা-আগুনে পুড়ে দিয়েছে সৃজন সংসার, মতাদর্শের প্রভাত

হায়! ফুলের বেদিতে টিভি-ক্যামেরা পেতে কাঁদছে কেন আজ ওরা, আহা!

কষ্টভেজা এতো প্রেম দেখে আমার মন বাঁচতে যে চায়,

মৃতদের হয় কি বাঁচা কখনো ভাবিনি যদিও

চোখ ঝিকমিক শহিদ মিনারে সম্মিলিত এই কান্না! ফলে ফলবান সম্মিলিত এই কালচার

গ.

তথাপি হোক, ওদের কারবারি কলার তরে করতালি ফের,

জেনো ফুলের ভেতর কীটের মতো যতো গালি কাহার কী নয়?

এই শোকের ঢালি তাহাদের আখেরে কাজ দেয় বুঝি, তবে দেখো

আর আমি এই ফাঁকে যদি খুঁজে নিই সরল চাষার বিস্মৃত জীবনী,

খুঁজে দেখো সত্যি হবো একদিন বঙ্গের পাড়া-গাঁয় পুনর্জন্মকামী,

শোনবো প্রাকৃত-শব্দের ভেতর ভূতপূর্ব যতো বুনোপাখির কলতান, আর ভাওয়ালি

ভাবো, ওই পড়ন্ত বিকালে কাকের কান্নায় পাখি-বান্ধব চাষার পুতের কী এসে যায়

ঘ.

তারপর, আবার আমি জন্মের পর মরে গেলে হই যেন

শুধু কূজনছড়ানো মেধাবী পাখির আহার...

প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল ২০১৫

০৩/০৪/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: