ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

ভুল চিকিৎসায়

একের পর এক মৃত্যু

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

একের পর এক মৃত্যু

ভুল চিকিৎসায় একে একে মৃত্যু

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দেশে ভুল চিকিৎসায় একে একে মৃত্যু হয়েছে কয়েকটি তাজা প্রাণের। সুন্নতে খতনা করাতে এসে বছরের শুরুতেই রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে প্রাণ যায় শিশু আয়ানের। এর এক মাসের মাথায় রাজধানীর মালিবাগের জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকের ভুলে খতনা করাতে এসে আরেক শিশু আহনাফেরও প্রাণ যায়।

শুধু তাই নয় নোয়াখালীতে খতনা করাতে এসে পুরুষাঙ্গের মাথা কেটে ফেলা শিশু নাহিয়ান তানভীর কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বিছানায়। গত সোমবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে সুস্থ পায়ে হেঁটে আসা যুবক রাহিব রেজাকে এন্ডোস্কোপি করাতে অ্যানেস্থেসিয়ার ঘোর কাটাতে না পেরে তাকে দিতে হয়েছে প্রাণ। এর ক’দিন আগে বরগুনার বামনা এলাকায় ভুল চিকিৎসায় প্রায় যায় মা ও নবজাতকের।

শুধুমাত্র চিকিৎসকের ভুলে এবং অ্যানেস্থিসিয়ার ভুল প্রয়োগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে একের পর এক তাজা প্রাণ। এমন পরিস্থিতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খতনা করার সময় আল নাহিয়ান তানভীর (৮) নামে এক শিশুর পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ কেটে ফেলে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী। জরুরি বিভাগের দায়িত্বহীনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে অভিযোগ করে শিশুটির পরিবার জানায়, এদিন বেলা ১১টার দিকে শিশু তানভীরকে খতনা করাতে তার পরিবারের লোকজন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তখন সেখানে মেডিক্যাল অফিসার এবং উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত ছিলেন না। সৌরভ নামে এক মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (শিক্ষানবিস) শিশুটির খতনা করতে গিয়ে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ কেটে ফেলেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটির স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং সৌরভকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম ও উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার আবু নাছেরসহ জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা অন্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী শিশু তানভীরের বাবা আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিশুকে খৎনা করাতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আসছে বলে সৌরভ নিজেই খতনা করায়। এতে আমার ছেলের পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ কেটে যায়। অতিরিক্ত রক্তপাতে আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং সৌরভকে আটকে রাখি। বর্তমানে চিকিৎসকরা শঙ্কামুক্ত বললেও আমরা শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। আমি সৌরভের শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ফোন দিলে দায়িত্বে থাকা ডা. মো. সাহাদাত হোসেন সাগর ফোন রিসিভ করলেও তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। আর মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (শিক্ষানবিস) সৌরভের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার আবু নাছের। তিনি বলেন, এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি তেমন জটিল ও গুরুত্বর নয়। শিশুটি এখন ভালো আছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। 
তবে শিশু তানভীর কিছুটা সুস্থ থাকলেও খতনা করাতে এসে জীবন প্রদীপ নিভে গেছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিন আয়হামের (১০)। শুধু ভুল চিকিৎসা নয় অ্যানেস্থিসিয়ার অনুমোদনই ছিল না ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির চিকিৎসা নিতে আসা সেন্টার জেএস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টারটির। তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেন্টারটিকে সিলগালা করে দিলেও এমন নির্মম মৃত্যুর শোক কাটাবে কিভাবে পরিবার?

আহনাফের বাবা ফখরুল আলম জানান, গত মঙ্গলবার রাতে মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টারে অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন ডা. এসএম মুক্তাদিরের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার রাতে সন্তানকে সুন্নতে খতনা করাতে নিয়ে আসা হয় আহনাফকে। রাত আটটার দিকে খতনা করানোর জন্য অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আর ঘুম ভাঙেনি আহনাফের। এর ঘণ্টাখানেক পর হাসপাতালটির পক্ষ থেকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও পূর্ণ অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয় আহনাফকে। যে কারণে তার জ্ঞান ফেরেনি। 
এর ঠিক এক মাস আগে চিকিৎসকের ভুলে খতনা করাতে এসে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে প্রাণ হারায় শিশু আয়ান। জানুয়ারির ৭ তারিখে ঘটা হৃদয়বিদারক এই মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই খতনা করাতে বা অ্যানেস্থেসিয়ার ভুল প্রয়োগে একের পর এক মৃত্যুতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে সমালোচনার ঝড়। সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। আয়হামের বাবা ফখরুল আলম জানান, ছেলেকে তো ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) ঢুকিয়ে দিলাম। ও বলছিল একটু ভয় লাগছিল।

আমি বলেছিলাম, বাবা কোনো সমস্যা নেই, আল্লাহ ভরসা। এরপর ওটিতে ঢুকল, আর সব শেষ। আমার ছেলে খুব উৎফুল্ল মনে ওটিতে ঢুকেছিল, খুব উৎফুল্লভাবে। তার খতনা করানো হবে, এতে সে খুব খুশি ছিল।
একই রকম সুস্থভাবে হাসপাতালে এন্ডোসকপি করাতে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে এসেছিলেন রাহিব রেজা (৩১) নামের এক টগবগে যুবক। রাজধানীর স্টার্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও আইটি কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত এই যুবকের পরিবার স্বপ্নেও ভাবেনি একটি এন্ডোসকপি হতে পারে পুরো পরিবারের জন্য কাল।

স্বজনদের অভিযোগ, ল্যাবএইড হাসপাতালে পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখেই রাহিব রেজাকে অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করা হয়। শারীরিক জটিলতার মধ্যেই এন্ডোস্কপি করা হয়। যে কারণে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে মৃত্যুরণ করেন। গত সোমবার সকালে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাহিব রেজার মৃত্যু হয়।
পরিবার জানায়, পেটে গ্যাসজনিত সমস্যার কারণে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) কাছে যান রাহিব রেজা। এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ল্যাবএইডে এন্ডোস্কপি করানোর পরামর্শ দেন ডা. স্বপ্নীল। রাহিব রেজাকে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় খালি পেটে ল্যাবএইড হাসপাতালে আসতে বলা হয়।

যথাসময়ে তিনি হাসপাতালে এলেও এন্ডোস্কপি শুরু করা হয় রাত ১১টার দিকে। এর দেড় ঘণ্টা পরও রোগীকে বাইরে না আনা হলে একজন জোর করে এন্ডোস্কপি রুমে ঢুকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। এরপর অবস্থা জটিল হলে রাহিব রেজাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে ডা. স্বপ্নীল জনকণ্ঠকে বলেন, রোগীকে প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়েছিল তার ফ্যাটি লিভার রয়েছে। তাই আমি তাকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা বলি। যার মধ্যে একটি এন্ডোসকপিও ছিল। আমরা যখন কাউকে এন্ডোসকপি করার প্রস্তাব দেই তাহলে দুইভাবে করার কথা বলি। একটি হলো ঘুম পাড়িয়ে। আরেকটি ঘুম না পাড়িয়ে। ঘুম পাড়িয়ে করলে আমরা ঘুমের ওষুধ দেই। আর না হলে অ্যানেস্থেসিয়া করা হয়।

তিনি অন্যসব রোগীর মতোই আসছিলেন। সব নিয়মনীতি অনুযায়ী তার সম্মতি সাপেক্ষে আমরা এন্ডোসকপি রুমে ট্রলিতে করে নিয়ে আসা হয়। এন্ডোসকপিতে তার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছাড়া আর কিছু আসে নি। পরে তাকে ওই ট্রলিতে করেই পাশের একটি অবজারভেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবজারভেশন রুমে নিয়ে যাওয়ার পর পরই কর্তব্যরত নার্স আমাদের জানায় রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। তখন আমরা ছুটে যাই। তখন তাৎক্ষণিকভাবে আমরা যা যা করা প্রয়োজন সব করি।

কিন্তু রোগী আরও খারাপ হতে থাকে। তখন আমরা রোগীর আত্মীয়স্বজনকে খুঁজি। কারণ তাকে আইসিইউতে নিতে হবে। দরজা খুলে ঢোকার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আইসিইউতে আগে থেকেই জানানো ছিল। তারা প্রস্তুত ছিল আগে থেকেই। কিন্তু রোগীর কোনো উন্নতি হয়নি। পালস, প্রেশার পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপর রোগী মারা যাওয়ার পর আমরা উপস্থিত রোগীর আত্মীয়স্বজনকে জানানো হয়। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তখন উপস্থিত ছিলেন। 
কিন্তু স্বজনদের অভিযোগ ডা. স্বপ্নীল এবং তার টিমের ওপরই দিচ্ছেন। রাহিব রেজার স্ত্রী তাসমিয়া আফরোজ গণমাধ্যমকে বলেন, এন্ডোস্কপির আগে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে কিছু পরীক্ষা করানো হয়েছিল। কিন্তু ডা. স্বপ্নীল দেরি করে এসে সেই পরীক্ষার রিপোর্টগুলোও দেখেননি। তিনি তাড়াহুড়া করে রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে এন্ডোস্কপি শুরু করে দেন।

আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর পরীক্ষার রিপোর্টগুলো অন্য চিকিৎসককে দেখালে তারা জানান, রাহিব এন্ডোস্কপির জন্য ফিট ছিল না, বরং তার বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ছিল। কিন্তু সেগুলো না দেখেই ল্যাবএইডে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে এন্ডোস্কপি করা হয়েছে। এ কারণেই তার হার্ট ফেইলিউর হয়েছে বলে অন্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
তবে রোগীকে কোনো অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ডা. স্বপ্নীল । তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা ও মনগড়া বলে দাবি করে বলেন, আমরা ওই রোগীকে কোনো অ্যানেস্থেসিয়াই দিইনি। তাকে ঘুম পাড়িয়ে এন্ডোস্কপি করেছি। এন্ডোস্কপি করার সময়ও সে নরমাল ছিল। এরপর যখন তাকে এন্ডোস্কপি রুম থেকে অন্য রুমে নেওয়া হয়, তখন নার্স জানান তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে, পালস পাওয়া যাচ্ছে না, অক্সিজেন সেচুরেশন পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে তখন তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে।
অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হোক বা না দেওয়া হোক একটি তাজা প্রাণ ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা গেছে এমন দাবি করে রাহিব রেজার স্বজনরা অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে শক্ত ভূমিকা নেওয়ার দাবি তাদের। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে কোনো অপারেশন বা খতনায় অ্যানেস্থেসিয়ার কথা শুনলেই আঁতকে উঠছেন অভিভাবকরা।

রাজধানীর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ৫ বছর বয়সী শিশুর মা রাবেয়া আক্তার বলেন, কিছুদিন থেকে ছেলের সুন্নতে খতনা দিতে চাচ্ছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কোনো অভিভাবক ‘রিস্ক’ নিতে চাইবে বলেন? একই অবস্থা বিভিন্ন রোগের অপারেশন করাতে আসা রোগীর স্বজনদেরও। কেউ রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়ার বেড়াজালে জড়াতে চাচ্ছেন না। 
এমন পরিস্থিতিতেও দোষীদের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, যে কার মৃত্যুতে যদি স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক কারও দায়িত্বে গাফিলতি থাকে তাহলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা যায় কি না তাও বিবেচনা করা হবে।

×