মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিমোনার স্বপ্ন

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • মাহমুদা সুবর্ণা

মাত্র চার বছর বয়সেই টেনিসের সঙ্গে হাতে খড়ি। বয়স যখন ছয় তখন থেকেই নিয়মিত অনুশীলন। বাবা ছিলেন ফুটবলার। তাই খেলাধুলার ক্ষেত্রে সিমোনা হ্যালেপের কোন বাধা ছিল না। যে কারণে ষোল বছর বয়সে টেনিসেই ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে গত মৌসুমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন রুমানিয়ার এই তরুণ প্রতিভাবান টেনিস তারকা। নতুন মৌসুমে স্বপ্ন দেখছেন নতুন কিছু করার। পূরণ করতে চান গ্র্যান্ডসøাম জয়ের স্বপ্ন।

গত মৌসুমটা দারুণভাবেই কেটেছে সিমোনা হ্যালেপের। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেন তিনি। আর দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম ফ্রেঞ্চ ওপেনেই ফাইনালে উঠার কীর্তি গড়েন হ্যালেপ। আর উইম্বল্ডনের সেমিফাইনাল। কিন্তু দুর্ভাগ্য। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছুয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। টুর্নামেন্টের ফাইনালে রাশিয়ান টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। তারপরও হতাশ নন সিমোনা হ্যালেপ। বরং গত মৌসুমের পারফরমেন্সই নতুন মৌসুমের অনুপ্রেরণা তার। অসাধারণ পারফরমেন্সের সৌজন্যেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নাম্বার স্থানটি দখল করেন তিনি। আর মৌসুম শেষ করেন তিনে থেকে। আর এতে নিজেকে গর্বিত মনে করেন তরুণ প্রতিভাবান এই তারকা। তবে নতুন মৌসুমে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থান নয় সিমোনা হ্যালেপের লক্ষ্য গ্র্যান্ডসøাম। তবে এই মৌসুমটা যে কঠিন হবে সেটাও স্বীকার করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সিমোনা হ্যালেপ বলেন, ‘২০১৫ সালটা হবে কঠিন একটি বছর। তবে এ বছর আমার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে। এ বছরটা দেখারও। নিজেকে কতটুকু উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি। তবে এ বছর র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের চেয়ে কোন একটি গ্র্যান্ডসøাম জেতাটা হবে আমার কাছে বেশি সন্তুষ্টির। আর র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশের মধ্যে থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

এই মৌসুমে অভিজ্ঞ সেরেনা উইলিয়ামস-মারিয়া শারাপোভাদের সঙ্গে সিমোনা হ্যালেপের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ইউজেনি বাউচার্ড-এ্যাঞ্জেলিক কারবার এবং পেত্রা কেভিতোভারা। কেননা ২০১৪ সালটা দুর্দান্ত কেটেছে ইউজেনি বাউচার্ডের। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফানালে উঠেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরমেন্সের সৌজন্যে ফ্রেঞ্চ ওপেনেও শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেন বাউচার্ড। আর উইম্বল্ডনে নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নেন কানাডার তরুণ প্রতিভাবান এই টেনিস তারকা। প্রথম কানাডিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বল্ডনের ফাইনালে উঠার বিস্ময়কর এক কীর্তি গড়নে তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভার কাছে পরাজয় মানেন বাউচার্ড। তবে বিশ্ব টেনিসকে চমকে দিয়েই র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে থেকে মৌসুম শেষ করার অসাধারণ এক রেকর্ড গড়েন তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। আর ২০১৪ সালের অসাধারণ পারফরমেন্সই নতুন মৌসুমে আরও বেশি আশা দেখাচ্ছেন ইউজেনি বাউচার্ডকে। এ বিষয়ে ২০ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা বলেন, ‘২০১৪ সালটা দারুণ কেটেছে আমার। আশা করি পারফরমেন্সের এমন ধারাবাহিকতা নতুন মৌসুমেও ধরে রাখতে পারবো।’ বিশ্ব টেনিসে এক সময় জার্মানদের আধিপত্য ছিল। বিশেষ করে স্টেফি গ্রাফ এবং বরিস বেকারদের সময়। কিন্তু বর্তমান সময়ে জার্মানির সেরকম কোন টেনিস খেলোয়াড়দের দেখা মিলছে না। ২০১৪ সালে জার্মানির সেরা টেনিস খেলোয়াড় ছিলেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। যিনি র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থেকে মৌসুম শেষ করতে সক্ষম হয়েছেন। মাত্র তিন বছর বয়সেই টেনিস খেলতে শুরু করেছিলেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। কিন্তু কোর্টে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সে সময়। ২০০৩ সালে এসে প্রথমবারের মতো জুনিয়র টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পান এই জার্মান খেলোয়াড়। গত চার বছর ধরে টেনিসের বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পান এ্যাঞ্জেলিক কারবার। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠার রেকর্ড গড়েন তিনি। এর পরের বছর আরও একধাপ এগিয়ে আসেন এই জার্মান খেলোয়াড়। ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল ও উইম্বল্ডনের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি। এবারও ব্যর্থ হন শিরোপার দেখা পেতে। তবে ২০১২ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে পাঁচে জায়গা করে নিতে সক্ষম হন এ্যাঞ্জেলিক কারবার।

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫

০৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: