ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

তাইওয়ানের বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগে পাল্টা ব্যবস্থা

চীনের সামরিক মহড়া শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৫, ২৩ মে ২০২৪

চীনের সামরিক মহড়া শুরু

তাইওয়ান প্রণালি, তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বে মহড়া শুরু করেছে চীনা সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড

তাইওয়ানের চারপাশে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুই দিনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। তাইওয়ানের বিরুদ্ধে উস্কানির অভিযোগে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। আকাশ ও জলপথে চীনের এ সামরিক মহড়া চলবে। এটি বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ও উস্কানির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। খবর এএফপির।

বার্তাসংস্থা সিনহুয়া বলছে, চাইনিজ পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটা থেকে তাইওয়ান প্রণালি, তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বে মহড়া শুরু করেছে। পাশাপাশি তাইওয়ানের কিনমেন, মাতসু, উকিয়ু এবং ডঙিন দ্বীপপুঞ্জের চারপাশেও তারা এ মহড়া চালাবে। ‘জয়েন্ট সোর্ড-২০২৪অ’ নামে মহড়াটিতে সমুদ্র ও আকাশপথের যুদ্ধের প্রস্তুতি, যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভুল হামলার ওপর জোর দেয়া হবে।

চীন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লি শি বলেন, এ মহড়া তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকা-ের জন্য একটি কঠোর শাস্তি। এটি বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ও উস্কানির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে শপথ নেওয়ার তিনদিন পরই স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটির চারপাশে সামরিক মহড়া শুরু করল চীন।

বেজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। চীন সরকারের ধারণা, লাই একজন বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী যিনি যুদ্ধ ডেকে আনবেন। ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের পর চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তাইওয়ান। সম্প্রতি সময়ে তাইওয়ানের ওপর চীনের চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে কয়েকবার গণতান্ত্রিক ওই ভূখ-ে চীনা হামলার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
অবশ্য তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখ-ের সঙ্গে একীকরণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টিও অস্বীকার করে না বেজিং। এছাড়া লাই প্রেসিডেন্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। কারণ তাইওয়ানের নতুন এই প্রেসিডেন্টকে সমস্যা সৃষ্টিকারী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে মনে করে থাকে চীন।

শপথ গ্রহণের পর গত সোমবার জনসাধারণের উদ্দেশে নিজের প্রথম ভাষণে লাই বলেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম এবং স্বাধীন দেশ যার সার্বভৌমত্ব জনগণের মধ্যে রয়েছে। 
একইসঙ্গে তার সরকার তাইওয়ানের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না বলেও জোর দেন তিনি। এসময় তিনি বেজিংকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং তাইওয়ান প্রণালী ও এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানান। আর এর পরের দিন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার এই বক্তব্যের নিন্দা করেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজাখস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ওয়াংকে উদ্ধৃত করে বলেছে, লাই চিং তে এবং অন্যদের কুৎসিত কর্মকা-ে যারা জাতি এবং তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তা লজ্জাজনক।

×