মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কবিতা

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

আত্ম দার্শনিক

বদরুল হায়দার

আমি ফুল কিংবা প্রিয়ার মুখ দেখে

তোমাকে ভালোবাসিনি।

জোয়ার সাহারা বুকে তোমার উত্তরা

হাওয়ার দখলে নকলে মূল্যবোধে

বিবিধ কবির মনে সময়ের শত অভিধান।

স্বপ্ন হারানোর ভয়ে প্রতিরাতে

ঘর বিড়ালের মনের ইঁদুরে আমি

বেঁধে রাখি রাত ঘুম।

প্রভাতের অধিবেশনে তোমার

বৃক্ষমায়া জুড়ে ক্রমাগত অতিথিরা বুনে

পাইকারি ও কুচরা বুনিয়াদি।

আঁধারেরা বাড়তে থাকলে প্রহরী বাঁশির সুরে

দূর অশেষের গতিপথ ধরে

বেসুরে অচেনা দিন বলী হয় আপোস নগরে।

হৃদয়ের দুঃখগুলিকে আত্মা থেকে

খুলে নিলে বাসনার হৃদভূমি জ্বেলে দিলে

জোনাকীরা কান্নাভুলে হয় স্বপ্নতারা।

আকাশের বাসরে আসন পেতে ছিলে বলে

মনে বাসনাগুলি প্রতিবেশী চোখে

অধিক স্বীকৃতি মুচে উড়াল বাতাসে রেখা টানে।

দগ্ধপুর ২০১৫

মুস্তাফিজ শফি

ওয়াইনের গ্লাসে আজ তুমি মেয়েটির

রক্ত পান করো মহীয়সী,

আজ তুমি কাঁটারে-কাঁটাচামচে

থালায় তুলে নাও ছেলেটির

মাংস পোড়ানো কাবাব।

আজ তুমি জিহ্বায় চেখে দেখো

মেয়েটির মগজে বানানো ভর্তা

আজ তুমি রেপিং পেপারে মোড়ানো

রুটি ভেবে শিশুটির দলা পাকানো

শরীর তুলে নাও মুখে,

আজ তুমি নৃত্য করো নৃত্য করো

আদিম মুদ্রায়।

আজ তুমি মহীয়সী, পরিপাটি বসো সিংহাসনে-

আজ তুমি শিশুটির মায়ের চোখের জলে

ভর্তি করো স্যুপের বাটি,

আজ তুমি ফ্রাইপ্যানে ভাজো

পেট্রোলবোমায় পোড়া মেয়েটির

প্রেমিকের আর্তনাদ।

আজ তুমি গ্রাস করো হাজার ঘুড়ি স্ট্রুপ

আজ তুমি ছেলেটির বাবার হাহাকারে

আস্ত গিলে খাও গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ।

আজ তুমি সরিয়ে নাও সভ্যতার সিঁড়ি,

আজ তুমি গহীন অতলে নিমজ্জিত হও.

নিমজ্জিত হও মহীয়সী।

শব্দ আশা অক্ষর বীন্ধ

রবিউল হুসাইন

আমাদের অক্ষরগুলো বড্ড নিঃসঙ্গ নিষ্ফল

অপমানিত হন্যমান আর বিশৃঙ্খল অমঙ্গল

বাতাসে উড়ু উড়ু একসঙ্গে থাকতে না পেরে

ধীরে উদ্দেশ-উদ্দেশ্যহীন ঘুরে ঘুরে ফেরে

ঘূর্ণায়মান কোন এক লাটিস লাল কল্লোল

বাংলার মায়েরা তখন একসঙ্গে কলরোল

জ ঝ ঞ ট ঠ অ আ ই উ এ ঐ- এলাকায়

শব্দাস্ত্রে ছিন্নভিন্ন করলো রক্তের পতাকায়

দেখা যায় আ বাঁচি বাংলা ভাষা বর্ণ বিস্ময়

শব্দ অক্ষর বীজ থেকে ভালোবাসাপূর্ণ বিশ্বময়

বাংলাদেশ সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা

নদী ফুল পাখি মৎস্য প্রজাপতি নৌকো শাপলা

মাটি ও মানুষ থেকে উদ্ভাসিত ঐতিহ্য-প্রসূত

সংস্কৃতির লৌকিক আকাশে নিরপেক্ষ স্বপ্ন-অযুত

মুক্তি

অসীম সাহা

প-বর্গীয় ধ্বনির ভেতরে কোনো জলাশয় নেই।

নেই কোনো বদ্ধ ডোবা কিংবা কোনো কচুরিপানার ঝাঁক।

বহমান স্বচ্ছ জলধারা অসবর্ণ বিবাহবন্ধনে

আবদ্ধ হতেই শুধু ছুটে যায় নদী থেকে সাগরসঙ্গমে।

মাধবীলতার ফুল ফোটে না তো প্রবীণ পুকুরে।

প্রত্যাখ্যান শব্দের আড়ালে তবে কোন্ বর্ণের অঙ্গীকার আছে?

নিজেও সে জানে না তা। তাই শুধু উপসর্গ, অনুসর্গ

প্রত্যয় কিংবা কারকের বহুবিধ ব্যবহার খোঁজে।

প্রতিটি ধ্বনি আর বর্ণের অন্তর্গত ব্যাখ্যা জানে বলে

উদ্ধৃতিযোগ্য পঙ্ক্তিতে সে ভরে তোলে

আদর্শলিপির সব অনুগত পাতা।

স্বরবর্ণের আদ্যাক্ষরের সাথে প-বর্গীয় ধ্বনির

বিবাহকে বৈধ করে শৈল্পিক সন্তানের পিতার সন্ধান খোঁজে।

‘বঙ্গীয় শব্দকোষে’ যে বর্ণের অভিসার নেই, তাকে নিয়ে

বরযাত্রী যেতে কোনো বৈয়াকরণের জানি সাহস হবে না।

তবুও নাছোড়বান্দা মহাপ্রাণ ধ্বনি চায় ‘সংসদ অভিধানে’

জোড়া কবুতর হয়েই সে উড়ে যাবে দূর কোনো দেশে!

অথচ দিগন্তের প্রেক্ষাপটে তার কাছে স্বপ্নগুলো বহু দূরগামী;

তাই সে তো জীবনের পরমায়ু খুঁজে পেতে ছুটে যায় ‘ঈশ্বরের’ কাছে!

‘ঈশ্বর’ শোনে না কথা। প-িতের ব্যাকরণ নিপাতনে সিদ্ধ হয়।

কেবল ধ্বনির ক্ষেত্রে ব্যাকরণ নিয়ম মানে না।

প-বর্গীয় ধ্বনি তাই হলফনামার কাছে আশ্রয় খোঁজে।

অবশেষে আয়াত আলীর কাছে নোটারি পাবলিক করে

কম্পিত, করুণ হাতে স্বাক্ষর সেরে নিয়ে অবরুদ্ধ জীবনের মুক্তি মেলে তার।

সমাপ্তিরেখার টানে ভরে ওঠে শাদা ক্যানভাস।

তারপর অশ্রুর ভেতর থেকে রাত্রির অন্ধকারে কেঁদে ওঠে

বহুদিন অযতেœ পড়ে থাকা একখানি রক্তাক্ত বালিশের ফাঁদ!

ফাল্গুন-সনেট ১৪২১

মারুফ রায়হান

উদ্ভট শহর হলো শেষমেশ আমার ঠিকানা!

এখন নতুন করে হাঁটতে শিখছি- যেন শিশু

ভুলে যাচ্ছি মাতৃভাষা, কবিগণ বোবা, ভাব-কানা;

ভ-, শয়তান আর হঠকারী বরেণ্যবরেষু

এখানে গোলাপবনে খুনিদের গোপন আস্তানা

শ্বাসরোধী বাতাসে অদৃশ্য ফণা ছোবলে উন্মুখ

বন্ধুতার রক্তমাখা করতল পরেছে দস্তানা

পেট্রোল বোমায় দগ্ধ দেবদূত সুন্দরের মুখ!

বাজলো নিরোর বাঁশি- নিজ কক্ষে শুধু আমি ধ্বস্ত

আমার সকাল দীর্ণ, চেয়ে দেখি বাকিরা অভ্যস্ত

বসন্ত-বসনে রানী বসে আছে প্রেম-ভিখারিনী.

ভস্মস্তূপ হতে ডানা মেলবে কি অঙ্গার-হরিণী

পোড়া পাপড়ির গন্ধে নির্বিকার ফিরেছে ফাল্গুন

কোথায় খুঁজবো বলো অলৌকিক আশ্চর্য আগুন?

জাগরণ

জাহিদ হায়দার

এখন সকাল নামছে নদীর জলে,

পাখি ঠোকরায় ঘুমন্ত মাস্তুলে

ডানায় রৌদ্রের তাঁতপাড়া;

আমি পাল তুলবো না।

ঘুমানো বৈঠার রাতে হেমবর্ণ ঢেউ,

আমি ওই গঠন ভাঙবো না।

জেগে উঠছে ব্যবহৃত সাড়া,

মুনসি দাঁড়াও, এই পারাপার

কিছুক্ষণ স্নœান করবে না।

০১.০১.২০১৩

বাংলা জাগো,জাগো মাগো

আল মাহমুদ

মানুষ পোড়ার গন্ধ এসে লাগছে নাকে

আমি কবি দাঁড়িয়ে আছি পথের বাঁকে।

পকেট ভরা স্বপ্ন ছিল আজ কিছু নাই

কেবল শুধু মরার গন্ধ শুকছে সবাই।

কার ইশারায় এগিয়ে যাব কোন্ দিগন্তে

ভয়ের কাঁপন কাঁপতে কাঁপতে পথের অন্তে।

আমার নামে ডাক দিল কে কাঁদছি ভয়ে

আমি তো ভাই বেরিয়ে ছিলাম দিক-বিজয়ে।

সবার জন্য স্বপ্ন জোগাড় করবো আমি

আমি কবি দেশের ছবি ধরবো আমি।

কেবল মরার গন্ধ এসে লাগছে নাকে

শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে আছি পথের বাঁকে।

আমি কথার অন্ত্যমিলে দাঁড়িয়ে আছি

এই দেশ, এই হৃৎপি-ের কাছাকাছি।

শুনতে পাচ্ছি ভবিষ্যতের জয়ধ্বনি

কারা যেন বলছে ডেকে আয় অশনি।

চমকে গেছে থমকে গেছে মাথার ওপর

গুড়গুড়িয়ে বলছে নতুন ঝড়ের খবর।

ঝড় আসছে তুফান নিয়ে ঘূর্ণিবেগে

বাংলাদেশকে দেয় ঝাঁকুনি প্রবল বেগে।

বাংলা জাগো, জাগো মাগো ডাকছে ঈশান

কেশ ছড়িয়ে বেশ উড়িয়ে প্রলয় বিশান।

উঠল বেজে বজ্রসম, নমঃ নমঃ

আমায় ক্ষম পুত্র তোমার মাথায় আমার হাত রাখো গো।

মা জননী তোমার বুকেই আছে বাঁচার সোনার খনি

তোমার জন্য উঠুক তবে- জয়ধ্বনি।

লোকাল ট্রেন

বেলাল চৌধুরী

গালগল্পের দিনগুলি যে হারিয়ে গেল কোথায়

কায়ক্লেশেও মনে করতে পারি কি পারি না-

আচম্বিতে ওঠে ঢেউ গুনবার নেই কেউ

ভয়ে মরি ছাই কোন চুলোয় যে যাই!

তুড়ি মেরে যাচ্ছিল কেটে একের পর এক দিন

বরং রাত কাবার করাটাই ছিল ঢের কঠিন,

তারপরও দিনরাত্রির হিসেব যদি পায় কথা

চকিতে মিলায় চব্বিশ ঘণ্টা সে-কী কম কথা!

আমরা যারা সন্ধ্যে সকাল লোকাল ট্রেনের প্যাসেঞ্জার

হরহামেশা জড়িয়ে থাকি দেনার দায়ে দেউলে হয়ে

হামলে পড়ি আলটপকা ডবকা কাউকে পেলে

সায় মেলে না ভেতর থেকে হুড়কো খেলার;

তবুওতো যাচ্ছে দিন তরতরিয়ে এক নাগাড়ে

তাড়া নেই কোনো মেল না এক্সপ্রেস ধরবার;

ধোপদুরস্ত থাকতে হয় থাকি- নইলে আবার

ঢিঢিক্কারে কখন যে হতে হয় দেশান্তরী।

কারো অশ্রুপাত

রফিক আজাদ

কারো স্নান, স্মিতমুখে, বর্ষার অজস্র ধারাজলে,

অবিরল ছলচ্ছল এই ধারাজলে র’য়ে গেছে

বর্ষার সমস্ত গুণ, স্মৃতিময় ধারাপাত আছে-

ধারাবাহিকতাময় এই জলে কান পেতে শোন

রবীন্দ্রনাথের গান,- জীবনানন্দের নারী তার

বেতের ফলের মতো ম্নানচোখে তাকাবে তোমাকে!

