ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

বসুন্ধরায় কেনাবেচার ধুম, জনসমুদ্র নিউ মার্কেট

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:২৮, ২ এপ্রিল ২০২৪

বসুন্ধরায় কেনাবেচার ধুম, জনসমুদ্র নিউ মার্কেট

জমে উঠেছে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ঈদের কেনাকাটা

রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং সেন্টারে ঈদের কেনাবেচা জমে উঠেছে। সকাল থেকে রাত অবধি ক্রেতাদের রয়েছে উপচেপড়া ভিড়। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পণ্যের আউটলেট থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শপিংমল ঘিরে ক্রেতাদের আগ্রহ তুঙ্গে। বিক্রেতারা জানান, ঈদ উপলক্ষে পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই কেনাবেচা ভালো। চলতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ক্রেতার উপস্থিতি দেখা যাবে। 
বসুন্ধরা শপিংমলের লেভেল টুতে ইল্লিয়েন, এমব্রেলা, লুবনান, ইনফিনিটি, দর্জিবাড়ি, জেন্টলপার্কে পাঞ্জাবি বেচাকেনার ধুম দেখা গেছে। ফ্যাশন হাউসগুলোও বলছে, পাঞ্জাবি-থ্রিপিসসহ অন্যান্য পোশাকে এবার ঈদের সঙ্গে বৈশাখের নকশা ও রঙের ছোঁয়া রয়েছে। রয়েছে কৃষ্ণচূড়ার রং ও নকশার ছটা। অনায়াসে একটি পোশাক দিয়ে দুটি উৎসব কাটিয়ে দেওয়া যাবে। ফলে তরুণ-তরুণীদের বিশেষ আগ্রহ এসব ব্র্যান্ড আউটলেট ঘিরে।

এ ছাড়াও মাসের শুরু হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীদের হাতে টাকা আসতে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে এই শপিংমলে কোটি কোটি টাকার মোবাইল কেনাবেচা হবে।
অন্যদিকে সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি রাত অবধি গমগম পুরো নিউ মার্কেট এলাকা। আলো ঝলমলে দোকান থেকে ফুটপাতের ওপর বাহারি পসরা, সব জায়গায় ক্রেতা সমাগম। তাদের চাপে বিক্রেতাদেরও নাজেহাল অবস্থা। পণ্য দেখা, দামাদামি আর ক্যাশ গোছানোতে কাটছে ব্যস্ততা। ইফতারির পর ওই এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়, যেন ক্রেতা-বিক্রেতা কারও দম নেওয়ার সময় নেই। 
রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯টি মার্কেট রয়েছে। সারাবছরই ক্রেতা সমাগম থাকে এসব মার্কেটে। তবে ঈদ, পূজাসহ অন্য উৎসব-অনুষ্ঠান এলেই মার্কেটে চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড কেনাবেচা হচ্ছে।
শুক্রবার ও মঙ্গলবার নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটা করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসছেন।

ঈদকে কেন্দ্র করে বেচা-বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ছুটির দিনগুলোতে মার্কেটের ভেতর পা ফেলারও জায়গা ছিল না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। গত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভের দেখা পাবেন বলে আশা করছেন তারা। তবে লোক সমাগমের কারণে কিছু ভোগান্তির সৃষ্টি হয় ব্যস্ততম এই এলাকায়। সড়কে তীব্র যানজটের পাশাপাশি মার্কেটগুলোতে অপরাধমূলক কাজকর্ম বেড়ে যায়। এর মধ্যে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে অন্য সময়ের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে নিউ মার্কেটে কাপড় কিনতে এসেছেন আলম মিয়া। প্রতি ঈদেই পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনদের জন্য তিনি নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটা করেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, একই জায়গায় সব পণ্য পাওয়া ও সহনীয় দামের কারণে এখানে আসা। কিন্তু এবার তিনি স্বস্তিতে নেই। আলম বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম বেশি মনে হচ্ছে। এবার বাজেট নিয়ে এসে আর কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে না। 
দামের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে অন্য ক্রেতাদেরও। আগের তুলনায় কাপড়ের দাম বাড়ায়, পছন্দের কাপড় কিনতে পারছেন না তারা। বাজেটে থাকতে গেলে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে না। প্রিমা রহমান ধানমন্ডি থেকে নিউ মার্কেটে এসেছেন থ্রিপিস কিনতে। তিনি জানান, আড়াই হাজার টাকায় ভালো মানের কোন থ্রিপিস পাওয়া যাচ্ছে না। যেটি পছন্দ হয় সেটির দাম পাঁচ হাজারের ওপরে। যে কারণে আত্মীয়স্বজনদের কাপড় কেনা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, ধানমন্ডির মার্কেটগুলোতে দাম বেশি হওয়ার কারণে নিউ মার্কেটে এসেছি। কিন্তু এখানেও বাড়তি দাম!
দাম একটু বাড়তি হলেও বেচাকেনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কাপড় ব্যবসায়ীরা। গ্লোব সুপার মার্কেটের বিক্রেতা বিপুল হাসান জানান, এবার রমজানের প্রথম থেকেই ক্রেতারা আসছেন। বিক্রিও বেশ ভালো। ঈদে ভালো ব্যবসা হবে আশা করছি। অনেক ক্রেতা দাম বেশির অভিযোগ করছেন, কী করব! আমরা বেশি দামে কিনে আনি, বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে।
দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। ঈদের দিনক্ষণ এগিয়ে আসায় হাতে সময়ও নেই। জিন্সের প্যান্ট, টি শার্ট, পাঞ্জাবি সব দোকানে ভিড় ঠেলে কেনাকাটা করাই দায়। অধিকাংশ তরুণ বয়সী ক্রেতারা জানান, জামা, প্যান্ট, পাঞ্জাবি কেনা শেষ। এখন জুতা, বেল্ট, মানিব্যাগ, সান গ্লাসে নজর উঠতি বয়সীদের। আগে না কিনলে ভালো জিনিস ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তাও রয়েছে।
অন্যদিকে মেয়েরাও কাপড় কেনার এক রকম শেষ পর্যায়ে আছেন। এখন কসমেটিকস, স্যান্ডেল, মেকাপ, মেহেদীসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটায় নজর রাখছেন। এর জন্য অনেকে মার্কেটের পাশাপাশি অনলাইনেও অর্ডার করছেন।
বিপুল সমাগমের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ক্রেতাসহ নিউ মার্কেটের সামনের মিরপুর সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের। শুধু সাইন্সল্যাব মোড় থেকে নীলক্ষেত মোড় পার হতেই অনেক সময় পার হয়ে যায়। নিউ মার্কেটের নিউ সুপার মার্কেট এবং গাউছিয়া মার্কেট সংযোগকারী ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তার মাঝে থাকা লোহার ব্যারিকেডের ভাঙা অংশ দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। এতে সড়কে চলাচলকারী গাড়ির গতি আরও কমে যাচ্ছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া ও মার্কেটের পরিবেশ ঠিক রাখতে তৎপর ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। মার্কেটগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নিজস্ব পাহারাদার দিয়ে সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া, সিসি ক্যামেরাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনগুলো।
চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন টুটুল জানান, মার্কেট হাঁটা-চলার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এখানে তিনটি ব্লকে ৯৬টি সিসি ক্যামেরা মালিক সমিতির অফিস থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া অধিকাংশ দোকানের নিজস্ব সিসি ক্যামেরা আছে। মার্কেটে মোট ৪০৬টি দোকান আছে। অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। 
নিউ মার্কেট বণিক সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, মার্কেট ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করবে। আমরা মার্কেটের গেটগুলোতে যেন ভিড় না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখছি। এ ছাড়া শিশুরা যেন বাবা-মায়ের সঙ্গে শপিংয়ে এসে হাত থেকে ছুটে হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।

×