মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বসন্ত-বৈশাখে ভালবাসার অনুষঙ্গ হোক ফুল

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫
বসন্ত-বৈশাখে ভালবাসার  অনুষঙ্গ হোক ফুল
  • পান্থ আফজাল

বসন্ত শেষ হয়ে আসছে। বনে বনে তো বটেই, সকলের হৃদয় মন্দিরে রঙিন বসন্ত বাতাসের সুমিষ্ট ঘ্রাণ অনেক আগেই সাড়া ফেলেছে মহাসমারোহে। অন্যদিকে ভৈরব হরষে নতুন দিনের জয়গানে মুখরিত করতে আসছে বৈশাখ। চারদিকে উৎসব-আনন্দের আমেজ জেগেছে, যেন বসন্ত শেষে বৈশাখকে বরণ করে ঘরে তোলার জন্য। এমন মধুর বসন্তের মাঝামাঝি সময়েও ফুলে ফুলে, কোকিলের কুহু কুহু কুঞ্জরণের আবহে সমস্ত প্রকৃতি নতুনরূপে নিজেকে অনবরত সাজিয়ে চলেছে স্বমহিমায়। প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুষ্পপ্রেমীরাও নবগৈরিকে নিজেকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান কিংবা ভালবাসার বহির্প্রকাশের নিমিত্তে। প্রকৃতি থেকে শুরু করে সব জীবের মধ্যে বিরাজ করছে এখন প্রেমের বার্তা। ভালবাসা প্রকাশের দিন, চিরাচরিত বৈশাখে প্রেমিকরা মনমাতানো ও নয়নকাড়া ফুলেল সাজে নিজেকে রাঙায় ভিন্ন রঙে। ভালবাসার মানুষদের নিকট এই সময় যেন পুষ্পবন্দনায় শুধু ভালবাসা দেয়া-নেয়ার দিন। এই মধুর সময় তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণদের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে ...বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’...এমন গানের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায় প্রেমিক যুগলদের আকুলতায় বসন্তের আবহনে হাজার রকমের বর্ণিল ফুলের আনাগোনা। বাঙালীর হাতে আর বেশি সময় নেই। পয়লা বৈশাখ দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে। আপনি অবশ্যই চাইবেন সামনের বিশেষ দিনগুলোতে আপনাকে আকর্ষণীয় এবং পারফেক্ট লাগুক। বসন্ত-বৈশাখ মানেই প্রেমের মাস, প্রকৃতি সাজতে শুরু করে এক নতুনরূপে। তাই এই বসন্ত-বৈশাখকে সাথী করেই বিভিন্ন রঙিন ফুলে ফুলে আজই নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলুন। আর প্রতিদিনের ভাললাগা-ভালবাসায় ভিন্ন ধাঁচের ফুলকে বেছে নিন অনায়াসে ।

ফ্যাশনে ফুলের সাজ

ফুলের সাজ বলতেই অনেকে গয়না হিসেবে ফুলকে বেছে নেয়। সেক্ষেত্রে কানের দুল, গলায় মালা, মাথায় প্রিন্সেস ব্যান্ড বা হাতে মালা পেঁচিয়ে নেয়া যায়। চুলের একপাশে ক্লিপ দিয়ে তাজা ফুল গুঁজে দিতে যেন না ভুলে যান। শাড়ি পরলে শাড়ির সঙ্গে চুলে খোঁপা বা বেণিটাই বেশি ভাল লাগে। গাঁদা বা বেলী ফুলের মালা দিয়ে জড়িয়ে নিন আপনার বেণীটি। আবার ছোট ছোট ফুল বসিয়ে দিতে পারেন পুরো বেণীতে। খোঁপা করলে খোঁপার একপাশে দিতে পারেন বড় একটি ফুল, যেমন জারবেরা বা গোলাপ ইত্যাদি। আবার ফুলের মালা দিয়েও জড়িয়ে নিতে পারেন আপনার খোঁপাটি। তবে প্রাধান্য পাবে গাঁদাফুল, বেলি, গন্ধরাজ, গোলাপ, জারবেরা, গাঁজরা ইত্যাদি। বাসন্তী রঙের কারণে এই সময়ে গাঁদা ফুলের সাজকে সবাই বেশি পছন্দ করে।

সে যে কোন পুষ্পরাজি

এই বসন্ত-বৈশাখে তো বটেই, বছরের প্রায় সব সময়েই ফুল পাওয়া যাবে বিভিন্ন দোকানে। কি ফুল নেই এসব দোকানে? এখানে মিলবে গাঁদা, ভিন্ন রঙের দেশী-বিদেশী গোলাপ, রজনীগন্ধা, ক্যালেনডুলা, অর্কিড ফুল, বেলী, গন্ধরাজ, জারবেরা, গাঁজরার মালা, গ্লারিডিলাক্স ইত্যাদি।

উৎসবে-অনুষ্ঠানে ফুল

বিয়ে, জন্মদিন, পার্টি, কর্পোরেট মিটিং, উৎসব, অনুষ্ঠানে ফুলের চাহিদা ব্যাপক। গাড়ি সাজানো, স্টেজ সাজানো, বাসরঘর সাজানো, সেমিনার কক্ষ সাজাতে ফুলের ব্যবহার বলে শেষ করা যায় না! বিভিন অনুষ্ঠানে ফুলের তোড়া, ফুলের ঝুড়ি, ফুলের মালা সরবরাহ করতে ঢাকা শহরে প্রচুর ফুলের দোকান রয়েছে।

কোথায় কিনতে পারবেন ও দরদাম

ঢাকার শাহবাগ, কাঁটাবন, গুলশান, উত্তরা, মৌচাকসহ বিভিন্ন জায়গায় ফুল বিক্রি হয়। তবে শাহবাগ ও কাঁটাবনেই মূলত পুষ্পপ্রেমীরা বেশি ভিড় করে। এখানে মিলবে গাঁদার মালা ১০-৫০ টাকায়, ভিন্ন রঙের দেশী-বিদেশী গোলাপ ১০-২০ টাকায়, রজনীগন্ধা ৫-১৫ টাকায়, অর্কিড ফুল ২০০ টাকায়, বেলী ৮-১৫ টাকায়, গন্ধরাজ ১০-২০ টাকায়, জারবেরার মালা ১০ টাকায়, গাঁজরার মালা ১০ টাকায়, গ্লারিডিলাক্স ১০-৩০ টাকায় ইত্যাদি। এছাড়াও ফুল দিয়ে গাড়ি সাজানো ১,৫০০-৫০,০০০ টাকা, বাসরঘর ১,৫০০-৫০,০০০ টাকা, স্টেজ সাজানো ২৫,০০০-১,৫০,০০০ টাকা, ফুলের ঝুড়ি ২০০-২,০০০ টাকা, ফুলের তোড়া ১৫০-৬০০ টাকা, ফুলের মালা জোড়া ২০০-১০,০০০ টাকা দিয়ে অর্ডার দেয়া যাবে এসব দোকানে।

আশা করি, এবার বসন্ত-বৈশাখের রঙিন দিনে ফুলের সাজসজ্জায় কোন রকম অসুবিধা হবে না। বসন্তের জয়গান গেয়ে বার বার বলতে চাই,’আহা আজি এ বসন্তে! এত ফুল ফোটে...’ আর বৈশাখকে স্বাগত জানাই এই বলে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’

ছবি : দ্বীপ

মডেল : দ্বীপ ও তিন্নি

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৫

২৩/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: