ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

অধিনায়ক জানালেন দল নিয়ে প্রত্যাশার কথা

সাকিব-রিয়াদকে ভালো কিছু উপহার দিতে চান শান্ত

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৩১, ১৫ মে ২০২৪

সাকিব-রিয়াদকে ভালো কিছু উপহার দিতে চান শান্ত

মিরপুর শেরেবাংলায় বুধবার ফটোসেশনে বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ দলের ক্রিকেটাররা

টি২০ বিশ্বকাপ ২০০৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে হয়ে যাওয়া ৮টি আসরেই খেলেছেন সাকিব আল হাসান। একটি ছাড়া বাকি ৭টি খেলেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। উভয় ক্রিকেটারের এবারই আসন্ন টি২০ বিশ^কাপ আসরটি শেষ অংশগ্রহণ হতে পারে। বাংলাদেশ দলে বিশে^র অন্যতম সিনিয়র এ দুই ক্রিকেটার থাকাটাকে অনেক ভালো কিছুই মনে করছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। 
দুই অভিজ্ঞতম ক্রিকেটারের কাছে বিশেষ কিছু চাওয়া নেই তার, তবে এবারের আসরে দু’জনকে ভালো স্মৃতি উপহার দিতে চান বলে জানিয়েছেন এ তরুণ অধিনায়ক। তবে অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে শান্ত নিজে তেমন ভালো করতে পারেননি। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য লিটন কুমার দাসও বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের এই ব্যর্থতারও ব্যাখ্যা দিয়ে শান্ত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিশ^কাপে ভালো কিছু করার।

বুধবার গভীর রাতে বাংলাদেশ দল টি২০ বিশ^কাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র রওনা হয়েছে। তার আগে দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিশ^কাপের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন শান্ত।
এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যৌথভাবে আয়োজন করবে টি২০ বিশ^কাপের নবম আসর। এই আসরে অংশ নিতে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ভারতের রোহিত শর্মা ও বাংলাদেশের সাকিব। অভিজ্ঞ সাকিবের পাশাপাশি আছেন মাহমুদুল্লাহ যার এটি অষ্টম বিশ^কাপ। শুধু ২০২২ সালের সর্বশেষ টি২০ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি ২০২১ সালের আসরে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া এ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের।

বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়লেও ৩৮ বছর বয়সে ঠিকই আবার বিশ^কাপ খেলতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে ৩৭ বছর বয়সী সাকিবেরও এটাই হতে পারে শেষ টি২০ বিশ^কাপ। তাদের অবসরের বিষয়টি নিয়ে শান্ত বলেছেন, ‘জানি না, এটা তাদের শেষ বিশ্বকাপ কি না। এটা ধারণা। তবে আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।’ কিন্তু এ দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্য দারুণ কিছু করতে চান এবার বিশ^কাপে শান্ত।

এ বিষয়ে তিনি বলেছেন,‘তারা এত লম্বা সময় ধরে খেলছেন, তরুণ ক্রিকেটার আমরা যারা আছি, তারা অবশ্যই চেষ্টা করব তাদেরকে ভালো স্মৃতি উপহার দিতে। ভালো একটি বিশ্বকাপ শেষ করে আমরা তাদেরকে উপহার দিলাম অবশ্যই আমাদের তরুণদের দায়িত্ব এটি। সবার মধ্যে এই ব্যাপারটা অবশ্যই থাকেই।’ কিন্তু সাকিব-মাহমুদুল্লাহর কাছ থেকে বাড়তি কিছু চাওয়ার নেই শান্তর।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেছেন, ‘সাকিব ভাই, রিয়াদ ভাইয়ের কাছ থেকে বাড়তি বা অতিরিক্ত কিছু চাই না। উনারা যেভাবে পারফর্ম করছে, যার ভূমিকা যেটি, তা করতে পারলে দল অবশ্যই লাভবান হবে। উনাদের যে অভিজ্ঞতা আছে, এটা যদি প্রতিটি ক্রিকেটারের মধ্যে ছড়িয়ে দেন, তাহলে আমাদের দলের যে ছোট ছোট জায়গাগুলোতে উন্নতির দরকার আছে, ওই জায়গাগুলোয় খুব ভালো অবস্থানে থাকব।’
অবশ্য বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বিশ^কাপে খুব বেশি প্রত্যাশা করতে বেশ আগেই নিষেধ করেছেন শান্ত। কারণ টি২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ খুব বেশি উন্নতি করতে পারেনি। তবে দেশ ছাড়ার আগে কিছুটা প্রত্যাশার কথা তিনিই শুনিয়েছেন। শান্ত বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সবাই প্রত্যাশা করবে, আমিও করব।

আমার মনে হয়, আমরা যদি সুন্দরভাবে ছোট ছোট চিন্তা করে এগোই তাহলে ভালো হবে। আমরা যে গ্রুপে আছি, সেটাকে খুব সহজ বলব না। গ্রুপ পর্বটা পার করতে পারলে ভালো হবে। প্রস্তুতি ও সমন্বয় মিলিয়ে মনে হচ্ছে, আমাদের দলটা খুব ভালো। তবে ওই দিনে ভালো খেলাটা জরুরি। আশা করছি, এবার সবাই সেটা করবে।’ কিন্তু দলের ওপেনার লিটন, অধিনায়ক শান্ত নিজে ভালো ছন্দে নেই। রানখরায় ভুগছেন দুজন এবং সেই সঙ্গে স্ট্রাইকরেটও টি২০ ফরম্যাটের সঙ্গে মানানসই নয়।

এ বিষয়ে শান্ত বলেছেন, ‘এই যে সিরিজগুলো খেললাম, এগুলো পুরোটাই ছিল যে এখান থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কীভাবে এগোব বা ঘাটতিগুলো কীভাবে ঠিক করব। এটাই আমরা করার চেষ্টা করেছি। গত বিশ্বকাপের ভালো স্মৃতি আমার আছে। ওখান থেকেই আমার ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। এবার যে আমি ব্যাটিং নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত বা খুব বেশি চিন্তা করছি, তা নয়। কঠোর যে পরিশ্রম করার বা যে জায়গাগুলোতে উন্নতি করার, তা করছি। আশা করব বা আত্মবিশ্বাস আছে যে, ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াব বিশ্বকাপে।’ 
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি২০ সিরিজে লিটনও ব্যর্থ ছিলেন- ৩ ম্যাচে ৪৩ বল খেলে লিটন রান করতে পেরেছেন ৩৬। শেষ দুই ম্যাচে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। সবশেষ ১০ টি২০ ম্যাচে তার ফিফটি নেই। তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে লিটন বলেছেন, ‘কখনোই করতাম না (লিটনকে বদল)।

কারণ, এই সিরিজটি শুরু হওয়ার আগে, এমনকি তারও আগে, হয়তো শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকেই বিশ্বকাপে আমাদের কেমন কম্বিনেশন হবে বা কী করব, এটা নিয়ে আমরা মোটামুটি পরিষ্কার ছিলাম, দু-একজন ছাড়া। আমাদের মধ্যে এমন কোনো দ্বিধা কাজ করেনি যে, খারাপ খেলার পর হঠাৎ করে একজনকে বদলে ফেলব।’

×