ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

রাসেলস ভাইপার মারার পর পেট ফেঁটে বের হলো ২৯টি বাচ্চা

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী 

প্রকাশিত: ২২:৪৪, ২৪ জুন ২০২৪

রাসেলস ভাইপার মারার পর পেট ফেঁটে বের হলো ২৯টি বাচ্চা

বাচ্চাসহ মেরে ফেলা হয় রাসেলস ভাইপারটি।

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি রাসেলস ভাইপার সাপকে ২৯টি বাচ্চাসহ পিটিয়ে মেরেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (২৪ জুন) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার কৈমারী  ইউনিয়নের আলসিয়া পাড়ার তিস্তা নদীর ডানতীর বাধে সাপটি দেখার পর এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন দেখতে পায় একটি সাপ কিনারা দিয়ে বাধে শুয়ে আছে। পরে তারা আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে সবাই গিয়ে বিষধর সাপটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। এ সময় সাপের পেট থেকে ২৯টি বাচ্চা বের হলে স্থানীয়রা বাচ্চাগুলোকেও মেরে ফেলে। সাপটির ছবি দেখে অনেকে সেটি রাসেলস ভাইপার বলে শনাক্ত করেন।

কৃষক মোতানাব্বির রহামান বলেন, ‘মানুষের উপস্থিতি টের পেলে যেকোনো সাপ সরে যায়। তবে আজ দেখলাম, এই বিষধর সাপ তেড়ে আসে। পরে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সাপ ও বাচ্চা গুলোকে পিটিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর আশপাশের জমিতে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে দল বেঁধে সাপ মারতে লাঠি নিয়ে জমিতে অভিযান চালাতেও দেখা গেছে।’

কৈমারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে গিয়েছি, অনেক লোক দেখার জন্য এসেছে। সাপটি দেখে মনে হচ্ছে রাসেলস ভাইপার। কারণ, তার পেটে ২৯টি বাচ্চা পাওয়া যায়। আমরা জানি সাপের তো বাচ্চা হয় না। কিন্তু এ সাপের বাচ্চা দেখে অবাক হলাম। এরপরও বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়েছে।’

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব রশিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন জানান, সোমবার (২৪ জুন) বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। মা সাপ ও সাপের বাচ্চা গুলোকে না মেরে বস্তায় ভরে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু এলাকাবাসী তার আগেই লাঠি দিয়ে সাপগুলো মেরে ফেলে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।’

নীলফামারী বন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘রাসেলস ভাইপার সাপটি বিষধর হলেও এটি বন্য প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই এটি নিধনের কোনো সুযোগ নেই। একটি গুজব রয়েছে, এই সাপ কাটলে নিশ্চিত মৃত্যু। এটি আসলে ঠিক কথা নয়। সাপটি বিষধর, তাই কাটা স্থানে কাপড় বা দড়ি দিয়ে বেঁধে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা হয়, রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।’

এম হাসান

×