কেঁদেও পাবে না আর তুমি তাকে যদিও আবার

বর্ষার অজস্র জলধারে! যখন আকাশে ঝেঁপে

নামবে বৃষ্টির জল, অবিরল- অলিন্দ তোমার

চশমার কাচ মুছে দাঁড়িও ক্ষণেক; পঞ্চাশোর্ধ্ব

তোমার শরীর ভিজে যেতে দিও নবধারাজলে...

একটু কি উন্মন তুমি হয়েছো এখন, এইক্ষণে?

একদা তোমার স্বপ্নে যে-নারী করতো আনাগোনা,

দূরদ্বীপবাসিনী সে আজ- তার কথা মনে প’ড়ে

ঝাপসা হ’য়ে আসে যদি চোখ, তবে দুষো না বৃষ্টিকে!

বৃষ্টির কি দোষ, বলো, কর্তব্যকঠিন জল্লাদেরও

চোখে নামে শ্রাবণের ঢল এমন বাদল-দিনে!

এমন নিমগ্ন দিনে, মহোদয়, কর্তব্য সামান্য

অবহেলা হ’লে ক্ষতি নেই!- হেয়ার রোডের এই

রাষ্ট্রীয় ভবনে তুমি অভ্যর্থনা জানাও বর্ষাকে।

বরফেরও চেয়ে শীতল তোমার প্রাণ, মান্যবর?

বরফও তো গ’লে যায় এরকম উষ্ণ ধারাজলে?

ভুলে যাও নথিপত্র, পি.পি., প্রধানমন্ত্রীর কাছে

পাঠানোর জন্য তৈরি কার্যপত্র- অতীব জরুরী!

এবার বৃষ্টির শব্দে মগ্ন হোক ব্যথিত হৃদয়-

সারাদিন তুমি আজ সঙ্গোপনে অশ্রুপাত করো;

জীবনে সফল নর, মাননীয় মন্ত্রীমহোদয়-

চেয়েও পাওনি যাকে- সেই দুঃখ-কারো অশ্রুপাত॥

দূর কোনও দেশে

সাযযাদ কাদির

কোনও দিন সকালের রোদ একটু চড়লে

আবার কোনও দিন বিকাল একটু গড়ালে

রিকশায় উঠে পড়ি, যাই হাতির পুল কি ফকিরের পুল...

যেতে-যেতে প্রায়ই ভাবি

হঠাৎ দেখা হয়ে যাবে কারও সঙ্গে

হাত তুলে কেউ থামাবে আমাকে

বলবে, ‘এই যে আমি... চিনেছিস্?’

তা চেনা-চেনা মনে হয়, পুরনো বন্ধু কোনও?

হাত বাড়িয়ে দেয়, কাছে এসে ধরে

জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলে, ‘চল যাই...!’

তার পোশাকে চেহারায়, সান্নিধ্যে

ঘ্রাণ পাই দূর কোনও শহর মফস্বলের

দীর্ঘ দিন সমুদ্র-বনে কাটানো জীবনের-

সেখানে বসন্ত বাতাসে অবাধ অপার মুক্তি

ঘাসে-ঘাসে ছড়িয়ে থাকে আকাশের তারা-ফুল

সেখানে যাবো আমি?

না, এ তো এক ভাবনা শুধু!

ছোটবেলায় এমনি কত ভাবনা লিখে

ঘুড়িতে সেঁটে ভাসিয়ে দিয়েছি হাওয়ায়

নদীর ওপারে, সুদূর আকাশে উড়ে গেছে

সেই সব কত স্বপ্ন আমার!

১৭.০২.২০১৫

রূপান্তরিত প্রজ্ঞায়

মতিন বৈরাগী

দেখ ওখানে কী লেখা আছে। অক্ষর যা গঠন করেছে শব্দ যা রপান্তরিত ভাষায়

হাত বুলাও কি মহিমা শস্যক্ষেতের মতো এক মায়া ছড়িয়ে পড়বে সমস্ত আত্মায়

তারপর সকল ইন্দ্রিয়কে অতিক্রম করে হয়ে যাবে অতীন্দ্রিয় এক প্রজ্ঞা,

যার যুক্তি আছে, কাঠিন্যের তীব্রতা আছে, বিশ্বাস আছে, অবিশ্বাস অতিক্রম করে

দাঁড়িয়ে যায় নিজত্বের সকল বেড়া ডিঙিয়ে একটা সদ্যফোটা পুষ্পের মতো।

তুমি হাত বুলাও স্পর্শ করো, দেখবে পাথর গলান তাপ,

যুক্তি অচল আর নান্দনিকতার বিন্যাসগুলো ভাঙে তীব্র তমোহর,

জেগে ওঠা উপলব্ধির ভাষা আর ভাষ্য আশ-পাশের

সকল অস্তিত্ব ডুবে যায় অলৌকিক জ্যোৎস্নœায়।

দেখ, হাতে ধর: মমত্বের এক উদ্দীপন মায়া হয়ে যায়;

না পাখি না ফুল কেবল শস্যের দোলা

কেবল হাওয়া তুমি প্রবেশ করলে তোমার জগতে তোমারই বাসনায়

আর সবকিছু খুলে গেলো পার হয়ে অরব-রজনী : নন্দিত ভাষার মোহন মিছিল

কাব্যের জোনাকী আলোয়, তুমি পেলে শব্দ —-শব্দই ঈশ্বর-

বর্ণমালার শিল্প ঘরানা

কাজী রোজী

মাইল মাইল পথ হেঁটে এসে মনে হলো সবটাই

ফেলে এসেছি। আমার ভূগোল রেখা, আমার

হৃদয় পতাকা, আমার নিজস্ব উচ্চারণের

মাতৃভাষা। যা আমার সাথে সাথে থাকবার

কথা ছিল। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের মতো,

চাঁদের আলোর মতো, আকাশের তারার

মতো, সবুজ বনানীর মতো, উত্তাল সাগরের

মতো, বাতাসে সবুজের বিশ্বাসের মতো

সে সবকিছুই আমি ভালোবাসতাম।

বাক্সবন্দি একরাশ শব্দ নিয়ে এই এখানে

থামতেই, ভেতরের ইতিহাস কথা বলে ওঠে।

‘রক্তাক্ত পথ বেয়ে সাথে নিয়ে এসেছি

বর্ণমালা মাকে- একে সমাদর করো।’

বাংলা দিয়ে বর্ণমালা সাজালাম- ছবি

হয়ে গেল ওরা শহীদ শব্দসৈনিকের দল।

সামনে তাকিয়ে দেখি রফিক, শফিক, জব্বার,

সালামের প্রতিকৃতির ছায়া তোরণ।

কাঁদতে আসিনি। ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি-

কবি মাহবুব-উল আলম চৌধুরীর শাণিত

উচ্চারণ খোদাই করা আলতাফ মাহমুদ গাইছেন

গান মাইল মাইল দূর থেকে- আমার ভাইয়ের

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি

ভুলিতে পারি। দাঁড়িয়ে আছেন নায়কের মতো আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

দিনের ছায়ার শেষে স্পষ্টত শুনলাম আমিÑ দৃশ্যত জানলাম আমি।

দেখলাম আমি।

মনে পড়ে গেল, টেবিলেই রাখা ছিল

চর্যাপদের যত ক্ষেত-খামারের বাণী,

লইপা কাহ্নপার বাক্য বিনিময়ে ঘেরা

কুশল সংলাপ, যা আমার আদি অক্ষর

আমার বর্ণমালা। আমার বাংলা বর্ণমালা।

স্বচ্ছ জলের দিকে চোখ ফেরালাম, বর্ণমালার

পতাকাখচিত সারাটা বাংলাদেশ

এবং আমার ভূগোল রেখা আমাকে আবিষ্ট

করল। অতি দূর অনন্তের দিকে আন্তর্জাতিক

মাতৃভাষার ব্যানার নিয়ে আদিবাসীর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং

ভিন্ন ভাষাভাষীর মিছিল স্লোগান মাইল

মাইল পথ নিরন্তর চলেছে শুধু। ওরা কিছু

ফেলে আসেনি- না অক্ষর না বর্ণমালার

শিল্প ঘরানা।

বসন্ত বিদায়

নির্মলেন্দু গুণ

বসন্ত তুই যা ফিরে যা- ডাকিস নে ভাই, ডাকিস নে।

আমার দুয়ার আগলে ধরে থাকিস নে,

আর থাকিস নে।

আমি একা আপন মনে, পড়ে আছি ঘরের কোণে।

সখা আমায় গেছে ছেড়ে, তুই সে-খবর কি

রাখিস নে?

তোমার ডাকে পাগল হতে তৈরি হয়ে আছে যারা,

বনের পথে জ্যোৎস্নারাতে মিলবে তাদের বিপুল সাড়া।

তারা ফুল ফুটিয়ে বনে বনে করুক খেলা হাওয়ার সনে।

আমার মনে হুল ফুটিয়ে, তুই তাদের খুশি ঢাকিস নে॥

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: