হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আজব হলেও গুজব নয়

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মঙ্গলে মানুষ

পৃথিবীর প্রতিবেশী লোহিত গ্রহ মঙ্গল নিয়ে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো মহাকাশযান সেখানে কোনও প্রাণের চিহ্ন না পেলেও অনেকেই তা বিশ্বাস করেন না। ভিনগ্রহে প্রাণীর অস্তিত্বে বিশ্বাসীরা এরইমধ্যে নাসার রোবটযান কিউরিওসিটির পাঠানো ছবি বিশেষণ করে গ্রহটিতে ইঁদুর, গিরগিটিসহ নানা বস্তুর সন্ধান পেয়েই চলেছেন! বিজ্ঞানীরা তাদের দাবি উড়িয়ে দিলেও ক্ষান্ত হননি। এবার মঙ্গলে তারা খুঁজে পেলেন মানুষের ছায়া!

সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ বলছেন কিউরিওসিটির যন্ত্রপাতির ছায়া ওটা।

যে ছবি নিয়ে এত আলোচনা সেটি কিউরিওসিটি তুলেছিল ২০১২ সালে। ছবিতে মানবসদৃশ একটি ছায়া দেখা যায়। যা দেখলে মনে হয়, হেলমেট ছাড়া ছোট চুলের কেউ একজন কিউরিওসিটির যন্ত্রপাতি নেড়েচেড়ে দেখছেন। তার পিঠে আবার অক্সিজেন ট্যাঙ্কের মতো একটা কিছুর ছায়াও রয়েছে। আছে মহাকাশচারীদের স্যুট। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ সবসময়ই সব কিছুতে নিজের আদল বা চেনা বস্তুর সন্ধান করে। তাই মঙ্গলগ্রহের মনুষ্যবিহীন স্থানে মানুষের ছায়া দেখা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের মস্তিষ্ক এ ধরনের চিত্র তৈরি করতে পছন্দ করে। ব্যাপারটিকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় পারেইডোলিয়া।

উটের কুস্তি লড়াই

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কুস্তি লড়াইয়ের প্রচলন আছে। কোথাও আবার মানুষের কুস্তির পাশাপাশি মোরগ-বানর ইত্যাদি লড়াইয়েরও বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু তাই বলে চার পেয়ে মরুভূমির জাহাজ বলে খ্যাত উটও যে কুস্তি লড়ে তা কিছুটা হলেও অজানা ছিল অনেকেরই। তবে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে উটের এই কুস্তি লড়াইয়ের আয়োজন হয় তুরস্কে। শুধু তাই নয়, প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে এই কুস্তি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে দেশটির সেলুক নামক স্থানে। দুইটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ উটের সঙ্গে একটি নারী উটের কুস্তি দেখতে এসময় তুরস্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে। তবে শেষমেষ এই কুস্তি গিয়ে শেষ হয় দুই পুরুষ উটের মধ্যে ওই নারী উটকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার লড়াই হিসেবে।

জানুয়ারি মাসের শুরুতেই আরব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই তাদের উট নিয়ে তুরস্কে আসেন এই কুস্তিতে অংশগ্রহণ করার জন্য। এক হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১২০০ উটকে স্রেফ লড়াইয়ের জন্যই মালিকেরা বছর ধরে প্রস্তুত করেন। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার জন্য কিছু প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। প্রথমত, উটগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ওজনের হতে হবে এবং বয়সও এক হতে হবে। দ্বিতীয়ত, উটদের সুসজ্জিত করে উপস্থান না করলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা যাবে না। তৃতীয়ত, প্রতিটি উট বহরের সঙ্গে একজন সঙ্গীতজ্ঞ থাকতে হবে। এধরণের বিভিন্ন নিয়মকানুন মেনেই তবে উটের কুস্তিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। ২০০১ সাল থেকে প্রতিযোগি উটের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমে যায়। তবে চলতি বছরে প্রতিযোগির সংখ্যা আশাব্যঞ্জক ছিল বলে জানা যায়। আর আড়াই হাজার বছরের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই কুস্তি লড়াই অনুষ্ঠিত হয় তুরস্কের প্রাচীন ‘ইফিসুস’ স্টেডিয়ামে।

সাত-সতেরো প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: