ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

দগ্ধ সেই চিকিৎসককে দেখতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দগ্ধ সেই চিকিৎসককে দেখতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাসপাতালে দগ্ধ চিকিৎসক লতা

স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ চিকিৎসক লতা আক্তারের চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ–খবর নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। 

মঙ্গলবার বিকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন লতাকে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 
এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা চিকিৎসাধীন লতার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান। লতার শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

পুরো ঘটনা শুনে এবং ঘটনার তীব্রতা অনুভব করে ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক, হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক। এমন ঘটনায় আসলে কেউই লাভবান হয় না, শুধু নিজেদেরই ক্ষতি হয়। পেট্রোলে পুড়ে যাওয়া আমাদের এই চিকিৎসক রোগীর প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে সুস্থ করা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। তবে রোগীকে সুস্থ করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব ধরনের চেষ্টাই আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা আমাদের সাধ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে চাই এই রোগী সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।’ 

চিকিৎসাধীন রোগীকে দেখার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক আহমেদুল কবীর, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক রায়হানা আউয়ালসহ অন্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী রায়পুরায় তালাক দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে লতার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তার প্রাক্তন স্বামী খলিলুর রহমান।

প্রথমে লতাকে উদ্ধার করে নরসিংদীর স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিন সন্ধ্যার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

লতার খালু ফরহাদ হোসেন জানান, লতা কয়েক বছর আগে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন লতা। গত ২ বছর আগে লতা নিজের পছন্দে খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বিয়ের বেশ কিছুদিন পর লতা জানতে পারেন খলিলুর রহমান পেশায় একজন ড্রাইভার। বিষয়টি লতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। তাই মিথ্যে পরিচয়ে প্রতারণা করে বিয়ে করার অভিযোগে তার স্বামীকে তালাক দেন লতা। এ ঘটনায় স্বামী খলিলুর ক্ষিপ্ত হয়ে লতার বাড়িতে এসে পেট্রোল ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। 

লতার গায়ে আগুন দেওয়ার পর তার প্রাক্তন স্বামী নিজের গায়েও আগুন দেন এবং তিনি গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

এস

×