ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

বিনিয়োগে আগ্রহী দেশের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলনে এগিয়ে আসুন

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৭, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলনে এগিয়ে আসুন

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্য

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্য যেন সংঘাতপূর্ণ না হয় সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক জায়গায় সংঘাতপূর্ণ অবস্থা আছে। কিন্তু বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই। শান্তি প্রগতির পথ দেখায়, উন্নতির পথ দেখায় আর জাতিকে অগ্রসর করে, উন্নত জীবন দান করে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ‘টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়নের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জন্য যথাযথ বিনিয়োগও প্রয়োজন। কাজেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ, যারা বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায়, তাদের আহ্বান করব আমাদের সমুদ্রের তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য। আমরা ইতোমধ্যে আলাপ-আলোচনা করছি, আন্তর্জাতিক টেন্ডারও দিতে যাচ্ছি। আমরা যেন সেগুলো ভালোভাবে উত্তোলন করতে পারি এবং অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু আমাদের একটি রাষ্ট্রই দিয়ে যাননি, তিনি স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সঙ্গে সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং সমুদ্র অর্থনীতির গুরুত্ব নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭৪ সালে ‘টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করে দিয়ে যান। তখনো জাতিসংঘ কিন্তু এ ধরনের কোনো আইন বা নীতিমালা গ্রহণ করেনি। তার আট বছর পর, ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ আনক্লজ প্রণয়ন করে।

আনক্লজ প্রণয়নের পর বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য ১৯৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো আসলে কোনো পদক্ষেপ আর করেনি। জাতির পিতা যেখানে রেখে গিয়েছিলেন, সেখানেই পড়ে ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা রয়েছে, সেখানে আমাদের কোনো অধিকারই ছিল না। আর এই অধিকারের কথা ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পরে সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছে, ২১টা বছর এ ব্যাপারে কেউ কোনো রকম উদ্যোগ নেয়নি।’ 
সংবিধান সংশোধন করে আমাদের স্থলসীমাটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে সেটা আর কার্যকর করা হয়নি। ২১ বছর পরে আমরা যখন সরকারে আসি, তখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। খুব স্বাভাবিকভাবে কাজগুলো শুরু করতে হয়েছিল খুব গোপনীয়তার সঙ্গে। পাশাপাশি আমি আনক্লজেও সই করে আসি জাতিসংঘে। সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার যে আছে, সেটা যাতে নিশ্চিত হয়, সেই ব্যবস্থাটা আমি করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই যে সম্ভাবনাময় সুবিশাল একটা অর্থনৈতিক এলাকা পেলাম, যা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারবে। কাজেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দূরদর্শিতা এবং বর্তমান আওয়ামী লীগের সরকারের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ জাতীয় উন্নয়নের সূচকে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আমি বিশ্বাস করি, আজকের এই দিনব্যাপী সেমিনার সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সমুদ্রকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ‘টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ এর মূলনীতি দেশের সমুদ্রকেন্দ্রিক সকল সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর। প্রাচীনকাল থেকে এই অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের সব ব্যবসা-বাণিজ্য চলমান, কিন্তু ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দেশ এবং বাংলাদেশ ও আমাদের প্রতিবেশী দেশ; একটি কথা আমাদের সব সময় স্মরণ রাখতে হবে, এই অঞ্চলটা কিন্তু সব সময় খুব নিরাপদ। এখানে কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সেই প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।

এই সামুদ্রিক পথ আমাদের সব দেশ সমানভাবে ব্যবহার করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও চলছে। কোনো দিন কোনো রকম দ্বন্দ্ব এই অঞ্চলে কিন্তু তৈরি হয়নি। কাজেই আমরা সব সময় এটাই চাইব যে, আমাদের এই অঞ্চলে যে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে সেটা যেন সংঘাতপূর্ণ না হয়। কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হয়। এটা যেমন শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যপথ, সেই শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবেই চলমান থাকবে। 
সমুদ্র সম্পদ আহরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অঞ্চল যেটুকু আমরা অর্জন করেছি, সেখানে সমুদ্র সম্পদ আহরণ করা এবং আমাদের অর্থনীতিতে, অর্থাৎ যে ব্লু ইকোনমি আমরা ঘোষণা দিয়েছি, সেখানে তা অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে একটি ইনস্টিটিউট করা হয়েছে গবেষণার জন্য এবং এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা যখন এই আইনটা করেন, সমুদ্রের দূষণ যাতে না হয়, সেই ব্যবস্থাটাও কিন্তু তিনি রেখেছিলেন। এখন তো এই বিষয় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, তখন কিন্তু এত আলোচনা ছিল না। সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।’
বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে চলব- মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি। কারণ আমাদের এই ব-দ্বীপটাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিরাপদে, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, জলবায়ু অভিঘাত থেকে তারা যেন রক্ষা পায় এবং সুন্দরভাবে তারা যেন বাস করতে পারে সেভাবেই আমরা কাজ করতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×