ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

খুলনায় নৌকার ছয় প্রার্থীর যত সম্পদ

প্রবীর বিশ্বাস, খুলনা অফিস

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

খুলনায় নৌকার ছয় প্রার্থীর যত সম্পদ

ননী গোপাল মণ্ডল, সেখ সালাহউদ্দিন, এস এম কামাল হোসেন, আবদুস সালাম মুর্শেদী, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ও মোঃ রাশীদুজ্জামান মোড়ল

বিপুল সম্পদের মালিক খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রায় সব প্রার্থী। এর মধ্যে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন চারজন। গত পাঁচ বছরে যাদের সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ। কারো আছে গার্মেন্টস, জাহাজ কিংবা ইটের ভাঁটির ব্যবসা। রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারও। কেউ কেউ আবার কয়েকটি ফ্ল্যাটের মালিক। জমিও আছে অনেকের তবে ঋণগ্রস্তও আছেন কেউ। নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলফনামায় দেওয়া হিসাবে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা-দাকোপ) আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল ম-ল বিএ পাস। হলফনামায় উল্লিখিত সম্পত্তিতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ননী গোপাল ম-লের নগদ টাকার তুলনায় বর্তমানে নগদ টাকা বেড়েছে অনেক। এই আসন থেকে ২০০৮ সালে মনোনয়ন পেয়েছিলেন ননী গোপাল ম-ল। হলফনামায় দেখা গেছে, ধান, তরমুজ ও মাছ উৎপাদন ও বিক্রিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। আয়ের পুরোটাই আসে কৃষি খাত থেকে। ২০০৮ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার টাকা। আর এখন হাতে নগদ ৩০ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে রয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া ১৫ ভরি স্বর্ণের মালিক তিনি। আছে কৃষি জমি ও পৈত্রিক ভিটা
খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা) আসনের বর্তমান এমপি বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এইচএসসি পাস। দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তার বার্ষিক আয় ছিল তিন কোটি ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে বার্ষিক আয় সাত কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাড়িভাড়া থেকে চার লাখ ৩৩ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে তিন কোটি ২৩ লাখ টাকা, শেয়ার থেকে তিন কোটি ১৪ লাখ টাকা ও ব্যাংক থেকে মুনাফা ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করেন।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ রয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, এক কোটি টাকার এফডিআর, তিনটি কোম্পানির শেয়ার আছে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং কার্গো ব্যবসায় তার বিনিয়োগ ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা। আছে জমিও। খুলনা-৩ (দৌলতপুর, খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা) আসনে এবারই নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। তিনি এমএ পাস। হলফনামায় তিনি বলেছেন তার পেশা ব্যবসা। বার্ষিক আয় ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে বছরে ২৮ লাখ নয় হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এফডিআর ও ব্যাংক থেকে লভ্যাংশ পান ১৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

তারও পরনির্ভরশীলদের আয় বছরে (ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী) ৩০ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। সম্পদ রয়েছে মোট চার কোটি ৯০ লাখ টাকার। এর মধ্যে ২০ লাখ ১৭ হাজার নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা ২৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, তিন কোটি ৪৫ লাখ স্থায়ী আমানত, ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, গৃহস্থালি দ্রব্য এবং ব্যবসার মূলধন তিন লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এছাড়া স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের নামে আছে পৃথক ফ্ল্যাট।
খুলনা-৪ (রূপসা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা) আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান এমপি আব্দুস সালাম মুর্শিদী এইচএসসি পাস। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় আট গুণ সম্পদ বেড়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে হলফনামায় দেওয়া হিসাব বিবরণীতে তার সম্পদ ছিল ৯৫ কোটি ১১ লাখ টাকার। গত পাঁচ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। জানা যায়, ২০১৮ সালে আব্দুস সালাম মুর্শেদীর স্ত্রীর আয় ছিল এক কোটি ১৭ লাখ টাকা। বর্তমানে স্ত্রীর আয় এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

২০১৮ সালে তার স্ত্রীর ২২ কোটি ৩১ লাখ টাকার সম্পদ থাকলেও বর্তমান তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি এক লাখ ৯৪ হাজার টাকার। আবার ২০১৮ সালে তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্য সদস্যদের সম্পদ ছিল এক কোটি ৩৩ লাখ টাকার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৮ গুণ বেড়ে তাদের বর্তমানে সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার। খুলনা-৫ (ফুলতলা ও ডুমুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ২০১৮ সালে সম্পদ ছিল ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার। এমএ পাস করা এ শিক্ষকের পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৭ লাখ টাকায়। তবে ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে এক কোটি ৯৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

হলফনামায় নারায়ণ চন্দ্র চন্দ উল্লেখ করেছেন, তার এক কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকঋণ রয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আরও ১৫ লাখ টাকা ধার করেছেন। তিনি হলফনামায় কৃষি ও ইটভাঁটির ব্যবসাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০১৮ সালে বার্ষিক আয় ছিল ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। রয়েছে কৃষি ও অকৃষি জমি, দালান ও সেমিপাকা ভবন রয়েছে। 
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া রশীদুজ্জামান এমএ পাস। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এই জনপ্রতিনিধি কৃষি ও ব্যবসাকে আয় হিসেবে দেখিয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বছরে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় করেন দুই লাখ ৮৮ হাজার টাকা। তার স্ত্রী শিক্ষকতা পেশায় জড়িত। তিনি বার্ষিক আয় করেন চার লাখ ৩২ হাজার টাকা। রশীদুজ্জামানের সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা মাত্র ৫০০ টাকা, দশমিক ৬৬ একর কৃষি জমি, দশমিক ২৪ একর অকৃষি জমি, একটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। 

শামীম ওসমানের সঙ্গে লড়তে আট প্রার্থীর প্রস্তুতি
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি বেশ আলোচিত। ন সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি গঠিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাটিও এ আসনের মধ্যে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের আলোচিত  নেতা একেএম শামীম ওসমান। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানসহ এ আসনে জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ৯ প্রার্থী বৈধ হয়েছেন।

শামীম ওসমানের বিপরীতে রয়েছে আরও আটজন প্রার্থী। এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রেহী প্রার্থী নেই। বরাবরেই এ আসনে আওয়ীমী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমানের নামই আগে থেকেই প্রচার হয়ে আসছিল। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমান ছাড়াও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন- আলি হোসেন (তৃণমূল বিএনপি), মো. মুরাদ হোসেন জামাল (জাকের পার্টি), ছালাউদ্দিন খোকা (জাতীয় পার্টি), সেলিম আহমেদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি), হাবিবুর রহমান (ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ), শহিদ উন নবী (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), গোলাম মোর্শেদ রনি (বাংলাদেশ কংগ্রেস) ছৈয়দ হোসেন (জাসদ)। এ আসনটি রাজধানী ঢাকার সীমাবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

তাই এ আসনটির দিকে চোখ থাকে সবার আগে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর পর তিনি পর পর আওয়ামী লীগ থেকে ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও দু’বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে শামীম ওসমান বেশ আলোচিত সংসদ সদস্য। 
 
সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে 
সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকবেন তো আওয়ামী লীগ প্রার্থী। এমন প্রশ্ন এখন সিলেটজুড়ে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে  সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটায় গণভবনে  সাক্ষাৎ করার পর বিষয়টি নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সাক্ষাতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে নেন  এবং রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন বলে জানা গছে।

এ সাক্ষাতের খবরে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মনোনয়ন দাখিলের আগে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন মাওলানা হুছামুদ্দীন মাঠে এমন আলোচনা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদকে। গত রাত থেকে হতাশায় ভুগছেন আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা। এর পূর্বেও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদকে মনোনয়ন দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। মঙ্গলবার রাত থেকে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।

মাসুক সমর্থকরা বলছেন এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুক উদ্দিনকে সরানো হলে তার প্রতি এটা হবে চরম অবিচার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গত বছর ১২ জানুয়ারি নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামি বিশ্বাসবিরোধী বিষয়সমূহ বাদ দিয়ে তা সংশোধন, মাদ্রাসার জন্য স্বতন্ত্র কারিকুলাম প্রণয়নসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছিলাম। এবারও সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সিলেট-৫ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় আমাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের অন্যান্য আসনে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এ আসনে মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির। এলাকায় তারও শক্ত অবস্থান রয়েছে।

বরিশালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি সংঘাতের আশঙ্কা 
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভাগীয় শহর বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা) আসনসহ পাঁচটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। এসব প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় জেলার একটি আসন ব্যতীত বাকি পাঁচটি আসনে এখন নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। বরিশালের ছয়টি আসনে সর্বমোট বিভিন্ন দলের ৫৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগ মনোনীত এক প্রার্থীসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এখন মাঠে থাকা ৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে হেভিওয়েটের সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
এর মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে খ্যাত কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং স্বেচ্ছাসেবী এসআর সমাজ কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. সালাহউদ্দিন রিপন।
যে কারণে নৌকা পেলেই যে খুব সহজে জেতা যাচ্ছে, এবার আর তা হচ্ছে না। কারণ নিজ দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। যার প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গির হোসেন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছেন। যে কারণে তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা।
   
ফরিদপুর-৪ আসনে ফের লড়াই হবে জাফর উল্যাহ ও নিক্সন চৌধুরীর
নিজস্ব সংবাদদাতা,  ফরিদপুর ॥  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে আবারও লড়াই হবে কাজী জাফর  উল্যাহ ও নিক্সন চৌধুরীর। নির্বাচনে সারাদেশের মানুষের নজর থাকে এই দুই প্রার্থীর প্রতি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী বাছাইতে দুই প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। জমজমাট লড়াই এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন দুই প্রার্থী। এর মধ্যে কাজী জাফর  উল্যাহ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো- চেয়ারম্যান। তিনি এবার ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। অপরদিকে মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তিনি। শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই নিক্সন চৌধুরী। গত দুইবার দলীয় মনোনয়ন না চাইলেও এবার নিক্সন চৌধুরী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনী মাঠে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের প্রার্র্থিতা বাছাইতে বাতিল হলেও মোট ৬ প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে। ২০২০ সালের নভেম্বরে মজিবুর রহমান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে নিক্সন-জাফর  উল্যাহর মধ্যে কথার যুদ্ধ  চলছে। গত ছয় মাস ধরে এই যুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। একজন মন্তব্য করলে আরেকজন পাল্টা মন্তব্য করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে বর্তমানে এই যুদ্ধ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও প্রচার শুরু হওয়ার পর সেটা ব্যাপক আকারে হতে পারে বলে সবার ধারণা। বাছাইয়ের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাফর  উল্যাহকে উদ্দেশ্য করে নিক্সন চৌধুরী একবার কথার বাণও ছুটিয়েছেন। ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নিক্সন চৌধুরী একবার শোকজও খেয়েছেন।

বিধি নিষেধে নীলফামারীতে থমকে আছে প্রচার 
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে ১৫ নভেম্বর। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে। রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন, সেদিন থেকে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ পাবেন। কিন্তু এর আগেই নীলফামারীর চারটি আসনে বেশ কিছু মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। প্রথম পর্যায়ে এসব প্রার্থীকে সাবধনতা অবলম্বনে কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এ জেলার সংশ্লিষ্টতা।

এতে বলা হয়েছে বিধি না মানলে প্রার্থী/সমর্থকের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলসহ নিবন্ধিত দলকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার করারও বিধান করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্টদের কঠোরতায় নীলফামারীর চারটি আসনের বৈধ ২৭ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের প্রচার প্রচার থামিয়ে দিয়েছেন। হাটবাজারে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চায়ের দোকানে বা আড্ডাখানায় আলাপ আলোচনা চললেও প্রার্থী ও প্রার্থীদের সমর্থক প্রচার থমকে গেছে।  বৈধ প্রার্থী জানান, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে তারা তাদের প্রচার প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন। তারা বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর আমরা ইসির নির্দেশ মেনে নির্বাচন প্রচারের জন্য মাঠে নামব। 
বুধবার বিকেলে নীলফামারীর চারটি আসনের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ জানান, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন যাতে কেউ না করে এ জন্য সকল বৈধ প্রার্থীকে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছে। সে হিসাবে মাঠে নজরদারি করা হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত বা মৌখিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উল্লেখ যে নীলফামারীর চারটি আসনে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ২৭ জন। তারা হলেন।

×