ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দাবি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ১৬:২৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২; আপডেট: ১৯:৪৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দাবি শিক্ষার্থীদের

র‌্যালিতে স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

সড়কে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ১ শতাংশ জায়গা নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে ২.২০ জন। অপর দিকে বাস ২.০০ শতাংশ জায়গা নিয়ে যাত্রী বহন করে ৪৪.২০ জন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় অধিক জায়গা দখল করে কম সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে এবং যানজট সৃষ্টি করে। ঢাকা শহরে নানা প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও গণপরিবহনে প্রায় ৯০ শতাংশ যাতায়াত সংঘটিত হয়ে থাকে। দূষণ, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, জ্বালানী তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটা, সাইকেল ও গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।  

বৃহস্পতিবার রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, আলী হোসেন বালিকা বিদ্যালয়, ছায়াতল বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ, কারফ্রি সিটিস এলায়েন্স বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সম্মিলিত উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২২ পালন উপলক্ষে আয়োজিত জ্বালানী ব্যবহার ও যানজট নিয়ন্ত্রন করি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত রাখি” শীর্ষক সচেতনতামূলক র‌্যালীতে বক্তারা এ কথা বলেন।

ধানমন্ডি ২৭ এর মোড় থেকে আবাহনী খেলার মাঠ পর্যন্ত র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। র‌্যালিতে পাঁচটি স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকন বলেন, সংশোধিত পরিবহন কৌশল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ৭৬ শতাংশ ট্রিপ দুই কিলোমিটারের মধ্যে সংঘটিত হয়। হেঁটে যাতায়াতের আনন্দদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে অনেকেই হাঁটতে উৎসাহিত হবেন এবং দৈনন্দিন অনেক কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। পরিবেশ দূষণ, যানজট, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানী তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে শহরে হাঁটার পরিবেশ সৃষ্টি করা খুবই জরুরি। বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই সংকট আরও বাড়বে। নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং হেঁটে ও সাইকেলে যাতায়াতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জ্বালানী সংকট মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য  ভূমিকা পালন সম্ভব।  

বক্তারা বলেন, নগরবিদ ইয়ান জ্যাকবস ‘দি ডেথ এন্ড লাইফ অব গ্রেট আমেরিকান সিটিস’ বইতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রথম ধারণা প্রদান করেন। এরপর ১৯৬২ সাল থেকে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে শুধুমাত্র পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সত্তরের দশকের জ্বালানী সংকটের সময় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করে। বর্তমানে পৃথিবীর ৪০০০ এর অধিক শহরে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়।

বক্তারা আরো বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ঢাকায় বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালিত হয়ে আসছে। ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নের্তৃত্বে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। ২০১৬ থেকে দিবসটি পালিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন স্থায়ী উদ্যোগ গৃহীত হয়নি। এমতাবস্থায় দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা এবং কিছু সড়কে সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করে পথচারী চলাচল ও সামাজিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
 
 

কাওসার রহমান