ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিন

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০৪, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইলের ঘটনা প্রবাহের দিকে সংশ্লিষ্টদের তীক্ষè নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২৪ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ আইনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনাররা আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমান বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দরে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনায় ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৪’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।  বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইসরাইল-ইরান সংকট নিয়ে কোনো আলোচনা হলো কি না বা প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গটা আলোচনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে বাস্তবতা  তৈরি হচ্ছে, সেটির দিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সকল সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তীক্ষè নজর রাখার জন্য বলেছেন।

এই ঘটনার পর এবং এতে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সেটি কীভাবে আমরা মোকাবিলা করব, যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য আমরা কী করতে পারি, সেজন্য পূর্ব প্রস্তুতি নিতে বলেছেন এবং সেই পরিকল্পনাগুলো ঠিক করতে বলেছেন। 
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঘটনা প্রবাহের দিকে নজর রাখতে। যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তখন যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হতে পারে বা বিভিন্ন সেক্টরে যে প্রভাব পড়তে পারে, সেটি যেন সংশ্লিষ্ট সেক্টর থেকে পরিকল্পনা প্রস্তুত করে, সেটি মোকাবিলা করার জন্য যেন তারা পরিকল্পনা নেন এবং প্রস্তুতি নেন।  যার যার সেক্টরে যেন প্রস্তুতি নেন। 
অর্থনীতির ওপর প্রভাব বা তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেছেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রথমত আলোচনা হয়নি। অর্থনীতি বা তেলের দাম এ রকম না। তিনি বলেছেন, প্রত্যেককে পরিকল্পনা করতে হবে। ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে। তিনিও করছেন। যখনই পরিবর্তন বা চ্যালেঞ্জ দেখব, তখনই যেন আমরা তা মানিয়ে নিতে পারি।

আমরা যেন রি-অ্যাকটিভ না, আমরা যেন প্রো-অ্যাকটিভ হই। সেজন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কোন কোন খাতে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে- জানতে চাইলে মাহবুব হোসেন বলেন, সবাইকে বলেছেন, যার যার সেক্টরে সবাই যেন প্রস্তুতি নেয়। সংকট তৈরি হলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, তখন কী করা যায়, সেসব বিষয়ে পরিকল্পনা রাখতে বলেছেন।

ব্যয় সাশ্রয়ী হতে বলেছেন কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যা যা করণীয় প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। হয়তো জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, তখন তার প্রভাব কী, কী করা যায়, সেসব বিষয়ে পরিকল্পনা রাখতে বলেছেন।
বিচারপতিদের সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন নির্বাচন কমিশনাররা ॥ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইনÑ২০২৪ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ আইনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমান বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর আগে এ আইনের ইংরেজি ভার্সন অনুযায়ী আমাদের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান, আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও সেই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ আইনটিই পুনরায় বাংলায় করা হয়েছে। সেটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের ২১ আগস্ট বিচারপতিদের সমান সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন করে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আপিল বিভাগের বিচারপতিরা যে সুযোগ-সুবিধা পান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) জন্য সেই সুবিধা এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে অন্য কমিশনারদের জন্য।
এ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২৩ এর বিষয়ে ১৯৮৩ সালের যে অর্ডিন্যান্স আছে, সেটি বাংলায় করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সামরিক শাসনামলে যেসব আইন ছিল, সেগুলো বাংলায় আইন করা হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশনের নির্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন-২০২৩ কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ আইনের খসড়া অনুমোদন ॥ কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দরের উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনায় ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৪’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, মহেশখালী মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার আওতায় মাতাবাড়িতে উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।  
মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে যাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা যায়, সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধা থেকে শুরু করে উন্নয়নের মৌলিক কিছু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সামগ্রিক কিছু অঞ্চল চিহ্নিত করে উন্নয়ন কর্মকা- করা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেশকিছু কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পুরো কাজ এখন আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয় করছে।
সমন্বিতভাবে এসব কাজ করতে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ সদস্যের বোর্ড থাকবে।  
কর্তৃপক্ষের মূল কাজ হবে নির্ধারিত এলাকায় ভূমি ব্যবহারের মাস্টারপ্ল্যান করে তা বাস্তবায়ন করা। যাদের ভূমি দেওয়া হবে, তারা যেন যথাযথভাবে কাজ করেন। মূল লক্ষ্য হবে বিদেশী বিনিয়োগ। ‘এক্সপোর্ট ও ইমপোর্টের নিট টাইম’ যেন কম হয়।
তিনি বলেন, ৫৫ হাজার ৯৬৮ একর জমি নিয়ে প্রকল্প এলাকার যে মাস্টারপ্ল্যান হবে, সেখানে যেন পরিবেশ সংরক্ষণ করা হয়, লবণ চাষ, পান চাষও যেন সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ যাতে ঘটে, তাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে এটি করা হচ্ছে।  
কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিষ্পত্তি করে পুনরায় আইনটি মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। কক্সবাজারে কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় হবে। ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিস করা যাবে।

×