ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই উপজেলার মানুষ

কেউ আমাগো কষ্ট বুঝল না

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ২১ এপ্রিল ২০২৪

কেউ আমাগো কষ্ট বুঝল না

সুন্না বাজার ঘেঁষে বংশাই নদীর ওপর সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষজন

কত এমপি আইল, গেল কেউ আর আমাগো কষ্ট বুঝল না। কেউ আর কথাও রাখল না। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এমপি হইল কিন্তু আমরা সেতু পাইলাম না। তারপর শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি হইল, তার ছেলে অনুপম শাহজাহান জয় হইল সেও কথা রাখে নাই। আবার জোয়াহের এমপি হইছিল কথা দিছিল সেও কথা রাখল না, এখন আবার জয় এমপি হয়েছে। এখন কি আমরা সেতু পামু। ভোট নেওয়ার সময় সবাই অনেক কথা দেয় কিন্তু কোনো কাম করে না। আমাদের জন্মের পর থেকেই এই নদী দেখতাছি। কোনো সেতু হয় নাই। এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেই কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাঙ্গালীছেও গ্রামের কুলসুম বেগম (৫৩)। নদীর এপার বাসাইল উপজেলা ওপারে সখীপুর উপজেলা। দুই পারের মানুষগুলোর মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একই সংসদীয় আসন, শিক্ষা-দীক্ষা, বাজার-ঘাট, কেনাকাটাসহ সবই হয় এক সঙ্গে। তবুও সারাটা জীবন তারা দুই পারের বাসিন্দা। টাঙ্গাইলের বাসাইল ও সখীপুর উপজেলাকে বিভক্তকারী বংশাই নদী। এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ দুই উপজেলার দুই লাখ জনসাধারণকে। একটি মাত্র সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসেনি এখনো।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার বুক বয়ে গেছে বংশাই নদী। বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে ভোগান্তির মধ্যে জীবন-যাপন করছেন দু’পারের মানুষ। উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত সুন্না বাজার ঘেঁষে বংশাই নদীর ওপর সখীপুর-বাসাইল সংযোগ সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন ওই দুই উপজেলার মানুষ। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষা মৌসুমে একটি নৌকা পারাপারই একমাত্র ভরসা এলাকাবাসীর। এছাড়াও একটি হাট, একটি আলিম মাদ্রাসা, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল থাকায় প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্না বাজার ঘেঁষে বংশাই নদীর উপর সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষজন। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ বাসাইল-সখীপুরের হাজার হাজার জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে রোগী বহনের কোনো যানবাহন পারাপারেরও ব্যবস্থা নেই। সখীপুর উপজেলার কাঙ্গালীছেও, দাঁড়িয়াপুর, যাদবপুর, বেড়বাড়ী, প্রতিমা বংকী, শোলাপ্রতিমা, বোয়ালী, দেওবাড়ী, লাঙ্গুলিয়া, চাকলাপাড়ার গ্রামবাসীসহ উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন।
বাসাইল উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল জলিল বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো জায়গা থেকে অনুমোদন পাব বা পাচ্ছি এ রকম কোনো অবস্থা নেই। ওই জায়গায় একটি ব্রিজ  তৈরি হলে বাসাইল ও সখীপুর দুই উপজেলার মধ্যে সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা  তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান এমপি যখন এর আগে এমপি ছিলেন তখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সবার সার্বিক সহযোগিতা চাই। আমাদের বর্তমান এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান উদ্বিগ্ন আছেন। তাদের সহযোগিতা নিয়ে যাতে  ব্রিজটা আমরা করতে পারি বা একটি পরিকল্পনা দাখিল করতে পারি এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে। আমি উদ্যোগ নেব।
তবে বাসাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম শুনিয়েছেন আশার কথা। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান এমপি অনুপম শাহজাহান জয় একটি ব্রিজ অনুমোদন করিয়েছেন। আমরা আশাবাদী সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করে এক-দেড় বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

×