মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গল্প ॥ গণিত মামার চামচ রহস্য

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫
  • শাম্মী তুলতুল

গণিত মামা। প্রফেশনাল গোয়েন্দা না হলেও তাকে গোয়েন্দাই বলা চলে। যে কোন রহস্য উদ্ঘাটনে সে সদা তৎপর থাকে। তার কারণে চোর চুরি করতে অনেক সময় পিছু হটে। তাই বয়স কম হলেও এলাকায় সবাই তাকে আদর করেন। কিন্তু তার বাবা এসব পছন্দ করেন না। কারণ সে পড়ালেখায় একদম জিরো। সব বিষয়ে সে গোল্লা পায়। কিন্তু অন্য সব বিষয়ে সে পাস না করলে গণিতে একশতে একশ। তাই তো আদর করে মা তার নাম রেখেছে গণিত। মায়ের বিশ্বাস সে বড় হয়ে একদিন কিছু একটা হবেই। সকালবেলা রবিন রাস্তা থেকে মামাকে হাত দুটো পেছনে রেখে অন্য মনস্ক হয়ে হাঁটাহাঁটি করতে দেখে। বুঝতে পেড়েছে নতুন কোন সমস্যা কাজ করছে মামার মাথায়। সমাধানের আশায় এমন পায়চারী। মুহূর্তে বন্ধুর সঙ্গে গল্প করা বাদ দিয়ে একলাফে ছাদে ওঠে রবিন বলে, কী হয়েছে মামা? নতুন কোন চিন্তায় পড়েছ বুঝি?

মাথাটা ভীষণ ধরেছেরে।

তা বুঝতে পেরেছি। সেটা রোগে নয় টেনশনে।

ইদানীং কী হয়েছে কে জানে। সহজ জিনিস কঠিন লাগে। মনে হয় দুধ দিয়ে হরলিক্স মিশিয়ে খেতে হবে।

ধ্যাত, মামা। কি যে বল না। কি হয়েছে আগে বলবে তো।

ব্যাপারটা আমার কাছে এখনও তেমন পরিষ্কার নয়। তবুও বলি, আমার রুমের জানালা দিয়ে রিমিদের বসার ঘরটা দেখা যায় জানিস তো।

এ আর নতুন কী?

নতুন হচ্ছে, ভোররাতে দেখলাম ওদের সোফার এক কোণে জড়সড় হয়ে বসা কে যেন? একদম রোগা পাতলা। ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে। চেহরা ভাল করে দেখতে পাইনি। বসে বসে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছিল।

রবিন বলল, কে সে?

তাকে তো দেখিনি। তার ছায়া দেখেছি।

হয়ত ওদের কোন আত্মীয় হবে।

না, লোকটা যে আত্মীয় নয় এটা আমি নিশ্চিত। তার বাচনভঙ্গি, কাপড়চোপড় দেখে আমি বুঝতে পেরেছি।

তাহলে মামা কিভাবে একটা অপরিচিত লোক বসার ঘরে বসে থাকে।

সেটাই তো ভাবছি রহস্যটা কোথায়। কোন ভূত নয়ত? আচ্ছা রবিন, তুই আর রিমি তো একসঙ্গে পড়িস, তাই না?

জি মামা। তুই রিমিকে ইনিয়ে-বিনিয়ে জিজ্ঞেস করবি তাদের বাসায় সব সময় কে থাকে, কয়জন থাকে, বর্তমানে কে আছে? এর মধ্যে কেউ এসেছিল কিনা? খবরদার, যেন কেউ বুঝতে না পারে। বাকিটা আমি দেখব।

রবিন মামার কথামতো তাই করল। কিন্তু ফলাফল জিরো। রিমিদের বাসায় গত এক সপ্তাহ ধরে কেউ আসেনি। রবিন অবাক হলো। কিন্তু গণিত মামা শুনে একটুও অবাক হলো না। কিন্তু রবিন কিছুই বুঝতে পারল না, তবে মামার কথাতে একটা উড়াল রহস্য আছে সেটা বুঝতে পেরেছে।

দুই.

তিন-চার দিন পর হঠাৎ রিমির মায়ের চিৎকার শোনা গেল ঘরের ভেতর থেকে। রবিন চিৎকার শুনে দৌড় দিল রিমির বাসায়। ঘরে ঢুকে দেখে রিমি আর রিমির মা কাঁদছে।

রবিন জানতে চাইলে রিমি বলে, জান রবিন আমাদের ঘরে তিনটে সোনার চামচ ছিল। এখন সেগুলো একটিও নেই। রবিন বলল, কোথায় রেখেছিলে চামচগুলো।

আমাদের শোকেসের ভেতরে সাজিয়ে রেখেছিলাম। রবিন শুনে হাঁ হয়ে গেল। হাঁ করতে দেখে রিমি বলল, হাঁ করে আছ কেন, মশা ঢুকবে। রবিন লজ্জা পেয়ে মুখ বন্ধ করে ফেলল।

আমার নানু এই তিনটে চামচ আমাদের তিন ভাইবোনের জন্মের সময় উপহার দিয়েছিলেন। এই চামচগুলো ছিল নানুর একমাত্র স্মৃতি। এই চামচগুলো দিয়ে নানু প্রথম আমাদের মধু খাইয়ে দিয়েছিলেন। এই চামচ আমরা কোথাও দেখিনি। নানু যখন বিদেশে ছিলেন তখন এই চামচ এনেছিলেন।

রবিন এবার পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারল। মামা যা সন্দেহ করছে তা পুরোই ঠিক। কোথাও না কোথাও কিছুর আভাস পাচ্ছি। যা আমি ধরতে পারছি না। যাই হোক, রবিন রিমিকে সান্ত¡না দিয়ে চলে এলো। বাড়িতে এসে মামাকে সব খুলে বলল। মামা আর দেরি না করে রিমিদের বাড়িতে গিয়ে প্রশ্ন-উত্তর শুরু করল। রিমিদের বাসায় রিমির বাবা, মা, রিমিসহ তিন ভাইবোন আর কাজের মেয়ে রাশেদা ছাড়া অন্য কেউ থাকে না। আর দারোয়ান থাকে বাইরে স্টোররুমে। ঘরের সবাইকে এক এক করে জেরা করল গণিত মামা। এমনকি ছোট্ট রিমিকেও। সবার শেষে কাজের মেয়ে রাশেদাকে জেরা করলে রেগে মেগে অস্থির হয়ে যায় সে।

কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো গণিত মামা দারোয়ানকে কিছুই জিজ্ঞেস করল না। রবিন বাড়িতে এসে দারোয়ানের ব্যাপারে জানতে চাইলে মামা বলে, ভাগ্নে রহস্যটা ওখানেই।

রবিন বলল, মানে?

মানে হচ্ছে ওই দারোয়ানটাই চামচ ভূত। ওদের নতুন দারোয়ানটার শরীর কৌশলে কাছ থেকে দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি কঙ্কালসার লোকটা কে। তাই আর ওকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। রিমিদের বাসায় মনে হয় ভূত আছে।

তিন.

গণিত মামা নিত্যদিনের মতো বাড়ির জানালা দিয়ে তাকায়। এবার একটু বেশি নজর দেয় জানালা দিয়ে। কিছুদিন যেতে না যেতেই গণিত মামা দেখল ঠিক আগের জায়গায় সেই কঙ্কালসার লোকটা ছায়ার সঙ্গে কথা বলছে। কঙ্কালসার মানে দারোয়ান। দারোয়ানের হাতে সে এবার দেখতে পেল বড় একটা থলে। এবার গণিত মামা বুঝতে পারল ছায়াটা কে। গণিত মামা রবিনকে ঘুম থেকে তুলে রিমিদের বাসায় হাজির।

গণিত মামা রিমির বাবা-মাকে উদ্দেশ করে বলল, এতো রাতে আপনাদের বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে আপনাদের কাজের মেয়ে রাশেদা আর দারোয়ানের তল্লাশি নেন, তাহলেই সোনার চামচ পাওয়া যাবে। সত্যিই মামার কথা মতো ওদের দু’জনের তল্লাশি নিয়ে তাদের থলেতে ঘরের আরও দামী বস্তু দেখে সবাই অবাক! গণিত মামা বলল, আসলে কোন ভূত নেই। আমি ইচ্ছে করেই ভূতের কথা বলেছিলাম, যাতে চোর সতর্ক না হয়। চোর ধরতে পারাতে রিমির বাবা গণিত মামাকে ধন্যবাদ জানালেন। আর বললেন আসলেই বাবা তুমি একদিন বড় কিছু হবে।

আর রবিন মামাকে জড়িয়ে ধরে বলল, মামা ইউ আর এ গ্রেট। কাল স্কুলে তোমার এই কাহিনী সবাইকে গর্বের সঙ্গে শোনাবো। তারাও যেন ভবিষ্যতে সতর্ক থাকে।

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৫

২৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: