ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

সাজে গহনা

ফ্যাশন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:০৬, ১৪ জুন ২০২৪

সাজে গহনা

সাজে গহনা

চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাত্র দুই দিন পরেই উদযাপিত হবে কোরবানির ঈদ। আর যে কোনো উৎসবে প্রয়োজন হয় নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা। মেয়েরা বরাবরই গহনাপ্রিয়। এমন নারী খুঁজে পাওয়া ভার যার মধ্যে গহনার প্রতি দুর্বলতা নেই।

তাদের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবেই অধিকাংশ বুটিকস হাউজে দেখা যায় এক্সেসরিজ কর্নার। সেখানে দেখা যায় চোখ ধাঁধানো নানা রকম গহনা। তাই পোশাকের সঙ্গে টিনএজ মেয়ে ও নারীরা কিনছে বাহারি এক্সেসরিজ। তবে বর্ষা ও গরমে ঢিলেঢালা পোশাকের সঙ্গে হাল্কা গহনা ও সাজ বেশ মানানসই। বেশিরভাগ নারীই কিভাবে সাজলে ভালো লাগবে ও স্বস্তি পাবে তা নিয়ে থাকেন দোটানায়।

এক্ষেত্রে সকল চিন্তা ঝেড়ে ফেলে নিজেকে সাজিয়ে তুলুন মনের মতো করে। যেহেতু বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও শপিং মলে সুতি, মেটাল, মাটি কিংবা বিডসের জুয়েলারি পাওয়া যায়। তাই পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা পরুন। কেননা গহনা ছাড়া সাজ অপূর্ণই থেকে যায়। এবার জেনে নেওয়া যাক কোন্ পোশাকের সঙ্গে কেমন গহনা মানানসই। 

উৎসবের সাজে পোশাক যেমনই হোক না কেন, তার সঙ্গে মানানসই ট্র্যাডিশনাল গহনা পরলে বেশ মানায়। তবে সকালে হাল্কা রঙের পোশাকের সঙ্গে হাল্কা সাজ পোশাক ভালো লাগবে। আবার আধুনিক ও ট্র্যাডিশনাল গহনা মিশিয়ে পরলে বেশ স্টাইলিশ লুক পাওয়া যাবে। টিনএজ মেয়েদের তেমন ঘরের কাজ করতে হয় না। তারা যদি উজ্জ্বল রঙের ঝলমলে গাউন বা লং ড্রেস পরেন, তবে চেষ্টা করুন হাল্কা গহনা পরতে। না হলে পোশাকের আভিজাত্যটা কমে যাবে।

আবার নারীরা কম কারুকাজের শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরলে, কনট্রাস্ট রঙের জমকালো গহনা বাছুন। একই সঙ্গে ভারি নেকপিস, ব্রেসলেট, কানের দুল বা আংটি পরতে পারেন। রংধনুরঙা গহনা বা একটু অন্য স্টাইলের গহনায় সাজলে ক্যাজুয়াল পোশাকেও হয়ে উঠবেন ফ্যাশন আইকন।
প্রতিনিয়ত তাপপ্রবাহ বেড়েই চলছে, তাই চেষ্টা করুন অল্প কারুকাজ করা হাল্কা গহনা পরতে। খুব চকচকে বা ঝলমলে গহনা এড়িয়ে চলুন। ব্রেসলেট হোক বা কানের দুলÑ সবটাই যেন হয় ছিমছাম। আর ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে উজ্জ্বল রঙের গহনা পরুন পোশাকের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। গহনাতে ভেরিয়েশন আনতে স্বর্ণের পাশাপাশি গোল্ড প্লেটেড, মেটাল, স্টোন, পুঁতিসহ নানা ধরনের গহনা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন ট্রেন্ড। ফ্যাশনে এখন চোকার, লেয়ার নেকলেস, লহরী মালা, বিভিন্ন ধরনের কাটিং গহনাও বেশ জনপ্রিয়। এ ধরনের গহনা শাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন জমকালো পোশাকের সঙ্গে খুব সুন্দর মানায়। গহনার দোকানগুলোর দিকে তাকালেই এখন চোখে পড়বে রুপালি প্রলেপ দেওয়া বিভিন্ন ধাতব গহনা যা বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ডে খুবই জনপ্রিয়। কখনো সরাসরি রুপার ব্যবহার, কখনো আবার ধাতবের ওপর রুপালি রঙের প্লেটিং করে এসব গহনা তৈরি হচ্ছে। সিলভার কালার ছাড়াও অক্সিডাইস, এন্টিক কালারও খুব চলছে। নানা আকৃতির রুপালি বিডস, কাটাই কাজ আর মুক্তার ব্যবহারে এসব গহনা হয়ে উঠেছে শৈল্পিক। 
বর্তমানে আধুনিক ট্র্যাডিশনাল ধাঁচের গহনার প্রতি সবার আগ্রহ। ঈদে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে শাড়ির সঙ্গে চোকার অথবা লম্বা চেনের ভারি নেকলেস ভালো লাগবে। একটু সিম্পল সাজপোশাকের সঙ্গে চার-পাঁচ লেয়ার নেকলেস পরলেই সাজে আসবে ভিন্নতা। তবে ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে গহনার রং যেন খুব বেশি উজ্জ্বল না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে গহনা পরতে চাইলে কাপড় অথবা মাটি দিয়ে তৈরি নান্দনিক গহনাও কিনতে পারেন। শাড়িতে গোল্ডেন বা তামাটে কাজ থাকলে অ্যান্টিক ধাঁচের গহনা মানাবে। সঙ্গে পরতে পারেন ম্যাচিং করা কানের দুল অথবা আধুনিক ডিজাইনের নান্দনিক  দুল। জমকালো সাজে এখন এক হাতে ব্রেসলেট, বালা বা বাউতির চল বেশি। অন্য হাতে থাকছে ঘড়ি বা আংটি। এক্ষেত্রে পাথর বসানো বালা বেছে নিতে পারেন। ফরমাল দাওয়াতে এক আঙ্গুলে শুধু বড় একটি আংটি ভালো লাগবে।
মৌচাক মার্কেট, বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিং মলে পাওয়া যাবে নানা নকশার গহনা। বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক দোকান থেকেও কিনে নিতে পারেন ভিন্ন ধারার বৈচিত্র্যময় ট্রেন্ডি গহনা। 
ফ্যাশন প্রতিবেদক

×