রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

একাত্তর নিয়ে গর্ব করতে পারেন এথিন

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তালতলীর আদিবাসী পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে আগাঠাকুরপাড়ার ২৪ ঘরের ৪৬ পরিবারের নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছেন আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা। তবে নারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডাঃ নেনিয়ে চিন ও সাবেক সাংসদ এথিন। দু’জনে সম্পর্কে খালাত বোন। ওই সময় তারা ছিল মেডিক্যাল ও স্কুলছাত্রী। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রƒষা করেছেন। এছাড়াও ওই এলাকায় মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষার ক্ষেতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ডাঃ নেনিয়ে চিন ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। তার বাবার নাম মংজান মাস্টার। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় যুদ্ধ শুরু হয়। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের পরে তিনি নিজ গ্রাম আগাঠাকুরপাড়ায় চলে আসেন। ওই সময় এথিন ছিলেন ৭ম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী। বাবার নাম থয়চা অং মাস্টার। দু’জন সম্পর্কে খালাত বোন। একইপাড়ায় বাড়ি। আগাঠাকুরপাড়া থমরাউ মগ ও থয়চা অং মাস্টারের বাড়ি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। ডাঃ নেনিয়ে চিন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতেন। ডাঃ নেনিয়ে চিনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন এথিন। ছোট বোন এথিন বড় বোন ডাঃ নেনিয়ে চিনের চিকিৎসা কাজে সহায়তা করতেন। ওই ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অন্যতম হয়ে যান ডাঃ নেনিয়ে চিন ও এথিন। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে নেনিয়ে চিন ডাক্তারী পাস করেন। ১৯৭৬ সালে ইর্ন্টানি শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে চিকিৎসা পেশায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী অর্জন করে। চাকরিরত অবস্থায় সরকারী বিভিন্ন পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৩ সালে চাকরি ছেড়ে আমেরিকা চলে যান। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অপরদিকে এথিন লেখাপাড়া করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে প্রথমে রামু কলেজে দর্শন বিভাগের প্রভাষক পদে অবৈতনিক হিসেবে এবং ১৯৯১ সালে কক্সবাজার মহিলা কলেজে একই বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষক ক্যাথিং অংয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বৈবাহিক সূত্রে তিনি বর্তমানে কক্সবাজারে বসবাস করছেন। ওইখানে শিক্ষকতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের কক্সবাজার, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময়েই সংসদের প্যানেল স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপজেলার ১৩ পাড়ায় সাড়ে তিন হাজার আদিবাসীর বসবাস।

Ñমোঃ হোসাইন আলী কাজী

আমতলী থেকে

প্রকাশিত : ৬ জুন ২০১৫

০৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: