ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

সুপার এইটের সৌন্দর্য নষ্ট করেছেন সাকিবরা

প্রকাশিত: ২৩:৩০, ২৩ জুন ২০২৪

সুপার এইটের  সৌন্দর্য নষ্ট  করেছেন  সাকিবরা

.

প্রিয় পাঠক, বেদনাভরা মন নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি। সেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়ও আমাদের বাংলাদেশ দল নিয়ে আক্ষেপ করতে হয়েছে। সেটা চলমান টি২০ বিশ্বকাপেও অব্যাহত আছে। ওয়ানডেতে তুলনামূলক বাংলাদেশ ভালো হওয়ায় বড় আশা ছিল। কিন্তু গতবছর ভারতে ব্যর্থতার ষোলকলা পূরণ করেছিল টাইগাররা। এবার টি২০ বিশ্বকাপে প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সুপার এইট। ব্যাটারদের নির্লজ্জ ব্যর্থতার পরও উইকেটের সহায়তা কাজে লাগিয়ে বোলাদের অসাধারণ নৈপুণ্যে লক্ষ্য পূরণ হয়। কিন্তু সেরা আটে এসে স্পোটিং উইকেটে সেই চিরচেনা রূপে ফিরে গেছে দল। অস্ট্রেলিয়া ভারতের বিরুদ্ধে খেলা দুটি ম্যাচের একটিতেও জয়ের তাড়না দেখা যায়নি। এটা ভাবতেই খুব অসহায় লাগছে।

অথচ দেখুন, আফগানিস্তান কিভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করে চলেছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে দেওয়া আফগানরা এবারের বিশ্বকাপেও একের পর এক বড় শক্তিদের হারিয়ে চলেছে। সবশেষ রবিবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে ক্রিকেট দুনিয়ায়। সব বিভাগে যোগ্যতর দল হিসেবেই রশিদ, নবী, নাইবরা জয় পেয়েছে। এখন তো তাদের সামনে সেমিফাইনালে খেলার সুবর্ণ সুযোগ। তাদের সে যোগ্যাতা আছে, আমি চাই সেটাই হোক। আফগানদের এমন মধুুর সময়ে আমাদের বাংলাদেশ দল নিয়ে কথা বলতে গেলে শুধু হতাশাই দেখতে পায়। আমি কেন সবাই বারবার একটি কথাই বলেছে, ধারাবাহিক সাফল্য পেতে হলে ব্যাটারদের ভালো করতেই হবে। কিন্তু সেটা এই বিশ্বকাপে একটিবারের জন্যও দেখা যায়নি।

প্রিয় পাঠক, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের কোনো সময়ই দলের মধ্যে জয়ের মানসিকতা দেখা যায়নি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে ভারতের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটিং দলকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানো মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। যেখানে তাসকিনের মতো ফর্মে থাকা পেসারকে বাদ দিয়ে জাকের আলিকে নিয়ে ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানো হয়। সেখানে আগে ব্যাট করাই বুদ্ধিমত্তার কাজ হতো। সেক্ষেত্রে নিজেরা ১৬০-১৭০ রান করতে পারলে আর বোলাররা আগের মতো ভালো বল করতে পারলে লড়াই করা যেত। কিন্তু অবাক হলাম, ম্যাচের কোনো সময়ই জয়ের চেষ্টা দেখিনি দলের মধ্যে। ভারত রান পাহাড় করার পর ব্যাটাররা আগেই যেন হার মেনে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন। বৈশ্বিক আসরে এতবছর খেলার পরও এমন নেতিবাচক মানসিকতা সত্যিই লজ্জাকর। আমারতো মনে হয়, সুপার এইটের সৌন্দর্যই নষ্ট করেছেন সাকিবরা।

এখন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষা। আফগানদের সামনে দারুণ সুযোগ সেমিফাইনালে খেলার। বাংলাদেশকে তারা হারাতে পারলে আর আরেক ম্যাচে ভারতের কাছে অস্ট্রেলিয়া হারলে সেমিতে উঠে যাবে আফগানরা। আমার মনে হচ্ছে তারা যে ছন্দে আছে তাতে করে এটা সম্ভব। আর সেরা চারে উঠে গেলে ফাইনালেও চলে যেতে পারে আফগানরা। কেননা তখন সেমিতে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আসতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ড। দুটি দলেরই স্পিনে দুর্বলতা আছে। সবাই জানেন যে, আফগানদের স্পিন যে কোনো দলের চেয়ে সেরা। সবমিলিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো টি২০ বিশ্বকাপও জমিয়ে দিয়েছে আফগানিস্তান। তারা আরও বড় সাফল্য পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

×