রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বড়দিন- হ্যাপি নিউ ইয়ার বছর শেষে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • অঞ্জন আচার্য

শেষ হয়ে এলো দিন, ফুরিয়ে এলো বছর। বছরের শেষপ্রান্তে বড়দিন, খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আর একে ঘিরেই যেন তারুণ্যের বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস। বড়দিন উপলক্ষে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নানা আয়োজন। প্রিয় মানুষটিকে শুভেচ্ছা জানাতে তাই ভিড় করছে রকমারি দোকানগুলোতে। শুভেচ্ছা কার্ড, সুদৃশ্য উপহার, চকোলেটসহ নানারকম সামগ্রী কিনতে যেন কারও ক্লান্তি নেই। নিজের বাড়িটি ঝলমলে আলোতে সাজিয়ে তুলতে, কেক-চকোলেটসহ বাহারি খাবারের আয়োজন রাখতে, নতুন পোশাকে নিজে রাঙাতে কার্পণ্য নেই। খ্রিস্টানদের এ আয়োজনে শরিক হয় হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-আদিবাসী সবাই। ধর্মীয় সম্প্রতির এ বাংলাদেশে উৎসব মানুষকে ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয়, গড়ে তোলে সৌহার্দ্য। তাই তো নাজমুল হুসাইন কিংবা ঝুমকি বসু- দুজনের কণ্ঠেই একই সুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের এনামুল ইসলাম মনে করেনÑ ‘ধর্মীয় উৎসব একটি সম্প্রদায়ের জন্য অন্যতম আয়োজন হতে পারে। তবে সম্প্রীতির বাংলাদেশের ঈদ, দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন ধর্মীয় পরিচয়কে ভুলিয়ে দেয়। নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ একীভূত হয়ে পড়ে উৎসব উদযাপনে।’ সদ্য স্নাতক পাস করা রুমকি বসুর মতে, ‘উপলক্ষকে লক্ষ্য করে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করার নজির খুব কম দেশই পাওয়া যায়। বাংলাদেশ হচ্ছে সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সৃষ্টি বলেই এমনটা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

এদিকে বড়দিনের এ আনন্দক্ষণে মনে করিয়ে দিচ্ছে শেষ হয়ে এসেছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা। তাই বছরটিকে বিদায় জানাতেও কমতি নেই কিছুতেই। আতশবাজির ফোয়ারা শূন্যে মেলবে পাখা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দে ভাসে। আবাল-বৃদ্ধবণিতার পাশাপাশি তাই তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেখা দেয় বাড়তি উত্তেজনা। তাই বছর বিদায়ের শেষ প্রহরে থার্টি ফার্স্ট নাইটে জড়ো হয় সবাই। ভাইবোন, বন্ধু-স্বজন একসঙ্গে মিলিত হয় মুক্ত গণজমায়েত স্থানে। রাজধানীতে অভিজাত এলাকার পাশাপাশি শাহবাগ, টিএসসি, ধানম-ি লেক, গুলশান লেকসহ বিভিন্ন জায়গাতে গানবাজনা ও আতশবাজিতে মাতে সবাই। কেউ কেউ বছরের শেষ দিনটি পালন করতে চলে যান ঢাকা ছেড়ে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে, পটকা আর ফানুস উড়িয়ে উদযাপন করে থার্টি ফার্স্ট নাইট ও নিউ ইয়ারকে। যদিও এ বিদেশী সংস্কৃতি উদযাপনে আপত্তি আছে অনেকের। কারও মতে, নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর নামে চলে উচ্ছৃঙ্খলতা। কেউ-বা ঘোরতর আপত্তি তোলেন এ সংস্কৃতি পালনের। কিন্তু বিশ্বায়নের এ যুগে বিদেশী সংস্কৃতি বলে সব উড়িয়ে দেয়ার কিছু নেই। তাই নিজস্ব সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রেখে যতটুকু সম্ভব সহজ-স্বাভাবিকভাবে সেটিকে গ্রহণ করা যেতে পারে বলে অভিমত দেন কেউ কেউ। ঢাকা কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অমিত মনে করেন, ‘থার্টি ফার্স্ট কিংবা নিউ ইয়ার পালনে বাধা নেই। জীবনকে আনন্দে উদ্ভাসিত করার জন্য যে কোন উপলক্ষ গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই তা সামাজিক নীতিনৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলার ভেতরে রেখে সুস্থধারায় পালন করা উচিত।’ পাশে বসে থাকা অমিতের বন্ধু মেহেদী হাসান বক্তব্যের রেশ ধরে বলেনÑ ‘বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির এ সময়ে দেশের সঙ্গে দেশের যেমন পারস্পরিক যোগাযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি ঘটেছে সাংস্কৃতিক উপাদানের আদান-প্রদান। ইতিবাচক যে কোন কর্মকা-েরই আমি পক্ষপাতী। তবে নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য-কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে অটুট রেখে তা করতে হবে; কোন ক্রমেই তা জলাঞ্জলি দিয়ে নয়।’

প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪

২৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: