মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার অসুস্থ!

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৪

সম্প্রতি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে দিলীপ কুমার গুরুতর অসুস্থ। ভক্ত এবং কাছের মানুষদের আস্বস্ত করতে টুইটারে টুইট করেছেন ৯১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি অভিনেতা। তিনি টুইটারে লিখেছেনÑ ‘সারাপৃথিবী থেকে অসংখ্য ফোন, সারারাত ধরে। আপনাদের ভালবাসা এবং শুভকামনা এবং আল্লাহর রহমতকে ধন্যবাদ জানানোর যথেষ্ট ভাষা আমার জানা নেই।’

একবার পুলিশ তাঁকে ‘ব্রিটিশবিরোধী’ মনোভাবের জন্য গ্রেফতার করেছিল এবং এক রাত তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে জেলে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্য সাবটেন্স এ্যান্ড শ্যাডো’-তে তিনি এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। দিলীপ কুমার নিজেই ‘দ্য সাবটেন্স এ্যান্ড শ্যাডো’-তে উল্লেখ করেছেন ঘটনার প্রেক্ষাপট পরাধীন ভারত। তিনি তখন পুনেতে বসবাস করতেন। বিমান বাহিনীর ক্যান্টনমেন্টের পাশেই একটি রেস্টুরেন্টে তিনি কাজ করতেন। একদিন তিনি এক উচ্চপদস্থ সহকর্মীর সঙ্গে ভারতের জাতি হিসেবে শ্রেষ্টত্বের কথা বলেন। ফলশ্রুতিতে, একদল গোয়েন্দা পুলিশের লোক এসে হাজির হয় এবং দিলীপ কুমারকে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘ইয়েরভাডা’ জেলে নিয়ে যায়। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, ‘আমাকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একদল ভদ্র মানুষদের সঙ্গে রাখা হয়। যাঁরা ছিলেন ‘সত্যাগ্রহী’ অর্থাৎ তাঁরা গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের নেতাকর্মী ছিলেন।’ ঘটনার অনেক পরে দিলীপ কুমার জানতে পেরেছিলেন সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল। তাঁরা সেখানে অনশন করছিলেন। ‘আমি জানি না, কিন্তু আমার মন বলছিল তাঁদের সঙ্গে অনশনে অংশ নিতে। তাই আমি কিছু খেতে অস্বীকৃতি জানালাম যদিও সারাটি রাত ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমি ঘুমোতে পারিনি।’ একজন আর্মি মেজর তাকে বের করেন এবং সেদিনের ঘটনার কথা তিনি সবাইকে বলেন। দিলীপ কুমার ১৯২২ সালের ১১ ডিসেম্বরে ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। যেটি এখন পাকিস্তানে অবস্থিত ‘খাইবার পাকতুন খাভা’ নামে পরিচিত। সারাপৃথিবী তাঁকে দিলীপ কুমার নামে চিনল ও তার আসল নাম কিন্তু ইউসুফ পাঠান। চলচ্চিত্রে এসে তিনি দিলীপ কুমার নাম ধারন করেন। ১৯৪৪ সালে দিলীপ কুমার তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন ‘জোয়ার ভাটা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘মুঘলে আজম’ মুক্তি পায় ১৯৬০ সালে। দিলীপ কুমার এক সময় ভারতের তরুণদের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অভিনেত্রী মধুবালার সঙ্গে তাঁর প্রেম ছিল বলে অনেকে মনে করেন। তবে সেটি আর পরিণয় পর্যন্ত গড়ায়নি পারিবারিক অমতের কারণে।

দিলীপ কুমার তৎকালীন ‘সৌন্দর্যের রানী’খ্যাত সায়রা বানুকে বিয়ে করেন ১৯৬৬ সালে। সায়রা বানু দিলীপ কুমারের চেয়ে ২২ বছরের ছোট ছিলেন। ১৯৮০ সালে দিলীপ কুমার দ্বিতীয়বার দ্বার পরিগ্রহ করেছিলেন আসমিনের সঙ্গে। তবে তাঁরা একসঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাস করেননি। সম্প্রতি তাঁকে এবং সায়রা বানুকে দেখা গিয়েছে সালমান খানের বোন অর্পিতার বিয়েতে। সেখানে এই চিরতরুণ জুটিকে বরণ করে নেয়া হয়। দিলীপ কুমারের অসুস্থতার গুজব ছড়ালে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন টুইট করেনÑ ‘তিনি তুলনামূলকভাবে ভাল আছেন।’ দিলীপ কুমারকে ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা অভিনেতা মনে করা হয়।

আনন্দকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৪

২৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: