ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

তবু নদী কথা বলে না

জাভেদ ইকবাল

প্রকাশিত: ২১:২৯, ১০ নভেম্বর ২০২২

তবু নদী কথা বলে না

নদী কথা বলে না

সকাল সাড়ে আটটা, অফিস আওয়ার। সিটি বাস শাহবাগ মোড়ে রেডলাইটের জ্যামে আটকে গেল। প্রতিদিনের মতো চোখ চলে  গেল আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে, ফাস্ট ফুুড দোকানে মিষ্টির  ট্রে ধোয়ার দিকে। ছেলেটা খুব অল্প পানি খরচ করে, কায়দা করে নিখুঁতভাবে  ট্রে  ধোয়। অনেকে নেমে পড়ছে, বাস কিছুটা খালি হতেই আরাম করে বসার চেষ্টা করি। দাঁড়ানো মানুষের চাপে বাঁয়ে বেঁকে বসে থাকতে হয়েছিল ঘণ্টাখানেক, ঘাড়ব্যথা করছে। পাশে দাঁড়ানো একজন হঠাৎ ধপ করে বাসের মেঝেতে আছড়ে পড়ে গেল। কন্ডাক্টর আর আমরা ক’জন মিলে ধরাধরি করে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দোকানের দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসানোর চেষ্টা করতে থাকি। তার মাথা থেকে ব্লিডিং হচ্ছে। কন্ডাক্টর সময় নষ্ট না করে বাসে উঠে ছেড়ে দিল। এক ভদ্রলোক খালি সিএনজি পেয়ে থামিয়ে আমাকে বলল, ভাই একটু ধরতে পারবেন?
আমরা তাকে ধরে ভেতরে বসালাম। উনি আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে আবার অনুরোধ করলেন, একটু যেতে পারবেন আমাদের সঙ্গে? কাছেই, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিতে? নামিয়ে দিলেই হবে।
আমি ইতস্তত করে হঠাৎ পেছনের পকেটে হাত দিয়ে দেখি মানিব্যাগটা নেই, মোবাইলটাও! আমাকে পাগলের মতো পকেট হাতড়াতে দেখে লোকটা বলল, আপনি চলেন মেডিক্যাল পর্যন্ত। আপনার ভাড়া আমি দিয়ে দেব, এই সিএনজি নিয়েই অফিসে চলে যাবেন?
বিরাট বিপদে পড়লাম।
একে তো অফিস লেট, ইম্পরট্যান্ট মিটিং ছিল। তার ওপর মানিব্যাগ-মোবাইল দুটোই গেছে। সঙ্গে সাড়ে তিন হাজার ক্যাশ টাকা। দেরি না করে তাদের সঙ্গে আমিও উঠে পড়লাম সিএনজিতে। অজ্ঞান মানুষটাকে নিয়ে উনার একার পক্ষে যাওয়া আসলেই খুব কষ্টকর হতো। সঙ্গে থাকলে মনে বল পাবে। কাল অফিসে কথা দিয়েছিলাম আর লেট করব না। ভদ্রলোকের কাছ থেকে মোবাইলটা চেয়ে নিয়ে আমার ব্যাংকার বন্ধুকে ফোন করে এটিএম, ক্রেডিট কার্ড ব্লক করে দিতে বললাম। বিশ মিনিটে আমরা হাসপাতাল ইমার্জেন্সিতে পৌঁছে গেলাম। মাথায় ভীষণ চোট লেগেছে। এমনিতেই হাড্ডিসার দেহ, তার ওপর ব্লিডিং হয়ে বেচারা খুব কাহিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রোগীর কে?
- কেউ না
- থাকবেন কিছুক্ষণ এখানে?
- জি, আপনি এখন চলে যেতে পারেন   
- এত দায়িত্ব নিচ্ছেন যে?
- [ভদ্রলোক হেসে ফেললেন] আপনি কি অফিসে যাচ্ছেন আজকে?
- হ্যাঁ
- তা হলে যান। আমাকে রক্ত জোগাড় করতে হবে, তার আত্মীয়স্বজন খুঁজে বাড়িতে খবর পাঠাতে হবে।
- রক্তের গ্রুপ কী?
- ‘এ’ পজিটিভ।
আমার রক্তের গ্রুপও তাই। রক্ত দেব কি দেব না তাই নিয়ে ভাবছি। কারণ কাল আমাদের অফিসের বার্ষিক পিকনিক। যমুনা রিসোর্টে বুকিং দেওয়া হয়েছে। গুরু দায়িত্ব এসে পড়েছে, আর অনেক খাটাখাটুনির কাজ সামনে। ওদিকে বউ-বাচ্চারা খুব এক্সসাইটেড! সবাই মোটামুটি রেডি কালকের জন্য। কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করে বসে রক্তের গ্রুপ? না কি উনি আমার চেহারা দেখে কিছুটা আন্দাজ করে ফেলেছেন? ভদ্রলোক বলেই হয়তো আমার গ্রুপ জিজ্ঞেস করছেন না। উনি মানিব্যাগ খুলে টাকা বের করে আমার হাতে দিতে যাবেন, ঠিক ওই মুহূর্তে নার্স এসে বলল, রক্ত পেয়েছেন?
- না, খুঁজছি
- ইমিডিয়েটলি দরকার। তা না হলে প্রফেশনালদের ডাকতে হবে। এদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়া রিস্কের। বেশিরভাগ নেশাখোর। উপায় না থাকলে বলবেন, অফিস ক্লার্কের কাছে তাদের ফোন নম্বর আছে, প্রয়োজন হলে নেবেন। প্যাশেন্টের এমনিতেই মারাত্মক অ্যানিমিয়া। প্রেশার নেমে যাচ্ছে।
আমি বলেই ফেললাম, আমার রক্ত নেন।
রক্ত দিয়ে আমরা দুজন মেডিক্যাল কলেজের মেইন গেটের পাশে বসে থাকলাম। ভদ্রলোক একটা হোটেলে ঢুকে চা-নাশতা খাওয়ালেন। বললেন, আপনি তা হলে চলে যান। অনেক তো করলেন
- আপনি?
- দেখি। স্বজনদের খোঁজ অবশ্য পুলিশই বের করে ফেলবে। আঙ্গুুলের ছাপ থাকার এই সুবিধা। ততক্ষণ কেউ না আসা পর্যন্ত থাকব।
উনি এমনভাবে জোড় গলায় বললেন ‘থাকব’, আমি আর কিছু বলার পেলাম না। আমি নিশ্চিত, উনি যেটুকু হেল্প করবেন, আপন ভাইয়ের মতোই করবেন। ঘড়িতে চেয়ে দেখি দুপুর বারোটা বাজে। অফিসে ফোন করে ঘটনা বলে ছুটি নিয়ে নিলাম। মাথা ঝিমঝিম করছে, আরও আধা ঘণ্টা থেকেই যাই ভদ্রলোকের সঙ্গে। আমার ব্লাড প্রেশারটা এডজাস্ট হোক।
জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনার নাম?
- গিয়াস
- আমি নজরুল (বলে হাত বাড়ালাম)। অচেনা মানুষটাকে এভাবে আপনার হেল্প করা দেখে আসলে আমি খুব অবাক হচ্ছি। কারণটা যদি বলতেন?
ভদ্রলোক বললেন, নজরুল ভাই, আপনি যদি আর পাঁচটা মিনিট এখানে থাকেন, বলতে পারি কেন আমি মানুষটাকে হেল্প করার চেষ্টা করছি। সব সময় অবশ্য করি না, সাধ্যে কুলালে। আমার মাথায় অনেক বড় ঋণের বোঝা।
ভদ্রলোক বলা শুরু করলেন-
পনেরো বছর আগের ঘটনা। ঈদের আগে ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম, মেহেরপুরে। বাস ভর্তি মানুষে ঠাসা। কুমারখালীতে বাস আসার পর একটা পুলের ওপর আরেক বাসকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের বাস রেলিং ভেঙে সোজা পনেরো ফুট নিচে পানিতে পড়ে যায়। বাসের বেশিরভাগ অংশ পানিতে ডুবে যায়, শুধু পেছনটা পানির উপর সামান্য বের হয়েছিল। বেশিরভাগ মানুষ সাঁতরিয়ে তীরে ওঠে। আমি মারাত্মক আহত হয়ে পানির নিচেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম
- তারপর!
- তারপর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে শুনেছিলাম আরেক যাত্রী আমাকে পানি থেকে টেনে তুলে আনেন
- বলেন কী!
- আমার বাঁচার কথা ছিল না। চারদিন হাসপাতালে কোমায় ছিলাম। ডাক্তাররা প্রথমে ভেবেছিল আমি মারা গেছি। ওই এক্সিডেন্টে মোট নয় জন মারা যায়। অধিকাংশই ডুবে।
- অবাক করা ব্যাপার!
- এর পর আমি একদম পাল্টে যাই। আমার তখন ছিল দুই বছরের বিয়ে করা বউ, পেটে ছয় মাসের বাচ্চা। আমাকে যে বাঁচিয়েছিল, তাকে আর খুঁজে পাইনি। অনেক খুঁজেছি, পেপার ঘেটেছি। নিজের জীবন বাজি রেখে লোকটা আমাকে বাঁচিয়ে দিল, খবরের কাগজেও ঘটনা পড়েছি। আমি বসেছিলাম বাসের একদম সামনে। মানুষটার নামটা শুধু জেনেছিলাম, আলাউদ্দীন। পরে বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম ভদ্রলোক মেহেরপুর যাচ্ছিলেন। অনেক খুঁজেছি ওই নামে কেউ চেনে কি না, এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি। মনে হয় লোকটা মানুষকে বাঁচিয়ে সেটার ক্রেডিট নিতে চান নেই। তবে হাসপাতালের একজন বলেছিলেন, যে লোকটা আমাকে বাঁচিয়েছে, তার একটা আঙ্গুল থেঁতলে গিয়েছিল, কপালে বেশ কয়েকটা সেলাইও লেগেছিল। পায়ের গোড়ালিও নাকি মারাত্মক জখম হয়েছিল। তারপর থেকে আলাউদ্দীন নামের কাউকে পেলেই আমি এগিয়ে যাই, কথা বলি। পুলিশ হাসপাতালে এসে আঙ্গুুলের ছাপ নিয়ে জানালেন উনার নামও আলাউদ্দীন।
ভদ্রলোক এখনো ওয়ার্ডে শোয়া। জ্ঞান ফেরেনি। কেবিনে সিট পায়নি। সব কেবিন ভরা। আজ রাতে একটা খালি হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে। সেটার জন্য গিয়াস ভাই দৌড়াদৌড়ি করছেন। আমার কাছে এসে ফিসফিসিয়ে, ছলো-ছলো চোখে বললেন, নজরুল ভাই! ভদ্রলোকের তর্জনী আঙ্গুলটা অর্ধেক কাটা। পায়ের গোড়ালিতেও মারাত্মক জখমের চিহ্ন। কিন্তু কপালে ব্যান্ডেজ থাকায় পুরোনো ক্ষত আছে কি না বোঝা যাচ্ছে না।
- বলেন কী! তা হলে কি সেই আলাউদ্দীন?
- সম্ভাবনা আছে। বাড়িও মেহেরপুর। শুধু কপালের দাগটা দেখতে পেলেই শিওর হওয়া যেত। বয়সও ষাটের ওপরে।
আমরা বারান্দায় বসেছিলাম। হঠাৎ একজন নার্স দৌড়ে গেল ডাক্তার ডাকতে। ডাক্তার এসে আলাউদ্দীনের পালস চেক করে সিপিআর দিতে লাগল। ডাক্তার দুই তালু এক করে রোগীর বুকের মাঝখানে দিয়ে ঠেসে ঠেসে হৃৎপি- চালু করার চেষ্টা করতে লাগল। বাঁচানোর কী প্রচেষ্টা! যেন কোনোমতেই ইহকাল থেকে পরকালের সাঁকো পার হতে দেবে না। ডাক্তারের ধৈর্য দেখে আমি অবাক, প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে অবিরাম সিপিআর দিয়েই যাচ্ছে। আশপাশে আর কোনো ডাক্তার নেই? থাকলে ভদ্রলোক একটু ব্রেক পেতেন। ওদিকে গিয়াস ভাই এরই মধ্যে আছরের নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামাজ শেষ করে দুই হাত তুলে কেঁপে কেঁপে কাঁদতে লাগলেন। উনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দিচ্ছে, কী পরিমাণ আশা দিয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দুই হাত পেতেছেন। একজন অপিরিচিত মানুষের প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন!
হঠাৎ ডাক্তার পালস চেক করে, ঘাড়ের রগ চেক করে পাশে রাখা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে হাঁপাতে লাগলেন। কপালে হাত রেখে, চোখ ঢেকে কনুইটা চেয়ারের হাতলে ঠেস দিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলেন। ডাক্তারের বয়স খুব অল্প, কাঁদছেন কিনা বোঝা যাচ্ছে না। কাঁদার কথাও নয়, এসবে তারা অভ্যস্ত। একজন নার্স সাদা বিছানার চাদরে ঢেকে দিল মাথা। সব শেষ। ডাক্তার হেরে গেল, আমরাও হেরে গেলাম।
মানুষটার জন্য কাঁদবার কাউকে পাওয়া গেল না। শুধু গিয়াস ভাই ছাড়া। উনি বেডের পাশে মৃতের একটা হাত ধরে মিনিট দশেক চুপচাপ বিছানার পাশে বসে থাকলেন। মুহূর্তে সব ঘটে গেল, ঠিক কালবৈশাখী ঝড়ের মতো, সব ল-ভ-। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে শুধু দেখে গেলাম। এগিয়ে গেলাম মৃতদেহটার কাছে। গিয়াস ভাই মৃতের ডান হাতটা বের করে আমাকে দেখালেন। আমরা তার কপালের ব্যান্ডেজ সরিয়ে খুঁজে পেলাম ভ্রুর ওপর বেশ খানিকটা পুরোনো কাটা দাগের রেখা। পায়ের গোড়ালিতে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত।
ওই এক্সিডেন্টের পর থেকে আমি জীবনকে ভালোবাসতে শিখেছি, মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছি। আমি আর কোনো মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি না। কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।
সন্ধ্যার আগে আগে আমরা অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে লাশ নিয়ে রওনা দেই মেহেরপুরের উদ্দেশে। ভদ্রলোক আমাকে যেতে নিষেধ করলেও আমি সঙ্গে থাকলাম। লোকটার সান্নিধ্য চাই, দেখতে চাই সে ওখানে গিয়ে কী করে, কিভাবে উনার ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করার চেষ্টা করে।
রাত সাড়ে এগারোটার মধ্যে লাশ মেহেরপুর নিয়ে যাওয়া হলো, গ্রামের বাড়িতে। বাড়িতে তার অন্ধ বউ আর এক ছেলে থাকে। আত্মীয়স্বজন খুব কম। ছেলে রিক্সা-ভ্যানচালক। শুনলাম ভদ্রলোকের একটা ইলেক্ট্রনিক্সের ছাপড়া দোকান ছিল। পুরোনো মাইক, এমপি ফায়ার, টেলিভশন, রেডিও মেকানিক। ঘটনার ওইদিন গুলিস্তান গিয়েছিলেন পাইকারি জিনিস কিনতে। দারিদ্র্যতার ছোঁয়া বাড়ির কোনাকাঞ্চিতে। বাঁশের বেড়া দেওয়া এক রুমের ছোট্ট ভাঙাচোরা ঘর, সামনে এক চিলতে উঠোন। গিয়াস ভাই কয়েক এতিমের সঙ্গে কোরান খতম দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। এক ফাঁকে আমার কাছে এসে বললেন, নজরুল ভাই, আপনি ঢাকায় চলে যান।
- আপনি?
- আমি থাকব। সকালে লাশ দাফন করব। তার মেয়ে বরিশাল থেকে রওনা দিয়েছে। হয়তো আরও দু’দিন আমাকে থাকতে হবে। অনেক কাজ বাকি
- আমিও থাকতে চাই
- এখানে আপনার থাকার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আমি কোরান খতম না করে আর উঠব না। আপনি অনেক করলেন ভাই, আপনার কাছে আমরা সবাই ঋণী
- ছিঃ ছিঃ, আমি কিচ্ছু করিনি। করেছেন আপনি
- আপনার বাসের টিকিট হয়ে গেছে, সাড়ে বারোটার নাইট কোচে ঢাকা চলে যাবেন।
পাশের একজনকে ইশারা করে আমাকে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে বললেন।
আমি ভরা পূর্ণিমায় মেঠো পথ ধরে হাঁটতে থাকি। চারদিকে আলোর বন্যা বয়ে যাচ্ছে। পাশের তরুণ যুবকের হাতে ফ্ল্যাশ লাইট, শুধু শুধু জ্বালিয়ে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছে। ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাকি পিপোলটি, আকন্দের ঝোপে ঝিকমিক করছে; বাতাসে উড়তে থাকা ঝকমকে জরির মতো। কোনো কোনো জোনাকির ঝাঁক একই ছন্দে, একসঙ্গে জ্বলছে-নিভছে! আকাশে পরিযায়ী হাঁসের ঝাঁক। জীবিকার তাগিদে কত শত, হাজার মাইল দূরে চলে যাচ্ছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে কোথা থেকে কোথায় এসে নতুন এক জগতের সন্ধান পেলাম।

নতুন মানুষের সন্ধান, পেলাম জীবনের নতুন অর্থ। আমরা যে আসলেই এক মহাশক্তির ইশারায় চলছি, সে ধারণা মাঝে মধ্যে আরও অটুট হয়। কাউকে জিজ্ঞেস করার কিছু নেই, ভবিষ্যৎ আমাদের নাগালের বাইরে। শুধু টাইট হয়ে বসে থাকা।
মরা বাড়িতে আসলে সব সময় একটা উপলব্ধি এসে ভর করে, আমাকেও একদিন চলে যেতে হবে। কিন্তু ক’দিনই বা সেটা মনে থাকে? হয়তো আলাউদ্দীনের চেয়েও আরও ভয়াবহ বা করুন পরিণতিও হতে পারে আমার, কে জানে! এ ক্ষেত্রে আলাউদ্দীন অনেক ভাগ্যবান। তীব্র ভালোবাসায় সমাধিত হওয়ার ভাগ্য ক’জনের ভাগ্যেই বা জোটে?
কি অপূর্ব জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক!

monarchmart
monarchmart