ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঈদের কেনাকাটা

সরগরম রাজশাহীর সিল্কপল্লী

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

প্রকাশিত: ২৩:০২, ৩০ মার্চ ২০২৪

সরগরম রাজশাহীর সিল্কপল্লী

ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত নারীরা

রাজশাহীতে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে মানুষ ততই বাজারমুখী হচ্ছে। ফুটপাথ থেকে বিপণিবিতান ও শপিংমলগুলোতে এখন উপচেপড়া ভিড়। আর ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজশাহীর সিল্কপল্লী। কারাখানাগুলোতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। ক্রেতা সমাগমে জমে উঠেছে শো-রুমগুলোও।

রাজশাহীসহ বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রিয়জনদের পোশাক কিনতে ক্রেতারা আসছেন। পাশাপাশি পাইকারি ক্রেতাদের আগমনও এবার ভালো। ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। 
প্রতি বছরের মতো এবারো রেশমের তৈরি পোশাকে এসেছে বৈচিত্র্য এবং নতুনত্বের ছোঁয়া। নজরকাড়া বাহারি ডিজাইন সব বয়সী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। এ শো-রুম থেকে ওই শো-রুম নিজের পছন্দের পোশাক খুঁজছেন ক্রেতারা। তবে ক্রেতারা জানিয়েছেন, বিগত বছরের চেয়ে পোশাকের দাম এবার একটু বেশি। 
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বিসিক শিল্প এলাকার প্রতিটি শো-রুমেই ক্রেতা সমাগম ভালো। ক্রেতা উপস্থিতি ভালো হওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে বেচা-বিক্রি করছেন মালিকরা। রাজশাহীর সপুরা সিল্ক, ঊষা সিল্ক, আমানা সিল্ক, রাজশাহী সিল্কসহ সব প্রতিষ্ঠানেই একই চিত্র। এবার সিল্কের শাড়ি এবং পাঞ্জাবির পাশাপাশি থ্রিপিস ও বাচ্চাদের সামগ্রীগুলোর চাহিদাও প্রচুর।
শো-রুমগুলোতে যখন ক্রেতাদের নিয়ে ব্যস্ততা তখন কারখানাগুলোতে একদিকে গুটি থেকে সুতা কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই সুতা থেকে মেশিনের মাধ্যমে কাপড় বোনাতে ব্যস্ত কারিগররা। সে কাপড়ে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। রাজশাহী সিল্কের ফ্যাশন ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, প্রতিটি উৎসবকে কেন্দ্র করে আমাদের অগ্রিম প্রস্তুতি থাকে। ডিজাইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনার কাজ করা হয়।

এবারো নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। রাজশাহী সিল্ক মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে বেচা-বিক্রি জমে উঠছে। আগামী কয়েকদিনে বিক্রি আরও বাড়বে। আশা করা হচ্ছে, এবার ঈদে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করবেন সিল্ক পোশাক ব্যবসায়ীরা।

বরিশালে চাহিদা শাড়ি থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির
স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল থেকে জানান, জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। প্রতিবছরের মতো এবছরও দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দেশীয় বুটিকস, হাতে কাজ করা শাড়ি, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি নগরীর নতুন নতুন সব নামিদামি পোশাক ও জুতার শোরুমে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ইতোমধ্যে কেনাকাটার চাপ বেড়ে যাওয়ায় নগরীর চকবাজার এলাকায় রিক্সাসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকটা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন ক্রেতারা।
নারী ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় শাড়ির চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। ছেলেদের পাঞ্জাবি ছাড়াও শার্ট, গেঞ্জি, জিন্স প্যান্ট, গ্যাবার্ডিন, ইন্ডিয়ান সুলতাল পাঞ্জাবির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর পোশাকসহ সকল পণ্যের দাম বেশি বলে দাবি করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর দ্রব্যমূল্যের দামে সবাই দিশেহারা। সেই তুলনায় জামা, জুতাসহ সব কিছুর দামই একটু বেশি।
নগরীর টপটেন শো-রুমের ম্যানেজার রাজু বলেন, বেচা-বিক্রি ভালো। ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। আমরা ক্রেতাদের সব দিক মাথায় রেখে কালেকশন বাড়িয়েছি। এবারের ঈদে নায়রা, সারারা, গারারা, সাদা বাহার, সুতি, সিল্কসহ নানা নামের থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে বেশি।

খুলনায় মানুষের ঢল
স্টাফ রিপোর্টার খুলনা অফিসথেকে জানান, ঈদের বাজারগুলোতে মানুষের ভিড় রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্তরা ভিড় করছেন নগরীর বিভিন্ন মার্কেট আর অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিক্রি হওয়া শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে।

অনেকেই সামর্থ্য আর পছন্দের সমন্বয় করতে কেনাকাটা সেরছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনস্থল তৈরি হয়েছে ব্যবসা কেন্দ্রগুলো। ভালো বিক্রি হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। তবে দাম নিয়ে অসন্তোষে ক্রেতারা। অপরদিকে কেনাবেচা নির্বিঘœ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝ চৈত্রের ভ্যাবসা গরম মাথায় নিয়েই কেনাকাটায় ব্যস্ত খুলনাবাসী। খুলনার শপিং কমপ্লেক্স, জলিল মার্কেট, জব্বার মার্কেট, মশিউর রহমান মার্কেট, নিক্সন মার্কেট, নিউমার্কেট, ডাকবাংলো সুপার মার্কেট, হকার্স মার্কেটসহ সব মার্কেট এবং রাস্তার ওপরের ভ্রাম্যমাণ দোকান কিংবা ফুটপাতের দোকানগুলোতে।
রাবেয়া বেগম বলেন, সামনে আরও বেশি ভিড় হবে তাই আগে থেকেই কেনাকাটা করছি। অনেক দাম, তারপরও সবাইকে কিছু কিছু দিতে হবে। তাই ফুটপাতের কম দামের দোকান থেকে অনেককিছু নিয়ে নিলাম। 
রবিউল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, সব জিনিসের দাম এত বেশি যে বাজেট মেলানো যাচ্ছে না। তারপরও ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কিনতে হবে। তবে যেহেতু সামনে বেশি গরম পড়বে তাই হালকা সুতির কাপড় খুঁজছি।
নগরীর জব্বার মার্কেটের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে তাদেরই বেশি টাকায় পণ্য কিনতে হচ্ছে পাইকারি ব্যবসায়ী কিংবা ফ্যাক্টরি থেকে। এক দুইদিন পরপর মোকামে গেলে পূর্বের দাম থেকেই আর বেশি দামে তাদের পণ্য কিনতে হচ্ছে। যে কারণেই এবার পোশাকের দাম আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি।

ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে ঈদ বাজার
নিজস্ব সংবাদদাতা ঝালকাঠি থেকে জানান, জমে উঠেছে ঈদ বাজার। পোশাকের দোকানগুলোতে হচ্ছে রমরমা বেচাকেনা। কিন্তু দাম নিয়ে অসন্তোষ ক্রেতাদের। তবে গুণগত মানের কারণে দাম বেশি পড়ছে বলে দাবি করেছেন বিক্রেতারা। 
জানা যায়, রুচিশীল পোশাক-পরিচ্ছদে প্রাচীন বন্দর ঝালকাঠির মানুষ বরাবরই ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে। তাই ঈদ আয়োজনের কমতি নেই এ জেলায়। রমজামের মাঝামাঝি সময়ে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে।

পছন্দের পোশাকের মধ্যে মেয়েদের বিশেষ আকর্ষণ নাহেরা ও বাবা ড্রেস। পাশাপাশি সিল্ক ও সুতির থ্রিপিসসহ রং-বেরঙের শাড়ির চাহিদাও রয়েছে। ছেলেদের পাঞ্জাবি, টিশার্ট, জিন্স প্যান্ট, পাজামাসহ আকর্ষণীয় পোশাকও রয়েছে শপিংমলে। জামা-কাপড়ের সঙ্গে বেড়েছে জুতার বেচাকেনা। তবে এবছর দাম যেন আকাশ ছোঁয়া। পছন্দের পোশাকের দাম নাগালের বাইরে থাকলেও ঈদে নতুন পোশাক কিনতে তো হবেই। দুই হাজার থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে আকর্ষণীয় পোশাক। 

বাকেরগঞ্জে বাড়ছে ভিড়
নিজস্ব সংবাদদাতা বাকেরগঞ্জ, বরিশাল থেকে জানান, ঈদের জামা-কাপড় কিনতে উপজেলা শহরে কাপড়ের দোকানে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ক্রেতাদের আগমনে এখন স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভিড়। উপজেলা শহরে এখনই ছড়িয়ে পড়েছে ঈদ আনন্দ। এবারের জমজমাট বেচাকেনায় খুশি ব্যবসায়ীরাও।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা শহরের শপিংমল মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মার্কেট, শপিং মলগুলোতে অন্যান্য বছরে তুলনায়  ঈদের কালেকশন তুলনামূলকভাবে ভাল হলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত তাদের পছন্দ ও প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে নিয়ে যান নিজ নিজ এলাকায়। এবার বাচ্চাদের ও নারীদের পোশাকে বিভিন্ন রকম ডিজাইনে বৈচিত্র্য এসেছে বেশ।

×