কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নবীনের উচ্ছ্বাস

প্রকাশিত : ৮ মার্চ ২০১৫

ঋতু বদলের পালায় এখন চলছে বসন্তকাল। শীতের জরা-জীর্ণতা কাটিয়ে ¯িœগ্ধ সবুজ কচি কচি পাতায় ঋদ্ধ হয়ে উঠেছে বৃক্ষরাজি। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে নতুন কুঁড়ি ও ফুল। পলাশ, শিমুলের হাসিতে আগুন আগুন খেলা শুরু হয়েছে প্রকৃতিতে। কোকিলের কুহুতানে সবাইকে মাতাল করতে প্রকৃতিতে এসছে ঋতুরাজ বসন্তরানী। বসন্তের আগমনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন সেজেছে লাল, নীল, বেগুনী, হলুদ, গোলাপী, সাদা, খয়েরি রং এর নাম জানা না জানা সহস্র ফুলের সমাহার এবং বসন্তের মিষ্টি সুবাসে। চারদিকে কেমন একটা সাজ সাজ রব। বসন্তের এই সাজ সাজ রবে নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এমনই একদিন ভোরের আলোকরশ্মি ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আপন করে নেয় এক ঝাঁক স্বপ্ন বিলাসী সম্ভাবনাময় তারুণ্যকে। বসন্তের দক্ষিণা সমীরণের দোলায় দুলে ওঠে একরাশ স্বপ্ন। হাজারও স্বপ্ন লালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে স্বপ্নের সোপানের একটি ধাপ পার করতে পেরে তাদের চোখে-মুখে খেলা করছে সাফল্যের ঝিলিক। ক্যাস্পাস আলোকিত করে বেড়াতে শুরু করে কিছু স্বপ্নাতুর নয়ন। কৃষিতে উচ্চশিক্ষা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা শিক্ষার্থীদের চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ার প্রত্যয়। কৃষি খাতে নিজেকে উজাড় করে দেয়ার বাসনা মনে। নবীনদের স্বপ্নযাত্রায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো-বিজয় ’৭১, নদীর পাড়, কেআর মার্কেট, জব্বারের মোড়, টিএসসি। এদিকে ৬টি অনুষদে বর্ণিল আয়োজনে বরণ করে নেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন সদস্যদের।

উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতাম। নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আজ থেকে নিজের পরিচয় দিতে পারব। এর চাইতে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে। তার ওপর আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ভাবতেই গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের অনুভূতি প্রকাশ করছিল কৃষি অনুষদের নবীন শিক্ষার্থী লিরা ও কলি।

পত্রিকা পড়ে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখে জেনেছিলাম এই ক্যাম্পাসে আছে দেশের সর্ববৃহৎ কৃষি মিউজিয়াম, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র মৎস্য জাদুঘর, বিরল প্রজাতির গাছ-গাছালির বিশাল সংগ্রহ নিয়ে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত বোটানিক্যাল গার্ডেন, পৃথীবির দ্বিতীয় বৃহতম জার্মপ্লাজম সেন্টার, বিনা এবং স্বাদু পানির মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রথম দিনে নদীর পাড় ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছে বলে জানাল শাহেদ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করে নিজেকে নার্সারি ক্লাসের শিক্ষার্থী ভাবতে শুরু করছে অরণী। তার বক্তব্য, ক্লাসের চাপটা আর একটু কম হলে সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফটা আরও আনন্দদায়ক হতে পারত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আশা এক ঝাঁক তরুণের দখলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান আড্ডার স্থানগুলো।

কেআর মার্কেট, নদীর পাড়, জব্বারের মোড়, বিজয় ’৭১, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরে থেমে থেমে চলছে নবীন শিক্ষার্থীদের মজার আড্ডা, গান, খুনসুটি ও নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব। আড্ডায় প্রতিদিনই নতুন বন্ধু পাচ্ছে বলে খুবই খুশি সুদূর বরিশাল থেকে আগত আকিফ ও তরিকুল।

বসন্তের এই সমারোহের মধ্যে এক ঝাঁক নবীন শিক্ষার্থী আগমন ক্যাম্পাসকে পূর্ণতা দিয়ে সাজিয়ে অপরূপ সুন্দর করে। চিরযৌবনা ব্রহ্মপুত্রের জলের জলকলরব, চিরহরিৎ গাছের সারি, আম বাগান, লিচু বাগান বা পিচঢালা রাস্তা, শত রকমের ফুল, আর বৃক্ষমালায় সাজানো বিশ্ববিদ্যালয়ের বারোশত একরের এক সুবিশাল ক্যাম্পাস। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ফুল, পাতা, পাখি আর গাছপালা সাক্ষী হয়ে থাকবে নবীনদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বছরের প্রতিটি মুহূর্তের।

মোফাজ্জল হোসেন মায়া

প্রকাশিত : ৮ মার্চ ২০১৫

০৮/০৩/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: